রাজনীতি

সাংগঠনিক অস্থিরতায় বিএনপি : দলে বিশৃঙ্খলায় হতাশ খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক : কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রুপিং আর সারাদেশে সাংগঠনিক অস্থিরতায় আজ দিশেহারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। জানা যায়, সর্বশেষ ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনে খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমেরিকা অবস্থানরত সাদেক হোসেন খোকা ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কারোরই কোনো সিদ্ধান্তকে আমলে নেয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একনিষ্ঠ সমর্থক ও দলের দ্বৈত পদে থাকা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবীর রিজভীর সিদ্ধান্তকেই এক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিএনপির ঢাকা মহানগর নতুন কমিটি গঠনে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রভাবই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে তার প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করলেও ঢাকা মহানগরে তারেক রহমানের সমর্থিত দু’জনকেই চাপের মুখে সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দিতে হয়েছে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। এতে ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার দীর্ঘদিনের প্রভাব-প্রতিপত্তি খর্ব হবে বলে মনে করেন অনেকে। ঢাকা মহানগরীর বিএনপি সমর্থকদের প্রায় অর্ধেক মির্জা আব্বাসের অনুসারী, বাকি অর্ধেক সাদেক হোসেন খোকার অনুসারী। বিএনপির এসব অনুসারীদের হতাশ করে আব্বাস-খোকা সমর্থিত প্রায় কাউকেই নেয়া হয়নি নতুন কমিটির বড় পদে। নতুন কমিটিতে ঢাকা মহানগর দেিণর সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এবং উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম দু’জনই তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে সুপরিচিত। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তারেক রহমানের পরামর্শেই পথ চলবেন তারা। কোনো অবস্থাতেই এই দু’জনকে পরিচালিত করতে পারবেন না আব্বাস কিংবা খোকা। মজার বিষয় হলো এই দু’জন রিজভীরও ঘনিষ্ঠ। বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, বিগত দিনের আন্দোলনে আব্বাস-খোকার বিরুদ্ধে নগরীর নেতাকর্মীদের রাজপথে নামাতে ব্যর্থতার অভিযোগ আছে সত্য, তাই বলে এ দু’জন নেতাকে একেবারে ইগনোর করা ঠিক হয়নি। এতে বিএনপিতে সাংগঠনিক অস্থিরতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব যে এখনো ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ সে বিষয়টিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মহাসচিবের দৈন্যদশা, রিজভীর উত্থান, তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্ত এবং খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার মতো দলের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি চরম হতাশায় আছেন খালেদা জিয়া নিজেই।
অন্যদিকে রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বিএনপিতে সৃষ্টি করেছেন আরেক ধরনের অস্থিরতা। সর্বশেষ কাউন্সিলে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি চালুর ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি নেতৃত্ব। কিন্তু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই নীতি এখনো প্রায় অকার্যকর। তাছাড়া ওই নীতি কার্যকর করলে বেশ কিছু জেলায় সাংগঠনিকভাবে দলের রাজনীতি তিগ্রস্ত হবে এ যুক্তি দেখিয়ে জেলা ও পৌর নেতাদের অনেকেই বাড়তি পদ ছাড়তে অনাগ্রহী বলে জানা গেছে। সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব হওয়ার পরও রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ দপ্তর সম্পাদক পদ ধরে রাখায় তাকেই এ েেত্র সবাই উদাহরণ হিসেবে টানছেন। মূলত রিজভী দুই পদ আঁকড়ে থাকায় খালেদা জিয়া বহু চেষ্টা করেও ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কার্যকর করতে পারছেন না। খালেদা জিয়া রিজভীকে দপ্তর সম্পাদকের পদ ছেড়ে দিতে বলেছেন। কিন্তু তারেক রহমানের নির্দেশে রিজভী এতে কর্ণপাত করছেন না। খালেদা জিয়া স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছেন, এ নিয়ে দলে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। যেমনটি বিরাজ করছে বিএনপির ঢাকা মহানগরীর নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা নিয়ে।
দীর্ঘদিন পর ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী ঢাকায় সবাইকে খুশি রেখে দলের কমিটি গঠনে বিএনপির হাইকমান্ডের আপ্রাণ চেষ্টায়ও সন্তুষ্ট নন অনেকেই। নগরীর অনেক সিনিয়র নেতা ও একাধিকবারের ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে কমিটিতে স্থান না দেয়া, অনেক সিনিয়র নেতার নাম জুনিয়রের নিচে রাখা এবং অচেনা মুখ ও নবীনদের তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়ায় ুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী।
ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটিতে ‘প্রবীণ-নবীন’দের সমন্বয় ঘটলেও জ্যেষ্ঠতা ডিঙানোর নানা অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘মির্জা আব্বাস-গয়েশ্বর চন্দ্র রায়’ এবং ‘সাদেক হোসেন খোকা’র পরিচিত গ্র“পের নেতাদের মধ্যে কমিটিতে পদ পাওয়া নিয়ে ব্যবধান বেড়েছে। নেতা-নেত্রীদের স্ত্রী-সন্তানরাও নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানভীর আহমেদ রবিনকে দেিণর সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আখতার কল্পনাকে সহ-সভাপতি, পিন্টুর বোন ও সাবেক কমিশনার ছায়েদুর রহমান নিউটনের স্ত্রী ফেরদৌসী আখতার মিষ্টিকে উত্তরের সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এভাবে নতুন কমিটিতে দলের অনেক সিনিয়র, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে না রাখাকে স্বজনপ্রীতি হিসেবেই দেখছেন ভুক্তভোগীরা। দেিণর কমিটিতে খোকার অনুসারী সিনিয়র নেতাদের কমিটির বাইরে রাখায় খোকা কিছুটা মনঃুণœ হয়েছেন। মির্জা আব্বাসের অনুসারী কিছু সিনিয়র নেতাও কমিটিতে স্থান পাননি বলে দাবি করছেন তার অনুসারীরা।
তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়াপল্টন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, নতুন কমিটিতে পরীতি সৈনিকদের স্থান দেয়া হয়েছে। কমিটির অধিকাংশ েেত্রই তরুণরা অগ্রাধিকার পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, যেসব পদ এখনও শূন্য আছে, সেখানেও কাউকে নেয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন আশ্বাসবাণীতে মোটেও আশ্বস্ত হননি আব্বাস-খোকাপন্থি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের কথা হলো দেশে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে গত প্রায় ১০ বছর ধরে যার কোনো সরাসরি সংশ্লিষ্টতা নেইÑ সেই তারেক রহমানের পকেট কমিটিকেই পুত্রের চাপের মুখে অনুমোদন দিয়েছেন মা খালেদা জিয়া। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার কোনো সিদ্ধান্তকেই আমলে নেয়া হয়নি। সব ক্ষেত্রেই তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাউন্সিলের প্রায় ১ বছর পর বিএনপি ঢাকা মহানগরে যে কমিটি ঘোষণা করেছে, তাতে দলটির মধ্যে যেমন সাংগঠনিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে, তেমনি চেয়ারপারসনসহ নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করবে; যা বিএনপির ভবিষ্যৎ আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে রুহুল কবীর রিজভী আহমেদের উদাহরণ টেনে গত ৫ এপ্রিল খোদ রিজভী আহমেদকেই চিঠি দিয়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার। তাতে তিনি মহানগরের সভাপতি না থাকলে কী কী তি হতে পারে তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। একই দিন দলের আরেক যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবীর খোকন রিজভীর উদাহরণ টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর চিঠি লিখে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত দুই পদে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীও পটুয়াখালী জেলার নানা সংকটের কথা তুলে ধরে দুই পদে থাকা সংক্রান্ত বিষয়টি কেন্দ্রের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এসব চিঠিতে স্পষ্ট, ওই নেতারা জেলা পর্যায়ের পদেও থাকতে আগ্রহী এবং তারা রিজভীর উদাহরণ টানছেন। ফলে খালেদা জিয়া পড়েছেন এক ব্যতিক্রমী সমস্যায়। তিনি রিজভীসহ সবাইকে এক পদ রেখে আরেক পদ ছেড়ে দিতে বলছেন। কিন্তু কোনো কেন্দ্রীয় নেতাই খালেদা জিয়া কিংবা মির্জা ফখরুলের কথা শুনছেন না। তারা চালিত হচ্ছেন তারেক রহমানের নির্দেশে।
জানা গেছে, নরসিংদীতে খায়রুল কবীর খোকন এবং বরিশাল বিএনপির রাজনীতিতে মজিবর রহমান সরোয়ার যেমন অনিবার্য; একইভাবে নাটোর জেলায় অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, খুলনা মহানগরীতে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, লক্ষ্মীপুরে আবুল খায়ের ভূঁইয়া, গাজীপুরে ফজলুল হক মিলন এবং রংপুরে আসাদুল হাবিব দুলু না থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনপির রাজনীতি তিগ্রস্ত হবে বলে দলে আলোচনা আছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব পদে থাকলেও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি করা হয়েছে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে। হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু দুই পদের বিষয়ে বিএনপিকে এখনো কিছু জানাননি। আসাদুল হাবিব দুলু রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশাপাশি লালমনিরহাট জেলারও সভাপতি। আর রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মৌখিকভাবে খালেদা জিয়াকে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নাটোর জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে দেবেন। কিন্তু এখনো তিনি জেলার পদ ছাড়েননি।
