প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতার ৯৮তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত : বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী হতে শিশুদের প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিবসে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃপ্ত শপথ নিয়েছে পুরো জাতি। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীনতার মহান এ স্থপতি। তিনি বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেরিয়ে বাঙালির কাছে পৌঁছে দেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার মন্ত্র। সে মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে স্বাধীন দেশে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি আজ বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশে। তাই প্রতি বছর সমগ্র জাতি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনকে ‘শিশু দিবস’ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্মরণ ও পালন করে।
১৭ মার্চ দিনভর জাতির পিতার প্রতিকৃতি ও মাজারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গ্রন্থমেলা, কেক কাটা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনসহ সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলে ১৭ মার্চ ভোর থেকে রাত অবধি ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন এবং টুঙ্গিপাড়ায় মাজারে নেমেছিল শ্রদ্ধা জানাতে আসা সর্বস্তরের মানুষের ঢল। দিবসটি উপলে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি রাজধানীসহ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বইমেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধুর ওপর তৈরি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ভোর সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সরকারের পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সামরিক বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান। সেখানে তিনি কিছু সময় অতিবাহিত করেন। সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান। সেখানে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কিছুণ নীরবতা পালন করে তাঁরা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রয়াত বঙ্গবন্ধুকে সশস্ত্র সালাম জানায়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুরা ফাতেহা পাঠ শেষে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, পরিবারের সদস্য ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর মাজার প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বার করেন। এরপর সেখানে শিশু সমাবেশ, আলোচনাসভা, গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দিবসটি উদযাপন উপলে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা শিশু একাডেমির উদ্যোগে দেশব্যাপী সকল জেলা ও উপজেলা সদরে শিশু সমাবেশ, শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ সকল গণমাধ্যম বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। তথ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে জেলা ও উপজেলা সদরে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও মহান মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সপ্তাহব্যাপী পুস্তক ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের প থেকে কেক কেটে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নাধীন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক, বয়স্ক ও সহজ কোরআন শিার মোট ৫৯ হাজার ৯৬৮টি কেন্দ্রে এবং ইসলামিক মিশনের আওতায় ১৯টি এবতেদায়ি মাদ্রাসা ও ৩৯৫টি মক্তবসহ সারাদেশে ৬০ হাজার ৩৮২ স্থানে সকাল ৯টায় কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলে বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে এক বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রার্থনা সভায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
এদিকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিলÑসকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সংগীতানুষ্ঠান প্রভৃতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক কেন্দ্র মিলনায়তনে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় মসজিদসহ আবাসিক হল, হোস্টেল, মসজিদ ও উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলে রাজধানীর পান্থপথে স্টার সিনেপ্লেক্সে বিনামূল্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ত্রিমাত্রিক ভিডিও চিত্র ‘পিতা’র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত দেড় হাজার শিশু-কিশোরসহ আগ্রহীরা বিনামূল্যে এ প্রদর্শনী উপভোগ করে।
১৭ মার্চ সারাদিন ধরেই দেশজুড়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের রেকর্ড বাজানো হয়। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বড় হতে শিশুদের প্রতি
শেখ হাসিনার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুকাল থেকেই দেশপ্রেমের শিা গ্রহণ করে শিশুদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভেতর একটি আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন জাতির পিতা শিশুকাল থেকেই যেমন নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন দেশ ও জনগণের কল্যাণে, ঠিক সেভাবেই শিশুদেরকে গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতার সেই জীবনী অনুসরণ করে দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসা, দেশের প্রতি কর্তব্যবোধ থাকা, কি পেলাম, কি পেলাম না, সেই চিন্তা না করা। কতটুকু দেশের জন্য করতে পারলাম সেই চিন্তাটা সবার মাঝে থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০১৭ উদযাপন উপলে টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আয়োজিত শিশু সমাবেশ, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, আজ (১৭ মার্চ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। এই দিনটিকেই আমরা জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন, দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তাঁর চিন্তা-চেতনার ফসলই হচ্ছে আজকের বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি গ্রামবাংলার মানুষকে চিনতেন, জানতেন, অনেক কাছে থেকে দেখেছেন তাদের সমস্যা। কাজেই তিনি সব সময় নিজেকে একটি আদর্শ নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন। আদর্শটা হচ্ছে জনগণের সেবা ও জনকল্যাণে কাজ করা। তাই ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন।
মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর গভীর মমত্ববোধ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন স্কুলে পড়তেন তখনই তাঁর একজন শিকের নেতৃত্বে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। যার কাজ ছিল ধানের মওসুমে গোলায় যখন ধান উঠতো সেই ধান বা টাকা-পয়সা জোগাড় করে দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের বই কিনে দিয়ে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা, সাহায্য করা। এভাবেই সেই ছোট্টবেলা থেকেই তার দেশসেবার হাতেখড়ি।
বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে দারিদ্র্যের প্রতি অসম্ভব একটি সহানুভূতি নিয়ে এভাবেই জাতির পিতা বড় হয়েছিলেন। জাতির পিতা আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়েই ান্ত হননি। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলেছিলেন। স্বাধীনতার পর সংবিধান দিয়েছেন এবং মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক পর্যন্ত শিাকে অবৈতনিক করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সময় খাদ্যাভাব, টাকার অভাব, তারপরেও তিনি শিাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। ২৬ হাজার ৯৬টি স্কুল জাতীয়করণ করে শিকদের চাকরিকে তিনি জাতীয়করণ করে দেন।
বঙ্গবন্ধু শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ছোট্ট শিশুদের সব সময়ই মনে করতেন এই শিশুরাইতো একদিন মানুষের মতো মানুষ হবে। কাজেই তাদের প্রতি ভালোবাসা ছিল তাঁর অসাধারণ। বঙ্গবন্ধু শিশুদের জন্য ১৯৭৪ সালে শিশু অধিকার আইন পাস করেন। আজকে আমরা যাই করছি জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই করে যাচ্ছি। আমরা ৩৬ হাজারের ওপর স্কুল জাতীয়করণ করেছি। আমরা শিা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে প্রাক-প্রাইমারি শিার ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে ুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আনন্দ স্কুল করে দিয়েছি। বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। যাতে বাবা-মাকে এই বইয়ের বোঝা টানতে না হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ১ কোটি ৩০ লাখ বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি, ‘মায়ের হাসি’ নামের প্রকল্পের আওতায় সমস্ত বৃত্তির টাকাটা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মায়ের হাতে আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। আর যে মা স্কুলে বাচ্চাকে পাঠাবে সেই মাও একটি ভাতা পাচ্ছেন। আমরা সেই ব্যবস্থাটা করে দিচ্ছি যেন একটা শিশুও স্কুলের বাইরে না থাকে।
বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শের স্মৃতিচারণ
করলেন শেখ রেহানা
বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা শিশুদের সঙ্গে আলাপচারিতায় শৈশবে তার পিতার সংস্পর্শের স্মৃতিচারণ করেছেন। জাতির পিতার ৯৮তম জন্মদিন উপলে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে ১৭ মার্চ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে শেখ রেহানা বলেন, আমরা যখন শিশু ছিলাম, তখন অধিকাংশ সময় বাবা ছিলেন কারাগারে। তাই অধিকাংশ সময় আমরা বাবার স্নেহ ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আমি যখন তোমাদের মতো ছোট ছিলাম, তখন আমার বাবা অধিকাংশ সময় ছিলেন কারাগারে, লড়াই করেছেন দেশের জন্য। অবশ্য শেখ রেহানা বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন কাজ থেকে ফেরার সময় তাকে স্কুল থেকে তুলে নিতেন তখন ঈদের আনন্দের মতো খুশি লাগতো। ঈদের মতো ছুটির দিনগুলোতে অন্যান্য শিশুরা যখন বাবার সঙ্গে দোকানে গিয়ে কি কেনাকাটা করেছে তা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে গল্প করতো, তখন আমি নীরব থাকতাম। এক ছুটির দিন বাবা যখন বাড়িতে ছিলেন তখন আমি তাকে জোর করে নিউমার্কেট নিয়ে যাই। তিনি আমাকে নিউমার্কেট নিয়ে আইসক্রিম ও নতুন জামা-কাপড় কিনে দেন। সেদিন খুশিতে আমি নেচে উঠি।
শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধুর মতো মহান ব্যক্তিদের আরো বেশি জানার জন্য শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান। মহান ব্যক্তিদের জানলে কিভাবে জনগণকে সাহায্য করা যায়, জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা যায় এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো যায়, তা জানা যায়। তিনি মনোযোগ সহকারে পড়ালেখা করার এবং স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য শিশুদের পরামর্শ দেন।
শেখ রেহানা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, তার বয়স যখন ৩ থেকে ৪ বছর তখন তার পরিবার এই বাড়িতে ওঠে। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারের বাইরে থাকতেন, তখন বাড়িতে তার সঙ্গে বাস্কেট বল ও ব্যাডমিন্টন খেলতেন। কারামুক্ত হয়ে যখন বাড়িতে থাকতেন, তখন তিনি তার সঙ্গে কথা বলতেন, কারাগারের গল্প শোনাতেন। শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধু কোথায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা-মাতার নাম শিশুদের জিজ্ঞাসা করলে তারা সঠিকভাবে জবাব দেয়। শেখ রেহানা শিশুদের জিজ্ঞাসা করেন তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে জানে কি না। এ সময় শিশুদের সাথে সাথে শেখ রেহানাও বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’