অর্থনীতি

ইপিবির তথ্য : পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় বেড়েছে ১৩.৯৪ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। যা এ সময়ের রপ্তানি ল্যমাত্রার তুলনায় ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের তুলনায় এ খাতের পণ্য রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) এপ্রিল মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৪ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, পাটের সুতা ও কু-লি রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৯১ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরে এই খাতের রপ্তানি আয়ের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১৭ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার, পাটের সুতা ও কু-লি রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৫৫ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, পাটের সুতা ও কু-লি রপ্তানি ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ কোটি মার্কিন ডলার এবং পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানি ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭০ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ল্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের তুলনায় এ খাতের রপ্তানি আয় ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের এ সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৬৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে কাঁচা পাট রপ্তানি ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। এ সময়ে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১৪ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা ল্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতের আয় ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে কাঁচা পাট রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ১০ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পাটের সুতা ও কু-লি রপ্তানিতে ৪৩ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার আয়ের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ সময়ে আয় হয়েছে ৪৪ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ল্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে পাটের সুতা ও কু-লি রপ্তানিতে ৪০ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল। চলতি বছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছে ১১ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার; যা ল্যমাত্রার চেয়ে ২২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের আয় ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের একই সময়ে পাটের বস্তা ও ব্যাগ রপ্তানিতে আয় হয়েছিল ৯ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। ইপিবির প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পাটের অন্যান্য দ্রব্য রপ্তানিতে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা ল্যমাত্রার চেয়ে ২৮ দশমিক ২০ শতাংশ কম। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই খাতের রপ্তানি আয় ২৩ দশমিক ১৭ শতাংশ কমেছে।
এ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে যে ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ আয় বেড়েছে, তা পাটশিল্পের জন্য পর্যাপ্ত নয়। দেশের পাটশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে রপ্তানির পাশাপাশি দেশীয় বাজারের বিস্তৃতিও ঘটাতে হবে। তাদের মতে, দেশীয় বাজারে পাটপণ্যের বিস্তৃতি ঘটানোর জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা পাটশিল্পের জন্য ইতিবাচক। সরকার ১০টি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে দেশীয় বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা অবশ্য বেড়েছে; কিন্তু যে হারে বাড়ার কথা সে হারে বাড়ছে না। এর অন্যতম কারণ হলো সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এখনো সিনথেটিক ব্যাগ ব্যবহার থেকে বেরিয়ে না আসা। ৫০ কেজি চাল বহনের জন্য যে পাটের বস্তা দরকার, তার দাম ২০ টাকা। অপরদিকে সিনথেটিকের বস্তার দাম ৮ টাকা। দামের এই হেরফেরের জন্যই অসাধু ব্যবসায়ীরা পাটের বস্তার পরিবর্তে সিনটেথিকের বস্তায় বেশি আকৃষ্ট হয়। বাদামতলীর বেশির ভাগ চালের আড়তে গেলে দেখা যাবে দৃশ্যমান চালের বস্তাগুলো পাটের, আর অদৃশ্য বস্তাগুলো সিনথেটিকের। চিনি, পিঁয়াজ, ছোলাসহ অন্য পণ্যের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজমান। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাটপণ্য রপ্তানির পাশাপাশি দেশীয় বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা বাড়াতে সরকারকে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ পণ্যে পাটের বস্তা ব্যবহার হয় কি না, তা যথাযথভাবে মনিটর করলে অবশ্যই সিনথেটিক ব্যাগের ব্যবহার কমে যাবে। এতে পাটপণ্যের চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমনি মানুষের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত হবে।