প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

৪৭তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত : শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার


মেজবাহউদ্দিন সাকিল : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে রাজধানী ঢাকায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচি থেকে সহিংসতা-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদী কর্মকা- রুখে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয়; আর জঙ্গিবাদমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধিশালী উন্নত দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এদিন শ্রদ্ধাবনত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দিয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর মাজারের বেদিমূল। সিলেটে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার মধ্যেই লাল-সবুজ পতাকা হাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সন্ত্রাস জঙ্গিবাদমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত দেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে এবারের স্বাধীনতা দিবসে এক অন্যরকম শপথে জেগে ওঠে সর্বস্তরের মানুষ। সারাদেশেই নতুন প্রজন্মের অভূতপূর্ব গণজাগরণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবারের স্বাধীনতা দিবসে। রাস্তায় বের হওয়া মানুষ বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের হাতে, গালে বা কপালে আঁকা ছিল রক্তাক্ত জাতীয় পতাকা, প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের গায়ে জাতীয় পতাকাসদৃশ শর্ট পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি এবং মেয়েরা লাল-সবুজের মিশ্রণে জাতীয় পতাকার মতো শাড়ি পরে অংশ নিয়েছিল এবারের স্বাধীনতার আনন্দ উৎসবে। তবে এবারের স্বাধীনতা দিবসে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াত নিষিদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার দ্রুত শেষ করে সব রায় কার্যকর এবং রাষ্ট্রদ্রোহী অশুভ শক্তির সকল নাশকতা ও ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার দাবি উচ্চারিত হয়েছে সর্বত্র। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে শহর-বন্দর-গ্রামে স্বাধীনতা দিবসের প্রতিটি কর্মসূচিতে নতুন প্রজন্মের ঢল, তাদের চোখে-মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখার দীপ্ত শপথ আর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার প্রচ-তাও প্রত্য করেছে দেশের মানুষ। শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ ও পথে-প্রান্তরে দিনভর বেজেছে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা সংবলিত ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে ২৬ মার্চ সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রথমে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ উপলে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করে। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী পরে মন্ত্রিপরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে দলের প থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, সংসদ সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দেন খালেদা জিয়া।
স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতি
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে রাজধানীতে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সম্মুখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পার্ঘ্য প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিকৃতির সামনে কিছুণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এরপর দলের প থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পার্ঘ্য প্রদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।
স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি
স্বাধীনতা দিবস উপলে ২৬ মার্চ ছিল সরকারি ছুটির দিন। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বেতার, টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ভবন, বাড়িঘর, যানবাহন ও দোকানে ওড়ে জাতীয় পতাকা। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়। সারাদেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাতেও বিশেষ প্রার্থনা সভার ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও মোনাজাত করা হয়। সশস্ত্র বাহিনীও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্র, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশুসদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
এদিকে ৪৫ বছর আগে ২৫ মার্চ কালরাতের দুঃসহ সেই স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্বাধীনতা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ৩৬ মাইল পথ হাঁটার কর্মসূচি পালন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। দিবসটি উপলে ছায়ানট, জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় প্রেসকাব, অফিসার্স কাব, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে।
