প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার প্রত্যয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ উদযাপন : মঙ্গল শোভাযাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে বর্ষবরণে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ

মেজবাহউদ্দিন সাকিল : পহেলা বৈশাখ যেন বাঙালির উৎসবের লগ্ন। এই উৎসব এবার আরো পূর্ণতা পেয়েছে বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে। পাশাপাশি গত বছর থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পহেলা বৈশাখে উৎসব ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত বর্ষবরণের উৎসবকে দেয় ভিন্ন মাত্রা। গতবারের মতো এবারো পহেলা বৈশাখের আগেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ ভাতা পান। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তাদের কর্মীদের উৎসব ভাতা প্রদান করে। ধর্মান্ধরা বৈশাখী ভাতা প্রদানকে বাড়াবাড়ি বললেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে স্পষ্ট বলে দেন, বৈশাখ উদযাপনে কোনো ধর্মীয় বাধা-নিষেধ নেই। আবার এও বলেন, মুক্তচিন্তার নামে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া সম্পূর্ণ বিকৃত ও নোংরা রুচির পরিচায়ক। পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ খাওয়া নিয়ে বাড়াবাড়ি না করারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় পহেলা বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। সকাল ৯টার সময় এ শোভাযাত্রা শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্র ছিল ব্যতিক্রম। কারণ জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)-এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বাংলা নববর্ষের অন্যতম অনুষঙ্গ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। ইউনেস্কোর নির্বাচিত ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় বিশ্বের ঐতিহ্য রক্ষায় আন্তঃদেশীয় কমিটির একাদশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ইউনেস্কো। মঙ্গল শোভাযাত্রা ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটিস’-এর অন্তর্ভুক্ত হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ইউনেস্কো বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘোষণার পর এবারই প্রথম এ শোভাযাত্রা বের করা হলো।
আনন্দালোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর প্রতিপাদ্যে অকল্যাণ ও অশুভকে রুখে দেয়ার প্রত্যয়ে রমনার বটমূলে বর্ষবরণের প্রভাতী অনুষ্ঠান শেষে বের হয় ২৯তম মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় গীতও রবি ঠাকুরের গান, ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’। বিভিন্ন লোকজ অনুষঙ্গ আর বিশাল আকৃতির সব বাহন নিয়ে এ শোভাযাত্রা চারুকলার সামনে থেকে বের হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল (সাবেক রূপসী বাংলা) হোটেল চত্বর ঘুরে টিএসসি প্রদণি করে পুনরায় চারুকলার সামনে এসে শেষ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের এ বর্ণিল আয়োজনটি রঙে-ঢঙে পায় ভিন্ন এক মাত্রা। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহের বিষয়। পাশাপাশি দেশে রয়েছে জঙ্গিবাদের চোখ রাঙানি। তাই এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপন হচ্ছে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় শোভা পেয়েছে সর্বমোট ১২টি শিল্প কাঠামো। মূল শিল্প কাঠামোটি হচ্ছে ২৫ ফুট উচ্চতার সূর্যের মুখ। যার একপ্রান্তে আছে হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী আর অন্যদিকে ছিল সূর্যের বিপরীতে বীভৎস কদাকার মুখ। শুভ ও অশুভ মানুষের অন্তনির্হিত এই দুই রূপ তুলে ধরা হয়েছে। সে সঙ্গে ছোট ছোট আরো ১৬টি হাস্যোজ্জ্বল সূর্য মুখও ছিল।
