কলাম

শেখ হাসিনার নীরব কূটনীতি ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক

গাজীউল হাসান খান : বিভিন্ন দলীয় স্বার্থ ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর তাঁর ব্যক্তিগত নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের আর্থ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতির েেত্র একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মাপকাঠি হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সাফল্যের দিকে ল্য রেখে শেখ হাসিনা ভারত ও চীনসহ আন্তর্জাতিক পরিম-লে যে পরিকল্পিত কূটনৈতিক পদপে নিয়েছেন, তা কোনো আকস্মিক সংকটে বিপর্যস্ত না হলে এ অঞ্চলে কাক্সিত শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন। ভারত বা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মতৎপরতা বা আদান-প্রদান এখন আর আগের মতো সূচনাপর্বে সীমাবদ্ধ নেই। সময়োচিতভাবেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদন ও সমৃদ্ধির জন্য চাই পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন েেত্র লাগসই প্রযুক্তি ও সহযোগিতা। বাংলাদেশের বর্তমান বিশাল এ কর্মযজ্ঞে দাতাগোষ্ঠীর চেয়ে এখন বেশি প্রয়োজন উন্নয়নের েেত্র অংশীদারদের। মোটামুটি পরিপক্ব কূটনৈতিক পদেেপর মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রতিবেশী ভারত, চীন, জাপান ও রাশিয়ার সঙ্গে অনেকটা সে অংশীদারিত্বের পর্যায়ে ওঠে এসেছে। সে কারণেই ভারতের একজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা ২০১০ সালে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সঙ্গে এবারের সফরের তুলনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘তখন বাংলাদেশ ছিল ভারতের শুধুই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী। আর এখন বাংলাদেশ ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’ একই সুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দিল্লিতে বলেছেন, ‘ভারত আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যেও একই কথা উচ্চারিত হয়েছে। সে পথ ধরেই ৮ এপ্রিল দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি জোরদারের পাশাপাশি অপরাধ তৎপরতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, লাইন অব ক্রেডিট ও উপকূলীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচল সংক্রান্ত স্বারিত সমঝোতা স্মারকগুলো বিভিন্ন বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে। তাছাড়া যে সমঝোতা স্মারকটি নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি বিরোধী দল সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছিল তা হচ্ছে, ‘প্রতিরা সহযোগিতা ফ্রেমওয়ার্ক, সমঝোতা স্মারক, যা একটি প্রতিরা বিষয়ক সহযোগিতা কাঠামো ছাড়া অন্য কিছু নয়।
প্রতিরা সমঝোতা স্মারক আর প্রতিরা (সামরিক) জোট এক কথা নয়। প্রতিরা সমঝোতা বা সহযোগিতা স্মারক এমন কোনো বিষয় নয়, যাতে কোনো দেশের স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে পারে। প্রতিরা সমঝোতা বা সহযোগিতা স্মারক শুধু ভারতের সঙ্গে নয়, একাধারে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাংলাদেশের থাকতে পারে। তাতে আমাদের প্রতিরা বিষয়ক কোনো স্বার্থ ভূলুণ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ ধরনের সমঝোতা কিংবা সহযোগিতা স্মারক প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরাগত সহযোগিতা ও আঞ্চলিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকেই সুগম করতে পারে। দণি চীন সাগর থেকে বঙ্গোপসাগরসহ সমগ্র ভারত মহাসাগর এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার েেত্র এ ধরনের সমঝোতা স্মারক অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বারিত ‘প্রতিরা সহযোগিতা ফ্রেমওয়ার্ক’ সমঝোতা স্মারকে চীনের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতাকে একটি কাঠামো দিতে এবারই স্বারিত হয়েছে প্রতিরা সহযোগিতার রূপরেখা। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নমনীয় শর্তে ধারাবাহিকভাবে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। তার পাশাপাশি ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে সামরিক খাতে। সে অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ ভারত থেকে অস্ত্র খরিদ করতে সম হবে। কিন্তু বিরোধী শিবির ও গণমাধ্যমের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছে চীনের তুলনায় ভারতের অস্ত্রের মান সে পর্যায়ের নয়। বাংলাদেশ বর্তমানে তার চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ অস্ত্র খরিদ করে চীন থেকে। এ অবস্থায় ভারত থেকে নিম্নমানের অস্ত্রশস্ত্র কেনার যুক্তি কী? কিন্তু বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, ভারতের অস্ত্রের ব্যবহারোপযোগিতা না থাকলে তারা অস্ত্র তৈরি করত না। তাদের নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র কিংবা গোলাবারুদ চীনের তুলনায় ততটা উন্নতমানের না হলেও সে অস্ত্র আন্তর্জাতিকভাবেই বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া প্রশিণের জন্যও প্রচুর সামরিক অস্ত্রশস্ত্র কিংবা রসদের প্রয়োজন হয়। সে বিবেচনায় ভারতের দেয়া অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে লাভ কী হবে? চীনের অস্ত্রশস্ত্র রপ্তানির পরিমাণ বিশ্বব্যাপী এত বেশি যে বাংলাদেশ ভারতের দেয়া ৫০০ মিলিয়ন ডলার সে দেশেই খরচ করলে চীন খুব একটা তিগ্রস্ত হবে না।
বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভারত যে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার সহজ শর্তে ঋণ ঘোষণা করেছে, তা বাংলাদেশের চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য অত্যাবশ্যক বা অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম ও মংলাবন্দর উন্নয়ন, সড়ক ও রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন ও অন্যান্য চলমান জরুরি কাজে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশের আখাউড়া ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্যে নির্মাণাধীন রেললাইন স্থাপনের কাজ শেষ করা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বন্দরের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক নির্মাণ করাও অত্যন্ত আবশ্যক। ভারতের ভূমিবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করতে অত্যন্ত আগ্রহী। তাছাড়া রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলে নৌ-চলাচল নির্বিঘœ করার ব্যবস্থা করা। তাতে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই উপকৃত হবে। এর ফলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। এর পাশাপাশি সেই বর্ধিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে দুই দেশেই বহু কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের জ্বালানি, প্রযুক্তি ও পরিবহন খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ েেত্র ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) অবশ্যই উল্লেখযোগ্য সাড়া জাগিয়েছে। ভারত সব সময় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহনশীলতার নীতি ভারতের কাছে একটি বিশেষ অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন মোদি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ রাষ্ট্রীয় সফরকালীন নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেছেন। তারই ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে উভয় দেশই রাজি হয়েছে বলে দুই দেশের গণমাধ্যমেই ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। তিস্তা চুক্তি সম্পাদন, গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ ও পানি ব্যবস্থাপনার েেত্র বিরাজিত সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদপে নেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে দুই সরকারই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁর ও শেখ হাসিনার সরকার তিস্তা চুক্তির বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে পারবে। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। ভারত দ্রুত এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাাৎ করে অর্থবহ কিছু বিষয় আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে প্রবহমান ৫৩টি অভিন্ন নদীর পানিসম্পদ ভাগাভাগির প্রশ্ন রয়েছে। এ েেত্র শুধু পানি ভাগাভাগির প্রশ্নে লড়াই করলেই চলবে না। সেসব নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে তা রণাবেণের ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা সে নদীগুলো উজানে যত্রতত্র বাঁধ দেয়া ও অব্যবস্থাপনার কারণে একদিন হারিয়ে যেতে পারে। তখন আর সেচ কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ েেত্র পানি ভাগাভাগির প্রশ্ন উঠবে না। প্রয়োজন হলে অভিন্ন বা আন্তর্জাতিক নদীগুলো রণাবেণের প্রশ্নে প্রতিবেশী চীন, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করতে হবে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের নদী বিষয়ক বিভাগ, বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককেও প্রয়োজনবোধে জড়িত করতে হবে। উজানে ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবাহ নিয়ে চীন ও সিকিমের বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রম নিয়ে যৌথভাবে আলোচনা করে সুষ্ঠুভাবে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবহারের একটি গ্রহণযোগ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। তা না করে কারো নির্বাচনে পাস করার জন্য একতরফাভাবে কোনো অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার করতে দেয়া যাবে না। এত দিনে এ বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবেচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। তবে তিনি তিস্তার পরিবর্তে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পানি ভাগাভাগির ইস্যুতে মমতার যত বিবাদ কিংবা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ, তা তাদেরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দ্রুত ফয়সালা করতে হবে। তাতে বাংলাদেশকে জড়ানো ও তিস্তার ন্যায্য পানির হিসসা থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত নীতি ও নৈতিকতা বিগর্হিত কাজ বলে আমরা মনে করি। তিস্তার পানি ব্যবহারে পশ্চিমবঙ্গের একতরফা স্বার্থপরতার কারণে এক সময়ের প্রমত্তা তিস্তা এখন ক্রমে তার আগের স্রোতধারা হারিয়ে ফেলছে। অভিন্ন নদীগুলোতে যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ নিষিদ্ধ করে তাদেরকে অবাধে প্রবাহিত হতে দেয়া উচিত এবং সেখান থেকে নিজেদের প্রাপ্য পানি সংগ্রহ করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনের আশ্রয় নেয়া যেতে পারে।