স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ও শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে পূর্ববর্তী বছরের মতো এবারও স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মোহাম্মদপুরের গজনভী রোডে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন ও প্রটোকল অফিসার খুরশিদ-উল আলম সকালে শুভেচ্ছা সামগ্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করেন। মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মতো প্রত্যেক জাতীয় দিবস ও উৎসবে তাদেরকে স্মরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা মোহাম্মদপুরে ১৩ তলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১সহ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনে নেয়া ব্যাপক পদেেপর জন্যও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করেন।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তাঁর পতœী রাশেদা খানম দেশের ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেন। বঙ্গভবনে প্রাঙ্গণে বিকেল পৌনে ৫টায় অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীও সংবর্ধনায় অংশ নেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যরা যোগদান করেন।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে কেক কাটেন। তাঁরা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও অনুষ্ঠানে আগত সম্মানিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আবদুল হামিদ ও শেখ হাসিনা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের কল্যাণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে দেশবরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় বিভিন্ন দেশাত্ববোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়।
জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে
নৈতিক শিায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে
তোলার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা
জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিভাবক ও শিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও আদর্শগত শিা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই শিায় আগামীর নেতৃত্ব দিতে সম ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ২৬ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলে আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, চলবে এবং কঠোর হাতে তা আমরা দমন করব।’ সমবেত শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ তোমরা বিভিন্ন স্কুল ও প্রতিষ্ঠান থেকে সমবেত হয়েছ। সেই সঙ্গে শিক ও অভিভাবকবৃন্দ আপনারাও এখানে আছেন। আমি সবাইকে এইটুকু বলবÑসকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন উন্নত জীবন পায়। তারা যেন সৎ চরিত্রবান হয় এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি মানুষের মতো মানুষ হয়। আগামী দিনের বাংলাদেশকে গড়ার জন্য যেন এখন থেকেই নিজেদের দ ও যোগ্য করে গড়ে তোলে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যারা শিশু, আমি মনে করি তাদের মধ্য থেকেই আগামীতে কেউ না কেউ প্রধানমন্ত্রী হবেন। মন্ত্রী হবে, অফিসার হবে, বিভিন্ন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী থেকে শুরু করে পুলিশ বাহিনী, বিজিবি কর্মকর্তা হবে। তারা দেশকে গড়ে তুলবে। দেশকে উন্নত সমৃদ্ধিশালী করে তুলবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শিশুদের জন্য শিশু অধিকার আইন করে যান, প্রাথমিক শিা অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক করে যান। মেয়েদের শিা মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক করে দেন। তিনি আমাদের একটি সংবিধান দেন যেখানে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তিনি ক্রমেই একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলছিলেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাকে স্তব্ধ করে দিয়ে পরিবার-পরিজনসহ জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং যাবে। যার কথা জাতির পিতাই তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে বলে গেছেন ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না।’ তবে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে ২১ বছর। এ দেশের মানুষকে দাবায়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমরা ’৯৬ সালে মতায় আসার পর থেকেই যে কাজ শুরু করেছি আজও দেশের মানুষ তার সুফল পাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিক মুক্তির কর্মসূচিকে এবার আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তবেই আমরা গড়ে তুলতে পারব ুধা-দারিদ্র্যমুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’। আমরা স্বাধীনতার সুফল বাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।
বাঙালির অধিকার আদায়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের অপশাসনের প্রতিবাদ করেছিলেন আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার প্রোপট তুলে ধরে তাঁর নামে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসও শিার্থীদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোর সমাবেশ পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোরদের ডিসপ্লেও দেখেন।
শেষ কথা
স্বাধীনতা দিবস আমাদের জন্য আনন্দের এই জন্য যে, এদিন থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শুরু হয় বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম। বেদনা এ জন্য যে, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের শুরু এ দিন থেকেই। বাঙালির জাতীয় জীবনে আনন্দ-বেদনার এমন দ্বৈরথের ঘটনা খুব বেশি নেই। বাঙালি জাতির আনন্দ আর বেদনার মহাকাব্যের নাম স্বাধীনতা। ৯ মাস ধরে চলা স্বাধীনতা সংগ্রামের একদিকে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহসিকতা আর অন্যদিকে হাজারও নর-নারীর আত্মত্যাগের বীরত্বগাথা। পাশাপাশি ছিল বর্বর পাকসেনা আর রাজাকার-আলবদরদের নিচতা, শঠতা ও হিংস্রতার কলঙ্কময় ইতিহাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণায় ৪৬ বছর আগের এ দিনে পাকিস্তানি বাহিনীর দমন অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এ ভূখ-ের মানুষ। তার পরের ৯ মাস পাকিস্তানি বাহিনী আর তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর চক্র চালিয়েছে ইতিহাসের বর্বরতম নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ। তাই স্বাধীনতা দিবসের এই দিনে প্রতি বছর দেশবাসী শ্রদ্ধা আর বেদনায় স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে নিহত স্বজনদের আর অসম লড়াইয়ে বিজয়ী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।