প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

১৩৬তম ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বিশ্বশান্তি স্থাপন ও মানবতার কল্যাণে আইপিইউকে বাস্তবধর্মী কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘রিড্রেসিং ইনাকুয়েলিটিজ : ডেলিভারিং অন ডিগনিটি অ্যান্ড ওয়েল বিয়িং ফর অল (বৈষম্যের প্রতিকার : সকলের জন্য মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত)’-প্রতিপাদ্য নিয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন-আইপিইউ’র ১৩৬তম সম্মেলন ১ এপ্রিল ঢাকায় শুরু হয়। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংসদীয় সংস্থাটির সম্মেলন প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো। তাছাড়া সংস্থাটির ১৩৮ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম হলো ‘গ্রিন অ্যাসেম্বলি’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের দণি প্লাজায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনের অন্য ইভেন্টগুলো অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। আইপিইউ সম্মেলন উদ্বোধন করে আগত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি, দারিদ্র্য বিমোচন, বিশ্বশান্তি স্থাপন এবং সর্বোপরি মানবতার কল্যাণে আপনারা বাস্তবধর্মী সুপারিশমালা প্রণয়ন করবেন। নিজ নিজ দেশে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তবেই আমাদের এই পরিশ্রম সার্থক হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের আইপিইউ সম্মেলনটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিপ্রায়ের জন্য একটি মাইলফলক, যা বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে বিরাট সম্মান। আর আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক পরিসরে এটা সর্ববৃহৎ আয়োজন। আইপিইউ’র ১৩৮ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এই সম্মেলন হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আইপিইউ প্রেসিডেন্ট আরো জানান, বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে রোমে অনুষ্ঠিত আইপিইউ কাউন্সিলে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আইপিইউতে যুক্ত হয়। প্রয়াত সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ওই অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন।
এবারই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই সংসদীয় ফোরাম ‘গ্রিন অ্যাসেম্বলি’র আয়োজন করেছে। ৩ ও ৪ এপ্রিলের কার্বন ফুটপ্রিন্ট হিসাব করে সে অনুযায়ী ‘কার্বন নিউট্রাল’ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সম্মেলনে যত প্রতিনিধি এসেছেন, তারা বিমানে এসেছেন, ঢাকায় অবস্থান করেছেন। এসবের কারণে কার্বন নিঃসরণ হয়েছে। এটার একটা ক্যালকুলেশন করে তা নিউট্রালাইজ করার পদপে নেয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে কাগজের ব্যবহার কমাতে ‘আইপিউ ১৩৬’ নামে একটি অ্যাপও বানানো হয়েছে।
সম্মেলনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব এখন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের নতুন এক উপদ্রবের মুখোমুখি। এই উপদ্রব নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, মানুষের শান্তি বিনষ্ট করছে। জঙ্গিবাদ আজ কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। তা না হলে আমরা আবার অন্ধকার যুগে ফিরে যাব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে শুরু হয় সামরিক ও স্বৈরশাসন। প্রবাসে থাকাবস্থাতেই ১৯৭৯ সালে আমি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। ৬ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম শুরু করি। ১৯৮৬ সালে আমি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। সে সময় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে প্রথম আইপিইউ সম্মেলনে যোগ দিই।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র অর্জনের পথ কখনই মসৃণ ছিল না। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে আমরা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছি। জনগণের শাসন ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে আমাকেও কম নির্যাতন সহ্য করতে হয়নি। গৃহবন্দি, জেলখানায় আটক থেকে শুরু করে আমার জীবন নাশের প্রচেষ্টা হয়েছে বারবার। আইপিইউ’র সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আমরা গভীরভাবে সম্মান করি। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত। আমরা গণতন্ত্রকে শুধু একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখি না, বরং গণতন্ত্রকে মানুষের সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাহন হিসেবে গণ্য করি। তাছাড়া গণতন্ত্র জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথ।
এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা একটি দারিদ্র্য ও ুধামুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্ব আজ এগিয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বৈশ্বিক ুধার েেত্রও। তবুও বিশ্বের প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মানুষ এখনও অপুষ্টিতে ভুগছে। অথচ প্রাচুর্যে ভরা এই বিশ্বে মানবজাতির বেঁচে থাকার সব ধরনের রসদ বিদ্যমান। একটু সহানুভূতি, সহযোগিতা, পরস্পরের প্রতি মমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বিশ্বকে এক নিমিষেই ুধামুক্ত করতে পারে।
আইপিইউ সম্মেলনে আগত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে আয়োজক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সিপিএ’র নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন এবং সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সারা বিশ্বের পার্লামেন্টসমূহের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া এ স্বীকৃতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চায় বাংলাদেশের নিবেদিত থাকার একটি মূল্যবান সনদ।
আইপিইউ সম্মেলনের স্বাগত বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জাতীয় সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের হৃৎপি-। ’৭২ সালে বাংলাদেশ আইপিইউ’র সদস্যপদ লাভ করে। আইপিইউ’র প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক আয়োজন। এই সম্মেলনে ১ হাজার ৪০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তিনি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। আইপিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং বলেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে সারা বিশ্ব বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হবে। সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাণী পড়ে শোনান সংস্থাটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। উদ্বোধন পর্বে নানা আয়োজনে বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়। সংসদ ভবনকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে নৌকা আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়।
আইপিইউ’র ৫ দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ২ এপ্রিল মূল প্রবন্ধে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী শিশু অধিকার কর্মী কৈলাস সত্যার্থী বলেন, বিশ্বব্যাপী আয় বৈষম্য বর্তমানে এমন জায়গায় চলে গেছে যা রীতিমতো অর্থনৈতিক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এই সহিংসতা বিশ্বজুড়ে মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এখন বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৪ সালে নোবেল পাওয়া কৈলাস সত্যার্থী গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে লিখিত প্রবন্ধের বদলে উপস্থিত সাবলীল বক্তব্য রাখেন। বিশ্বের ১৩১টি দেশের সংসদের সদস্যদের সামনে ভারতীয় এই অধিকারকর্মী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের জঙ্গিবাদে ঝোঁকার প্রবণতার পেছনে তারুণ্যের শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা অন্যতম প্রধান কারণ। ঢাকায় যখন আমরা এই সম্মেলন করছি, তখন বিশ্বের ২৭০ মিলিয়ন দরিদ্র শিশু স্কুলের বাইরে। ২১ মিলিয়ন মানুষ বিক্রি হয়ে শ্রমদাসে পরিণত হয়েছে। এটা কি মেনে নেয়া যায়! না, এটা সহ্য করা যায় না। আমাদের এই বিশ্ব কি এতই দরিদ্র যে শিশুদের প্রাথমিক শিাও নিশ্চিত করা যাবে না? এখনই এবং আজই সময়Ñএই ঢাকা থেকেই বিশ্বের অসহায়-দরিদ্র শিশুদের জন্য কিছু করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সহানুভূতি ছড়িয়ে দিতে হবে সারা বিশ্বে, শিশুদের প্রতি হাত বাড়িয়ে দেয়ার এখনই সময়।
সাবেক শিক কৈলাস তার বক্তব্যে বিশ্বে আয় ও সম্পদের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, কয়েক দশক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন সিইও ২০ জন শ্রমিকের সমান আয় করতেন। আর এখন এই বৈষম্য বেড়ে হয়েছে ১ : ২০০। এটা কি আমাদের অবাক করে না! আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় না! বিশ্বের ৫০ শতাংশ মানুষের সমপরিমাণ সম্পদ মাত্র ৮ জন ধনীর কাছে। দিনে-দিনে এই বৈষম্য বেড়েই চলেছে। একদিকে বিশ্বের ১০০ মিলিয়ন শিশু দাসত্ব, পাচার ও শিাবঞ্চনাসহ বিভিন্ন সামাজিক সহিসংতার শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে ১০০ মিলিয়ন তরুণ রয়েছে, যারা চাইছে পৃথিবীকে বদলে দিতে। পৃথিবীকে বদলে দেয়ার মতো শক্তি, মতা ও আদর্শ কিন্তু এই তরুণদের আছে। আমরা কি এই তরুণদের জন্য হাত প্রসারিত করে তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি না?