তিস্তা নামের একটি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিসসা পেতে যদি বাংলাদেশের ৪৬ বছর সময় ব্যয় হয়, তবে বাকি ৫২টি স্বীকৃত অভিন্ন নদীর পানি পেতে আর কত দিন লাগবে? তবে আশার বিষয় হচ্ছে, অভিন্ন নদীর পানি ও উপকূল ব্যবস্থাপনায় দুটি প্রতিবেশী দেশই একটি সমঝোতার মধ্যে এসেছে। নতুবা এ বিষয়টি এভাবে চলতে দিলে দুই দেশের সম্পর্কই বিনষ্ট হবে। ক্রমে বিুব্ধ হয়ে উঠবে বাংলাদেশের জনগণ। তাতে দুই দেশের সব বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন নদীর পানি ব্যবহারের প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একতরফা কথাবার্তা শোনার ধৈর্য এরই মধ্যে হারিয়ে ফেলেছে। তাই তিস্তা সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরে বহুল আলোচিত ও প্রতীতি তিস্তাচুক্তি স্বারিত হয়নি ঠিকই, তবে তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীর পানি বণ্টন ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনার যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, তা আর বেশি দিন কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়টিকে এখন অত্যন্ত জরুরিভাবে গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। তারই ভিত্তিতে শিগগিরই তিস্তাচুক্তি স্বারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিস্তাচুক্তি স্বারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চাওয়া হলে এমন আভাসই দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শুষ্ক মৌসুমের জন্য সেচের পানি সংরণের েেত্র অববাহিকাভিত্তিক পানি সংরণ ও ব্যবস্থাপনারও উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ দ্বিপীয়ভাবে পরিকল্পনা পেশ করার তাগিদ দিয়েছে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় আগামী সাধারণ নির্বাচন অর্থাৎ ২০১৯ সাল শেষ হওয়ার আগেই এসব পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সম্প্রতি ঢাকায় বলেছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন অনেক উচ্চতায় উঠেছে। শেখ হাসিনার শাসনামলেই গঙ্গার পানির হিসসা, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি ও সীমান্ত চুক্তির মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’ এখন তিস্তা চুক্তিসহ যেটুকু বাকি আছে, সেটুকুও দ্রুত নিষ্পন্ন করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর ও বিভিন্ন সহযোগিতামূলক চুক্তি ও স্মারকের বিরুদ্ধে কথা বলে বিএনপি বেশি দূর এগোতে পারবে বলে মনে হয় না। ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দল কিংবা বিজেপি, যেই মতায় থাকুক না কেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পে যেভাবে তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বার্থ উদ্ধার করে আনা সম্ভব, বিএনপিসহ বাংলাদেশের আর কোনো দলের পে তা সম্ভব নয়। কারণ এ েেত্র বাস্তব সত্য হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। আর তাতে ভারতের হাজার হাজার সৈনিকও মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছেন। এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে তাদেরও রক্ত ও বলিদান রয়েছে। উল্লেখ্য, বিএনপির উৎসাহেই তৎকালীন ভারত সরকার খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ভারত সফর করিয়েছিল। কিন্তু তার কিছুটা সময় পরে প্রণব মুখার্জি যখন ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সফরে এলেন তখন খালেদা জিয়া অ্যাপয়নমেন্ট নিয়েও তাঁর সঙ্গে সাাৎ করেননি। জামায়াতে ইসলামীর হয়ে তখন তিনি (খালেদা জিয়া) সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যস্ত ছিলেন। এবং তাঁর নিজের নিরাপত্তার প্রশ্নে সেদিন তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্ধারিত সাাৎকারটি বাতিল করেছিলেন। সুতরাং খালেদা জিয়ার মতে, ‘তিস্তাচুক্তি ছাড়া এ দেশের জনগণ আর কিছুই মানবে না এবং প্রত্যাখ্যান করবে ভারতের সঙ্গে স্বারিত প্রতিরা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক।’ তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মহল বলছেন, সময়ই বলে দিবে বাংলাদেশের জনগণ কোনটা মানে, আর কোনটা প্রত্যাখ্যান করে।
লেখক : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস)
সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক