কলাম

একটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি ও গণহত্যার ইতিবৃত্ত

আ. ক. ম মোজাম্মেল হক : যাঁর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না, তিনি আর কেউ নন মহান নেতা, শিক্ষক, মহামানব, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশকে স্বাধীন করার কথা তিনি ভাবতে শুরু করেন পাকিস্তান সৃষ্টিলগ্ন থেকেই। যে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্রলীগের কাউন্সিলর হিসেবে এই পূর্ববঙ্গে চারণের বেশে তাঁর রাজনৈতিক গুরু গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সফরসঙ্গী হিসেবে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং পাকিস্তানের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে রেখেছেন অনন্য ভূমিকা, সেই পাকিস্তানই বাঙালির মায়ের ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে। তখনই সেদিনের তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান বুঝতে পেরেছিলেন যে, পাকিস্তান সৃষ্টির মাধ্যমে কেবল ইংরেজ প্রভুর পরিবর্তে পাঞ্জাবি প্রভু এসেছে এবং ইংরেজ শোষকের পরিবর্তে পাঞ্জাবি শোষকরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। কিন্তু যে বাঙালিরা পাকিস্তান সৃষ্টি করেছে তারা পরাধীনই রয়ে গেল।
মজার ব্যাপার হলো, যারা এখন পাকিস্তানি তারা ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটই কংগ্রেসের পক্ষে দিয়েছিল অর্থাৎ পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল আর বাঙালিরা মুসলিম লীগের পক্ষে ভোট দিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। দূরদর্শী এই নেতা ১৯৪৮ সালেই বুঝেছিলেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যেকোনো মূল্যেই হোক বাঙালিকে শোষণমুক্ত করতে হবে এবং বাঙালির জন্য একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে হবে। যেই চিন্তা সেই কাজে হাত দিয়ে প্রথমে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্ম দেন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য আন্দোলনের সময় রাজপথ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান এবং ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার সময় জেলখানা থেকেই কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জেলখানা থেকে বের হয়ে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেই আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করেন। ১৯৫৪ সালে হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী ও তরুণ নেতা শেখ মুজিবের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্য লাভ করে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা বাহিনীর মদদে নারায়ণগঞ্জে আদমজী জুট মিলে বাঙালি-বিহারি দাঙা বাধিয়ে ‘৯২ (ক)’ ধারা জারি করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করে এবং বঙ্গবন্ধুকে মন্ত্রীর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে জেলখানায় নিয়ে যায়। ১৯৫৬-৫৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বঙ্গবন্ধু তাঁর বক্তব্যে বারবার পাকিস্তানিদের হুঁশিয়ার করেন এবং দৃঢ়কণ্ঠে বাঙালির ওপর নির্যাতন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেন। বাঙালির ওপর শোষণ ও বৈষম্য বন্ধ না করলে বাঙালিরা আলাদাভাবে ভাবতে ও সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বলেও পাকিস্তান সংসদে উল্লেখ করেন।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয় এবং আওয়ামী লীগের জয়লাভ করার সম্ভাবনা বুঝে পাকিস্তানের কায়েমি স্বার্থবাদীরা সামরিক শাসন জারি করে বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করার ব্যবস্থা করে এবং বঙ্গবন্ধুসহ অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে জেলে আটকে রাখে।
১৯৬২ সালে বঙ্গবন্ধু জেল থেকে বের হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ পুনরায় পুনর্গঠন শুরু করেন। ছাত্রলীগের মাধ্যমে স্বাধীনতার নিউকিয়াস গঠন করে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন এবং একই লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে বাঙালির বাঁচার দাবি ৬ দফা দিয়ে বাঙালিকে প্রকারান্তরে স্বাধীনতায় উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে গ্রেপ্তারের প্রায় ৩ বছর পর চিরতরে বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ স্তব্ধ করার জন্য তথাকথিত ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলাতে পাকিস্তানিরা চূড়ান্ত ব্যবস্থা করে। বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির কাষ্ঠ থেকে মুক্ত করে ১০ লক্ষাধিক জনগণের সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন। পাকিস্তানের তথাকথিত লৌহমানব ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর পাক সেনাপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৭০ সালে ইয়াহিয়া খান লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক (এলএফও) মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার শর্তে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে যাওয়ার সম্মতি জানান। আমরা ছাত্রলীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এলএফও মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রবল আপত্তি উত্থাপন করলে বঙ্গবন্ধু আমাদের ডেকে বলেন যে, ‘এই নির্বাচন ক্ষমতায় যাওয়ার নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনকে স্বাধীনতার পক্ষে রেফারেন্ডাম হিসেবে গণ্য করে কাজ করে যাও। জনসভায় সুস্পষ্টভাবে বলবে ৬ দফা না মেনে নিলে ১ দফার (অর্থাৎ স্বাধীনতা) আন্দোলন হবে। নির্বাচনকে জনমত গঠনের সর্বোত্তম সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। বাঙালির নেতা কে হবে তাও নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। বাঙালিরা আমার পক্ষে রায় দিয়ে কিভাবে এলএফও লাথি মেরে বুড়িগঙ্গা পার করে সিন্ধু নদীতে ফেলে দিতে হবে, তা আমার জানা আছে। স্বাধীনতাই আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য। আমার ওপর বিশ্বাস রেখে কাজ করে যাও। আমি বেঈমান হয়ে মরতে চাই না, দেশকে স্বাধীন করেই মাথা উঁচু করে বাঙালির ইজ্জত রক্ষা করতে চাই’।