এবারের শোভাযাত্রা আবার ফিরে এসেছে সমুদ্রবিজয়ের স্মারক হিসেবে তৈরি করা ময়ূরপঙ্খী নাও। এই শিল্প-কাঠামোটির উচ্চতা ২৫ ফুট। প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রায় ঠাঁই পাওয়া হাতি, ঘোড়া, বাঘ ও টেপা পুতুলও স্বরূপে ফিরেছে এবারের আয়োজনে। এছাড়া বিশাল কদাকার মুখের এক দানবের শিল্প কাঠামোও নির্মিত হয়েছে, যা দিয়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের কুৎসিত মুখটি আবারো তুলে ধরা হয়েছে জাতির সামনে। এছাড়া শোভাযাত্রায় শোভা পেয়েছে রাজা-রানির মুখোশসহ নানা অনুষঙ্গ। এ বছর প্রথমবারের মতো দেশের ৩০ হাজার সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ থেকে বের হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক সকল শিা প্রতিষ্ঠানকে এই শোভাযাত্রা বের করার নির্দেশনা অনুযায়ী এই মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। এছাড়া বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও সকল উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ আলোচনা সভা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন। ইউনেস্কো কর্তৃক মঙ্গল শোভাযাত্রাকে স্পর্শাতীত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্বারোপ করে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
সব মিলিয়ে এবারের পহেলা বৈশাখে বিপুল আনন্দ-উদ্দীপনা বিরাজ করে দেশজুড়ে। বর্ষবরণের উচ্ছ্বাসে আর সম্প্রীতির মেলবন্ধনে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে সারাদেশ। মঙ্গল চিন্তা আর মানবিকতার বোধকে আবারও সবার ঊর্ধেŸ স্থান দেয় বাঙালি। ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর হুমকি, মুক্তচিন্তার ওপর বর্বর আক্রমণ, মানুষ হয়ে মানুষ খুনের নির্মম নিষ্ঠুর সময়টিকে আবর্জনা জ্ঞানে ছুড়ে ফেলা হয়। নিকট অতীতে যারা সম্প্রীতির সমাজ নষ্ট করতে চেয়েছিল, আনন্দের উপল কেড়ে নিতে চেয়েছিল যারা, সেই জঙ্গিদের কঠিন জবাব দিল বাঙালি। বর্ষবরণ উৎসবে উগ্রবাদী জঙ্গি মানসিকতার বিনাশ চেয়ে এবং জঙ্গিবাদ দমনের দৃঢ় প্রত্যয়ে মানুষের পে জয়ধ্বনি করা হলো। অগ্নিদগ্ধ দিন পেছনে ফেলে আলোর পথে যাত্রার ঘোষণা দেয়া হলো সারাদেশ থেকে।
সবাই মিলে উদযাপন করল ১৪২৪ বঙ্গাব্দের শুরুর দিন পহেলা বৈশাখ। এই দিনে এই বঙ্গদেশের সকল জরা যেন কেটে গেছে; জীর্ণ পুরাতন আর নেই। অশুভ অসুন্দরকে পেছনে ফেলে বাঙালি আবাহন করেছে নতুনেরে। লোকায়ত জীবন আর নিজস্ব কৃষ্টির কাছে বিনা শর্তে নত হয়েছে বাঙালি। পূর্বপুরুষের সকল দান স্বীকার করে নিয়েছে। স্মরণ করেছে কৃতজ্ঞ চিত্তে। কোটি প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাকে, অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বুকে ধারণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে আরও একবার। ধর্ম-গোত্র-ভেদ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রিয় স্বদেশ গড়ার শপথ নিয়েছে পুরো জাতি। বাঙালির এই স্বপ্ন এই উজ্জীবনের কথা জানিয়ে দিয়ে গেছে পহেলা বৈশাখ। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে প্রথম রবির কিরণে ১৪২৪ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা দেশ। শুধু গ্রামে নয়, বড় বড় শহরে নয়; ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ছড়িয়ে পড়েছিল বর্ষবরণের আনন্দ। সীমান্তেও কমতি ছিল না বর্ষবরণের আনন্দ বিনিময়। দারুণ হাসিরাশি আর উৎসবের আমেজে দিনটি কাটিয়েছে সম্প্রীতি আর ঐক্যের মেলবন্ধনে বাঙালি। পহেলা বৈশাখে সম্প্রীতির সুর বেজে ওঠে বাঙালির প্রাণে। ঘর ছেড়ে পথে নেমে আসে সবাই। প্রকৃতিজুড়ে গাছে গাছে যেমন নতুন পাতার উচ্ছ্বাস, তেমনি মানুষের মনেও শুভ্রতার প্রত্যাশা মোড়ানো নতুন দিনের হাতছানি। সেই সুন্দর দিনের প্রত্যাশায় লাল-সাদা পোশাকে উচ্ছল আনন্দে মেতে দেশবাসী বরণ করল নতুন বছরকে। ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও বয়সের ভেদাভেদ ভুলে পহেলা বৈশাখে সবাই একাত্ম হয়ে বরণ করে নিলো বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ সালকে।
এবারের বর্ষবরণে রাজধানীর পাশাপাশি ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ছড়িয়ে পড়ে বর্ষবরণের আনন্দ। তবে প্রধান প্রধান আয়োজনগুলো ছিল রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক। তাই পহেলা বৈশাখে খুব চেনা শহর যথারীতি বদলে গিয়েছিল। সূর্য তখনও উঁকি দেয়নি পুব আকাশে অথচ জেগে উঠেছিল ইট-পাথরের শহর। ঘরে ঘরে ঘর ছেড়ে বের হওয়ার তাড়া। ছোট-বড় নেই। সবাই, সকলে ব্যস্ত হয়ে পথে নেমে এসেছিলেন। হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ। সবাই বাঙালি। তাদের উপস্থিতিতে ঢাকার বড় সড়কগুলো জনসমুদ্রে রূপ নেয়। যেদিকে চোখ যায়, লাল-সাদা রঙ। বিশেষ করে লাল রঙ খুব চোখে পড়েছে। মেয়েদের শাড়িতে, জামায় ছিল উজ্জ্বল লাল। ছেলেরা সাদা পাঞ্জাবি পরে বের হয়েছিলেন। কারোর সাদা-লালের মিশেল। সুন্দর সেজে দীর্ঘপথ হেঁটে নগরবাসী যাচ্ছিলেন রমনার দিকে। আর তারপর শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা। কোথাও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বিশাল রাস্তার দুই ধারে ছিল মানুষ আর মানুষ। ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সেখানকার মানুষ চারুকলার দিকে আসতে শুরু করেন। বাকিরা তারও আগে থেকে সমবেত হচ্ছিলেন। কেউ দলবেঁধে; কারও সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান। বন্ধুরা, প্রেমিক-প্রেমিকা ঘুরে বেড়িয়েছেন। পায়ে পা লাগছিল; গায়ে গা। তবে কেউ কারও যন্ত্রণার কারণ হননি; বরং সব ভুলে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল বাঙালি। মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষ হলেও এলাকাজুড়ে এর রেশ রয়ে গিয়েছিল। তাই অনেক রাত অবধি মুখর ছিল গোটা এলাকা। এ সময় কারও হাতে ছিল বাঁশি। কারও হাতে একতারা। অনেকেই ঢোল বাজিয়ে বর্ষবরণের আনন্দ প্রকাশ করেছেন। নাচছিলেন কেউ কেউ। রাস্তাজুড়ে বসেছিল বৈশাখী মেলা। একই রকম দৃশ্য চোখে পড়েছে ঢাকা শহরের অন্য সব রাস্তা, পার্ক, উদ্যানে। সব মিলিয়ে অন্যরকম একটি দিন। এই আনন্দ এই হাসিরাশি বাঙালির সব ঘরে পৌঁছে যাক। অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক। এমন সুন্দর বেঁচে থাকার বাংলাদেশ হোক; এগিয়ে যাক; দিনভর শোনা গেছে এমন প্রত্যাশা। এবারের পহেলা বৈশাখ ছিল বৃষ্টিবিহীন। ছিল তাপদাহ। তারপরও রাজধানীর যে জায়গাটিতে একটু ছায়া আছে, সেখানেই বসে গেছে গানের মেলা। প্রাণের মেলা। সাংস্কৃতিক, সামাজিক, নাগরিক ও পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবাই ছোট-বড় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৈশাখকে বরণ করে নিয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে হলেও এই আয়োজনের ল্য সবারই এক। সবাই চায় একটি শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ। রাজধানীতে ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই বর্ষবরণ উৎসবে মেতে ওঠে মানুষ। রমনার অশ্বত্থমূলে ছায়ানটের বর্ণিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দিয়েই শুরু হয় উৎসব। ‘জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে’ স্লোগান বুকে ধারণ করে নব-প্রভাতের সূর্যের আলোর ছটায় রাজধানীবাসীর বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। উৎসবমুখর আমেজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপিত হয় সারাদেশে। রাজধানীসহ সারাদেশে ছিল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নÑর‌্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিñিদ্র নিরাপত্তা। সকালে রমনা পার্কে ঢোকার মুখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা নিরাপত্তা তল্লাশির পাশাপাশি মিষ্টি, ফুল, পাখা ও মাথার টুপি দিয়ে অভ্যর্থনা জানান দর্শনার্থীদের। এ উদ্যোগ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বহু সংগঠন বর্ষবরণ উৎসবে মাতোয়ারা হয়েছিল দিনভর। সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো…’ গানটি। দিনভর দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে নগরবাসী মেতে ওঠে বর্ষবরণের উৎসবে। মানুষ হারিয়ে যায় কথা, কবিতা ও সুরের ছন্দে। উৎসবের প্রাণকেন্দ্র রমনা পার্ক ও এর আশপাশের এলাকাসহ পুরো রাজধানীতেই নামে মানুষের ঢল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার ঢাকা শহরের অনুষ্ঠানমালা বিকেল ৫টার পরে গুটিয়ে যেতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষ যার যার ঘরে ফিরতে শুরু করে। উৎসবে আসা মেয়েদের বসনে ছিল লাল-সাদা বর্ণিল শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া আর খোঁপায় ফুল। ছেলেরা পরেছিল লাল-সাদা পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও টি-শার্ট। শিশুরাও কম যায়নি। ঠোঁটে লিপস্টিক, কপালে টিপ, পায়ে আলতা, শাড়ি, ফ্রক, সালোয়ার-কামিজ পরে মেতে উঠেছিল বৈশাখী আনন্দে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চারুকলা, টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে নানা সাংস্কৃতিক সংগঠনের গানের আসর ও বৈশাখী মেলার পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে ছিল নানা অনুষ্ঠান। উৎসবে অংশ নিতে আসেন বিদেশিরাও। উপভোগ করেন বাঙালির প্রাণের উৎসব। তবে মঙ্গল শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে এবারের পহেলা বৈশাখের আনন্দ-উৎসবে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।