প্রতিবেদন

দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে মাগুরার জনসভায় জনগণের সমর্থন চাইলেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের গত ৮ বছরের শাসনামলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিস্ময়কর উন্নতি সাধিত হয়েছে। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকায় দেশজুড়ে সুষম টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। এই দৃশ্যমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে মাগুরার জনসভায় জনগণের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য মাগুরাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশবাসীর অব্যাহত সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ মার্চ অপরাহ্নে মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিরাট জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি তানজেল হোসেন খান এবং সমাবেশে মাগুরাবাসীর পে দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেন সাবেক ছাত্রনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর। সমাবেশে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাটার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং আব্দুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট বীরেন সিকদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, মেজর জেনারেল এটিএম আব্দুল ওয়াহাব (অব.), আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন প্রমুখ।
এর আগে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে মাগুরা সফরে আসেন। প্রায় ৩১০ কোটি টাকার ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর মাগুরা সফরকে কেন্দ্র করে ছোট্ট জেলা শহরটি যেন একটি উৎসবস্থলে রূপ নেয়। সকাল থেকেই আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন বয়সের জনগণ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাবেশস্থল মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে এসে জড়ো হতে থাকেন। তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে ভরে যায় সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নাচতে নাচতে গাইতে গাইতে, আবার অনেকে স্লোগানে, স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন। চৈত্রের তাপ অগ্রাহ্য করে সমাবেশে যোগ দেয় সর্বস্তরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে আসার অনেক আগেই মাগুরা জেলা স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। জনসভাস্থলে আগতদের জন্য রাস্তায় রাস্তায় স্থানীয় উদ্যোগে পানি, চিড়া ও বাতাসা সরবরাহ করা হয়।
মাগুরা সফরকালে প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন সেগুলো হচ্ছেÑ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মাগুরা হাসপাতাল, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়াম, মাগুরা কারিগরি প্রশিণ কেন্দ্র, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদর উপজেলা মঘি ইউপি অফিস থেকে আন্দোলবাড়িয়া সড়কে ফটকী নদীর ওপর ১১০ মিটার ব্রিজ, সদর উপজেলাধীন জিসি-ইছাখাদা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭১ কিলোমিটার সড়ক, মাগুরা-শ্রীপুর সড়কে নতুন বাজার সেতু, ৩৫০ ঘনমিটার প্রতিঘণ্টা মতাসম্পন্ন মাগুরা ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, প্রশাসনিক ভবন সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, প্রশিণ ভবন ও অতিথিশালা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যালয়, মাগুরা জেলা শাখা, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, মাগুরা টেক্সটাইল মিলস, আড়পাড়া মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
এছাড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস মাগুরা, শালিখা উপজেলাধীন বুনাগাতি থেকে বেরোইলপলিতা সড়কে নালিয়া ঘাটে ফটকী নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, একই উপজেলাধীন বরইচারা আটিরভিটা-বরইচারা বাজার সড়কে ফটকী নদীর ওপর ৬৬ মিটার ব্রিজ, বাউলিয়া-শরশুনা সড়কে চিত্রা নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, জাতীয় মহাসড়কের মাগুরা শহর অংশ ৪ লেনে উন্নীতকরণ, মাগুরা পৌরসভার তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়), শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার (হাইটেকপার্ক), শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম, শালিখা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরার জনসভায় লাখো মানুষের সমাবেশে ভাষণদানকালে বলেন, ২০০১ সালের মতো বিএনপি-জামায়াতের ন্যায় অপশক্তি পুনরায় মতায় গেলে দেশ ধ্বংসের মুখে পড়বে। তাই দেশবাসীকে এই হুমকির ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে। এই বাংলার মাটিতে যারা গণহত্যা চালিয়েছে, আমার মা-বোনের ইজ্জত লুটেছে, যারা হত্যা, খুন ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, তাদের স্থান বাংলার মাটিতে নেই। তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আপনারা আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হয়ে আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করুন। আমি আশা করি ২০১৯ সালে যে নির্বাচন হবে সে নির্বাচনেও আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ২০০১ সালে দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেয়ার