এদিকে জাতীয় কাউন্সিলের পর কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া সত্ত্বেও এক নেতার এক পদ নীতিতে ুব্ধ হয়ে সম্প্রতি জেলা কমিটির পদ রেখে দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি ছেড়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শাহাজাদা মিয়া, খুলনা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি মশিউর রহমানসহ আরো অনেকে। জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কাকে কোন পদে রাখা হলে দল উপকৃত হবে সে বিষয়ে স্বয়ং খালেদা জিয়াই বিভ্রান্তিতে আছেন। তিনি এ প্রশ্নে আছেন দোটানায়। ফলে অনেকেই দুই পদ ধরে রেখেছেন। এ অবস্থায় গত ২০ মার্চ একটি পদ ছেড়ে দেয়ার জন্য রিজভী আহমেদ অনেককে চিঠি দিয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, ওই চিঠিও রিজভী তার পছন্দের অনেক নেতাকে দেননি; যারা এখনো দুই পদ ধরে রেখেছেন। তাছাড়া রিজভী নিজেই দুই পদ ধরে রাখায় অন্যকে বাড়তি পদ ছাড়ার জন্য চিঠি দিতে পারেন কি না, এ নিয়েও দলের সব মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বলা হচ্ছে, এটি একই দলের মধ্যে দুই ধরনের বিধান চালুর প্রচেষ্টা। সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব হওয়ার পরও রিজভী তারেক রহমানের বিশেষ বিবেচনায় দপ্তর সম্পাদকের পদ ধরে রেখেছেন বলে বিএনপিতে প্রচারণা আছে। বিএনপির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে বাস্তবতা হলো রিজভী তারেক রহমানের নির্দেশেই ওই পদ আঁকড়ে থাকতে চাইছেন। উদ্দেশ্য হলো দপ্তরে থেকে পুরো দলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। বিএনপিতে অনেক দিন ধরেই আলোচনা আছে, যেহেতু মহাসচিব মির্জা ফখরুল তারেক রহমানের সমর্থিত নন তাই তিনি যাতে কিছুতেই দলে তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারেনÑএমন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতেই তারেক রহমানের নির্দেশে রিজভী সারাণ দপ্তরে থাকছেন। অথচ দেশের প্রায় সব দলের দপ্তর সম্পাদক সাধারণত মহাসচিবের নির্দেশনায় চলেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, দুই পদে থাকা দলের অনেক নেতা সম্প্রতি রিজভীর চিঠি পেয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। কেউ কেউ চিঠির জবাবও দিয়েছেন। অনেকে আবার সিনিয়র নেতাদের বাসায় গিয়ে বলেছেন, তারেক রহমানের ‘বিশেষ বিবেচনা’ কেবল রিজভী আহমেদের বেলায় কেন?
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, রিজভী আহমেদকে দপ্তর সম্পাদকের পদ দেয়া হয়নি, তাকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গত বছরের ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে দলীয় গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি সংযোজিত হয়; যদিও ওই গঠনতন্ত্র এখনো ছাপা হয়নি। তবে এক নেতার এক পদ নীতি কার্যকর করতে খালেদা জিয়া তাগিদ দেয়ায় প্রথমে গত বছর বিএনপি মহাসচিব সব নেতাকে চিঠি দেন। ফখরুলসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা একটি করে পদ ছেড়েও দেন। ঘোষিত কমিটিতে রিজভীকে সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব পদের পাশাপাশি দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে প্রথম থেকেই এ নিয়ে কথা ওঠে। স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে রিজভীকে দপ্তর থেকে সরিয়ে দেয়ার পরামর্শও দেন।
এদিকে বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি ঘোষণা হলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভীর ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন ওঠে। কানাঘুষা আছে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে ঢাকা মহানগর কমিটির তালিকা করে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে না পাঠিয়ে তা পাঠান সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমদের কাছে। রিজভী তা মহাসচিবের কাছে পৌঁছে না দিয়ে সরাসরি খালেদা জিয়ার হাতে তুলে দেন। এ নিয়ে খালেদা জিয়া বিরক্ত হলেও তারেক রহমান তার পুত্র হওয়ায় তিনি সম্পূর্ণ বিষয়টি মেনে নিতে বাধ্য হন। খালেদা জিয়ার এই মেনে নেয়া ও না নেয়া নিয়ে এখন সাংগঠনিকভাবে অস্থির সময় কাটাচ্ছে বিএনপি। দলে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। কেন্দ্রীয় পদ পেয়েছেন, এমন জেলা পর্যায়ের কোনো কোনো নেতাকে ৫ বারও চিঠি দেয়া হয়েছে জেলার পদ ছাড়ার জন্য। আবার কোনো কোনো নেতা ১ বারের বেশি চিঠি পাননি। ফলে সাংগঠনিকভাবে এখন দলটিতে চলছে দ্বৈত অবস্থা। এই দ্বৈত অবস্থার একদিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, আরেক দিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনপ্রবাসী তারেক রহমান। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাচ্ছে। এতে দলের চেয়ারপারসন রীতিমতো অসহায় বোধ করছেন। তার স্বামীর হাতে গড়া দলটির এমন বিশৃঙ্খল অবস্থায় তিনি এখন চরম হতাশায় নিমজ্জিত। পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারাদেশের তৃণমূল নেতাকর্মী-সমর্থকরা বিএনপির প্রকৃত অর্থে কা-ারি খালেদা জিয়া নাকি তারেক রহমান তা নিয়ে বরাবরের মতো এখনও রয়েছেন চরম দোটানায়। বিএনপির কল্যাণে তারাও চান দলের দ্বৈত এ শাসনের অবসান হোক।