এলএফও-এর মূল কথা ছিল নির্বাচনে প্রচারকালে আঞ্চলিকতা বা বৈষম্যের কথা বলা যাবে না এবং ১৮০ দিনের মধ্যে পাকিস্তানের সংবিধান রচনা করতে হবে। ব্যর্থ হলে আপনা-আপনি সংসদ বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ পাক সেনাদের ধারণা ছিল কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারবে না। ১৮০ দিনে সংবিধানও রচনা করতে পারবে না। তাহলে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর সমস্ত দোষ চাপিয়ে সামরিক শাসনকেই স্থায়ী করতে পারবে।
পাকিস্তানিদের জন্য বিধি হলো বাম। তাদের সমস্ত ধারণা ও গোপনীয় রিপোর্ট ভুল প্রমাণিত করে বাঙালি জাতি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে বাংলার ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন উপহার দিয়ে বাঙালি জাতির একক নেতা এবং পাকিস্তানের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত করে। জনগণের এই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় রায়ই হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ ঘোষণা করার মূল ভিত্তি।
১৯৭০-এর ডিসেম্বর মাসে বা ১৯৭১-এর জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ মাসেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় তারা বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না তা আর বুঝতে বাকি থাকেনি। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা জাতি গেরিলা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে।
১৯ মার্চ ১৯৭১ ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবের নেতৃত্বে পাক হানাদার বাহিনী দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার জন্য জয়দেবপুর যায়। এই সংবাদ পাওয়ার পর জয়দেবপুরের (গাজীপুরের) হাজার হাজার বীর জনতা আমার নেতৃত্বে যে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল তার উদ্যোগে ১টি স্টেনগান ও ৫টি অটোমেটিক রাইফেল ও দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জাহান জেবকে প্রতিহত করে। যার ফলে তারা দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করতে পারেনি।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা না দিয়ে ভিতরে ভিতরে বাঙালিদের আক্রমণ ও নিশ্চিহ্ন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। বাঙালিদের স্বাধিকারের দাবি মেনে নেয়ার পরিবর্তে ২৫ মার্চ কালরাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিজের দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ গোষণা করে। পিলখানা, রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কমলাপুর রেল স্টেশন এবং বস্তির ঘুমন্ত নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও তরুণ নাগরিকের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিরস্ত ঘুমন্ত বাঙালির ওপর চালায় বর্বরোচিত ও নারকীয় হত্যাকা-।
অন্য যেকোনো দিন অপেক্ষা ২৫ মার্চের ভয়ঙ্কর রাত শুধু বাঙালি জাতির কাছেই নয়, বিশ্বের গণহত্যার ইতিহাসেও এক নিকৃষ্টতম উদাহরণ। এই জঘন্য হত্যাকা- বিশ্ব-মানবতাকে আঘাত করে এবং সারা বিশ্ব প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ, বিশ্বখ্যত কবি, শিল্পী, সাংবাদিক, দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবী একাত্ম হন। বিদেশি নির্ভীক সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকায় পাক-বাহিনী পরিচালিত ২৫ মার্চের নারকীয় গণহত্যার সংবাদ ও পাশবিকতার বিবরণ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দীর্ঘ ৯ মাস তাদের স্থানীয় দোসর জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, রাজাকার, আল বদর, আলশামস ও শান্তি বাহিনীর সহায়তায় বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ত্রিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা এবং দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করে।
২৫ মার্চ কালরাত্রিতে গণহত্যা চালানোই পাক-হানাদার বাহিনীর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না, তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিসত্তাকে নির্মূল করা। বাংলাদেশে পরিচালিত এই নৃশংস ও বর্বরোচিত গণহত্যার স্বরূপ অধিকতর বীভৎস। এ হত্যাকা- বিশ্ব-সম্প্রদায়ের গোচর-বহির্ভূত রাখার লক্ষ্যে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদেরও ২৫ মার্চ রাতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আটক রাখা হয় এবং ২৬ মার্চ সকালে তাঁদেরকে বিদেশ প্রত্যাবর্তনে বাধ্য করা হয়।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে সংঘটিত বর্বরোচিত ও পৈশাচিক গণহত্যাকে স্মরণ করে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করার প্রস্তাবটি জাতীয় সংসদের ১১ মার্চ ২০১৭-এর অধিবেশনে আলোচনার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং সর্বোপরি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ২৫ মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ সুবিদিত রাখার দায়বদ্ধতা সকলের রয়েছে। এই লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদেও বিষয়টি গৃহীত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো এবার গণহত্যা দিবস পালন করেছে। এ উদ্যোগ বাংলাদেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। ‘গণহত্যা দিবস’ এবং গণহত্যা সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্ববাসীকে অবহিত ও সচেতন করতে এবং গণহত্যাকারীদের প্রতি ঘৃণা জানাতে এবং গণহত্যার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন বিশ্বের বুকে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।