মুচলেকা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট মতায় এসে দুর্নীতি, মানুষ হত্যা এবং দরিদ্র জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনের মাধ্যমে অবৈধ বিত্ত-বৈভবের পাহাড় গড়ে বলেও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বারবার তাঁর জীবনের ওপর যে হামলা চেষ্টা হয়েছে এবং হচ্ছে, তাতে তিনি ভীত নন। তিনি জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতির জন্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, যারা আপনাদের ভোট চুরি করেছে, আর যাদের ভোট চুরির অপরাধে বাংলার জনগণ মতা থেকে হটিয়েছে, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস আর মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে যারা হত্যা করেছে, বোমা মারা যাদের কাজ, এদেশের মতায় এলে তারা আবোরো দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। কারণ তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের নির্বাচনি ওয়াদা আমরা পূরণ করে খুনিদের বিচার ও দ- কার্যকর করেছি।
প্রধানমন্ত্রী উদাত্ত কণ্ঠে বলেন, আমি একটা কথাই আপনাদের বলতে চাই আমারতো আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। একজন আপনজন হারানো মানুষই কেবল বোঝেন এর ব্যথা-বেদনা কত। শেখ হাসিনা পঁচাত্তরের বিয়োগান্ত অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, আমি এবং আমার ছোট বোন একদিন হঠাৎ শুনলাম আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি, রিক্ত হয়ে গেছি, এতিম হয়ে গেছি। পিতা, মাতা, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীরা এমনকি আমার ছোট্ট ১০ বছরের ভাইটা পর্যন্ত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছে। বাবার মিলিটারি সেক্রেটারি কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আবেগতাড়িত কণ্ঠে প্রশ্ন তোলেন, আমার বাবাকে কেন হত্যা করা হলো? তিনিতো এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। এই নির্মম হত্যার পর ৬টি বছর দেশে আসতে পারিনি। আওয়ামী লীগ যখন আমাকে সভাপতি করে তখন আমি দেশে ফিরি। দেশে ফেরার পর ওই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের নিজেদের বাড়িতে পর্যন্ত ঢুকতে দেয়নি। বারবার আমার ওপর আঘাত হেনেছে, প্রাণনাশের অপচেষ্টা করেছে।
চট্টগ্রামে সরাসরি গুলি এবং ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে তাঁকে হত্যা প্রচেষ্টাসহ ২১ বার তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমি একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করি না, ভয়ও করি না। আমি শুধু জানি আমার বাবা দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। এদেশের মানুষকে তিনি ভালোবাসতেন।
প্রধানমন্ত্রী ভাষণের এক পর্যায়ে বলেন, বিএনপির অত্যাচার-নির্যাতন নিশ্চয়ই আপনারা মাগুরাবাসী ভুলে যাননি। হালের গরু কেড়ে নিয়েছে, বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে, মানুষের গাছ কেটে নিয়েছে, ধর্ষণ করেছে আমাদের মা-বোনকে, তারা অসংখ্য নিরীহ মানুষ ও হিন্দুদের হত্যা-নির্যাতন করেছে। এই অপশক্তি যখনই মতায় আসে তখনই অত্যাচার-নির্যাতন করে। লুটপাট করে, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এ সময় খালেদা পুত্রের বিদেশে পাচার করা অর্থ তাঁর সরকার দেশে ফেরত এনে বাংলাদেশের মানুষের টাকা মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী মাগুরাবাসীর জন্য তাঁর সরকারের উদ্যোগে ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উল্লেখ করে বলেন, মাগুরায় খালিহাতে আসিনি, আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। মাগুরাবাসীর জন্য রেললাইন যেন হয় ইনশাআল্লাহ সে ব্যবস্থাও আমরা করবো। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর সরকারের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির উল্লেখ করে বলেন, আপনাদের কাছে একটাই দাবি-শিক, মসজিদের ইমাম, অভিভাবকসহ সকল শ্রেণি-পেশার সাথে সম্পৃক্তদের প্রতিই আহ্বান জানাবোÑএই মাগুরায় কোনোরকম সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদকাসক্তি যেন স্থান না পায়। সে ব্যবস্থা আপনারা করবেন। কেউ যেন বিপথে না যেতে পারে সেজন্য অভিভাবক-শিকদের তিনি নিজ নিজ সন্তান ও পোষ্যদের কর্মকা-ের প্রতি নজরদারিরও আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের শাসনামলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খ-চিত্র তুলে ধরে বলেন, এদেশের সমাজটাকে উন্নত করে গড়ে তুলতে হবে। ২০২১ সালের মধ্যে কোনো ঘর অন্ধকারে থাকবে না, সকল জায়গায় বিদ্যুৎ যাবে। বর্তমানে দেশে ১৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেশের ৮০ ভাগ মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়েছে আমাদের সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাই আমিও বাবার মতো এই বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য, বাংলাদেশের মানুষকে ুধা ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য বাবার আদর্শ বুকে নিয়ে এই বাংলার মানুষের জন্য আমার জীবনটাও উৎসর্গ করেছি। আপনাদের মাঝেই আমি ফিরে পেয়েছি আমার হারানো বাবার স্নেহ, হারানো মায়ের স্নেহ, হারানো ভাইয়ের স্নেহ। আপনাদের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত। বিনিময়ে শুধু আপনাদের দোয়া, আশীর্বাদ এবং সহযোগিতা চাই। যেন এই বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ আর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।