কৈলাস সত্যার্থী উপস্থিত বিশ্ব প্রতিনিধিদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তারুণ্যের এই শক্তিকে যদি কাজে লাগানো না যায়, তাহলে তারা হতাশাগ্রস্ত, অসহিষ্ণু ও সহিংস হয়ে পড়বে। তরুণদের মতা যদি নিশ্চিত করা যেত, তাদের কথা যদি কান পেতে শোনা যেত, তাহলে এই পৃথিবী আরও শান্তিময়, আনন্দময়, নিরাপদ ও শক্তিশালী হতে পারতো। পৃথিবীকে সুন্দর করার শক্তি, আদর্শ, সম্ভাবনা তরুণদের অবশ্যই আছে। কিন্তু সেটি বিকাশের পরিবেশ সৃষ্টি ও সুযোগ করে দিতে হবে রাষ্ট্রকেই।
দণি এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তরুণরা কিভাবে উগ্রবাদের পথ বেছে নিচ্ছেÑসেইরকম কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এই নোবেলজয়ী বলেন, বিশ্বের ২৩০ মিলিয়ন শিশু সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে। তাদের জীবন ও শিা বিপদগ্রস্ত। সবাই একযোগে কাজ করে এর সমাধান বের করা আমাদের বৈশ্বিক দায়িত্ব। টেকসই উন্নয়নের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক আছে। আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই বিপদগ্রস্ত শিশুদের বাঁচান। সারা বিশ্বে শিশুরাই বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। সংসদ সদস্যদেরও উচিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো। কৈলাসের মতে, বিশ্বের সকল শিশুর প্রাথমিক শিার জন্য মাত্র ২২ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, যা বিশ্বের সাড়ে তিন দিনের প্রতিরা বাজেটের সমান।
শিশুদের শিার অধিকার নিশ্চিত করতে নোবেল বিজয়ীরা একটি ‘ক্যাম্পেইন’ শুরু করেছেন জানিয়ে এমপিদেরও তাতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান কৈলাস। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘২০ সেপ্টেম্বর আপনারা নিজ নিজ এলাকার স্কুলে যান। সেখানে শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। আমরা চাই একটি নতুন সভ্যতা গড়তে, যা হবে বিশ্ব নাগরিকদের জন্য।
কৈলাস সত্যার্থী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর এ বিষয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন দেশের সংসদের প্রতিনিধিরা। সম্মেলনের বিভিন্ন কর্ম-অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে এবং এগুলোর ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা সবচেয়ে বৃহৎ আন্তর্জাতিক আয়োজন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের সংসদের প্রতিনিধিদের কাছে আমরা বাংলাদেশের অর্জন ও এর সংস্কৃতিকে মেলে ধরছি। ঢাকায় এই সম্মেলনে আমরা কিছু ‘লিগ্যাসি’ রাখার চেষ্টা করি। এর পদপে হিসেবে প্রথমবারের মতো আইপিইউ ‘গ্রিন অ্যাসেম্বলি’র আয়োজন করেছে। এখান থেকেই যাত্রা শুরু হয়েছে আইপিইউটিভির।
আইপিইউ সম্মেলনের তৃতীয় দিনে ৩ এপ্রিল ২টি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাব ২টি হলো সাংবিধানিকভাবে বিশেষ করে আইনিভাবে বৈধ কোনো সরকারকে দেশের ভেতর কিংবা বাইরে থেকে অন্যায়ভাবে ধাক্কা বা চাপ দেয়া যাবে না। অন্য প্রস্তাবটি হলো, সার্বভৌম কোনো রাষ্ট্রে অন্য কোনো প্রভাবশালী দেশের প্রত্য-পরো হস্তপেও সমর্থন করবে না আইপিইউ। তবে দুটি প্রস্তাবেই রাশিয়া ও জার্মানিসহ ৫টি দেশ আপত্তি জানায়। পরে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য দেশের সমর্থনে প্রস্তাব দুটি গৃহীত হয়।
আইপিইউ সম্মেলনে মূলত তিনটি ইস্যুতে আলোচনা হয়। এগুলো হলো শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র এবং টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা (এসডিজি) ও বাণিজ্য। শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং জাতীয় পার্টি (জাপা) দলীয় এমপি ফখরুল ইমাম জানান, গণতন্ত্র নিয়ে যখন আলোচনা ওঠে তখন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা নানামুখী মত দেন। কেউ বলেছেন, সব দেশে তো নির্বাচিত সরকার দিয়ে দেশ চলছে না। অনেক দেশে তো গণতন্ত্রই নেই। এই পরিস্থিতিতে অন্তত যেসব দেশে আইনিভাবে বৈধ সরকার রয়েছে সেখানে অভ্যন্তরীণভাবে সামরিক বাহিনী এবং বাইরের এনজিও, সুশীল সমাজ ও বহিঃশক্তি যেন হস্তপে না করে।
জানা গেছে, গণতন্ত্র এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনার পর গৃহীত প্রস্তাবে ‘স্বাধীন’ শব্দটির পরিবর্তে এবার ‘সার্বভৌম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ‘ইন্টারফেয়ার’ শব্দের বদলে এবার ‘ইন্টারভেনশন’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে, সার্বভৌম কোনো রাষ্ট্রে ইন্টারভেনশন আইপিইউ মেনে নেবে না। শান্তি, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনার সময় বিশ্বের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ যেসব সমস্যা উঠে আসে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জঙ্গিবাদ, যা এখন বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে স্বীকৃত। এর সঙ্গে জড়িতদের পাকড়াওয়ের পাশাপাশি এতে অর্থ জোগদানদাতাদেরও খুঁজে বের করা জরুরি। এেেত্র বিশ্বের সংসদগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। যুবসমাজ, ুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের মর্যাদা যেন হানি না হয়, সেদিকেও বিশ্বকে সজাগ থাকতে হবে। সর্বোপরি মানবাধিকার রায় সংসদ এবং এর সদস্যদেরকে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যরা।