প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালায় সজীব ওয়াজেদ জয় : ফেসবুকের সহযোগিতা নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন নির্বাচনি কার্যালয়ে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি কর্মশালার আয়োজন করে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদিতে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যরা কিভাবে আরো বেশি সক্রিয় হবেন এবং যারা সক্রিয় নন, তাদের কিভাবে সক্রিয় করা যায়Ñমূলত এসবের প্রতি লক্ষ্য রেখেই কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়। ৩ দিনের এই কর্মশালায় সার্বিক সহযোগিতা দেয় আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। কর্মশালার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। কর্মশালায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, কাজ করলে মানুষ ভোট দেবেÑএ কথা ভেবে এখন ঘরে বসে থাকলে চলবে না। বাস্তব কথা, এখন প্রচারের যুগ। নিজেদের ভালো কাজের প্রচারের মাধ্যমে অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। সরকারবিরোধী অপপ্রচার রুখতে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে তরুণদের কাছে টানতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কিভাবে কার্যকরভাবে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করা যায়, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের সামনে তা উপস্থাপন করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ৭ মে প্রথম দিনের কর্মশালায় আওয়ামী লীগের দলীয় ৬০ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। ৮ ও ৯ মে বাকি সংসদ সদস্যরা কর্মশালায় অংশ নেন। কর্মশালার প্রথম দিন সরাসরি উপস্থিত হয়ে এবং পরের দুই দিন বার্তা পাঠিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতো কাজ করার পরও সরকারকে অপপ্রচার সহ্য করতে হয়। এই অপপ্রচার মোকাবিলার জন্য আমাদেরও প্রচার চালিয়ে যেতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুকের সহযোগিতা নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে কাছে টানতে হবে।
বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করার স্বপ্নদ্রষ্টা বিশিষ্ট কমপিউটার বিজ্ঞানী সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমরা দেশের জন্য কাজ তো করছি। এসব যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে তুলে ধরতে পারি, তাহলে কেবল আজকের ভোটাররা নয়, ভবিষ্যতের ভোটাররাও আওয়ামী লীগের ভোটার হয়ে থাকবে। দলের সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে জয় বলেন, সিনিয়ররা অনেকে নিজেদের প্রচার-প্রচারণা করতে চান না। তাদেরকেও প্রচার করতে হবে। এ পর্যায়ে ওয়াশিংটনে কাজ করা তরুণ এ কমপিউটার বিজ্ঞানী জয় বলেন, ‘জানি, টেকনোলজি ব্যবহার করাটা অনেকের জন্য মাঝে মধ্যে একটু কঠিন হয়। আপনারা চেষ্টা করবেন, আপনাদের যতটুকু সম্ভব আমরা সহযোগিতা করবো। আর আপনারা নিজেরা সম্ভব না হলে একজন পিএস নিয়ে নেন, যার কাজ থাকবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেয়া।’
দৃশ্যতই বাস্তবতা উপলব্ধি করে সজীব ওয়াজেদ জয় কর্মশালায় এসব কথা বলেন। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রী ও দলীয় সংসদ সদস্যদের কমপিউটারবান্ধব হতে বলেন। শেখার কোনো বয়স নেইÑমন্ত্রী-এমপিদের এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ-ও বলেন, তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর কমপিউটার শিক্ষক। শেখ হাসিনার কমপিউটারে হাতেখড়ি ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের অনুরোধ মন্ত্রী ও দলীয় এমপিরা খুব একটা আমলে নিয়েছেন বলে দৃশ্যমান হয়নি। এমনও দেখা গেছে কোনো একজন মন্ত্রীর নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই; কিন্তু মন্ত্রীর নামে ফেইক অ্যাকাউন্ট আছে একাধিক। সেসব ফেইক অ্যাকাউন্টে মন্ত্রীর কার্যক্রমের নেতিবাচক দিকগুলোই তুলে ধরা হয়। অথচ মন্ত্রীর কার্যক্রমের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার জন্য মন্ত্রীর নিজস্ব একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। এ জন্যই কর্মশালায় সজীব ওয়াজেদ বলেছেন, আপনাদের (মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও দলীয় এমপি) পক্ষে যদি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা ও তাতে সব সময় সক্রিয় থাকা সম্ভব না হয়, তাহলে একজন পিএস (প্রাইভেট সেক্রেটারি) নিয়ে নেন, যার কাজ হবে ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেয়া।
এটা সবাই স্বীকার করবেন যে, আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতা ও এমপি এমনকি কিছু তরুণ এমপিও দলীয় কর্মকা-, রাজনীতি, উন্নয়ন কর্মকা-ে যতটা অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্যরে পরিচয় দিয়েছেন, প্রযুক্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমে ঠিক ততটা মুন্সিয়ানার পরিচয় দিতে পারেননি। এমনও আছে, কমপিউটার অপারেটিং জানেন না অনেকে, কেউ কেউ কমপিউটারের কি-বোর্ডে আঙুল চাপেননি জীবনেও। সজীব ওয়াজেদ জয় কর্মশালায় সে কথাটিই বলেছেন বারবার যে, আপনারা প্রযুক্তিবান্ধব হোন। আওয়ামী লীগ সরকার গত সাড়ে আট বছরে যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, সেগুলো প্রচার করুন। আওয়ামী লীগ যেসব উন্নয়নমূলক কাজ করেছে এবং করছে সেগুলোর প্রচার থেকে অপপ্রচার বেশি হয় বলেই সজীব ওয়াজেদ জয় কর্মশালায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সিনিয়র নেতা ও দলীয় এমপিদের উদ্দেশে এমন কথা বলেছেন।
কর্মশালার পরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। দলীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এখন থেকেই নির্বাচনমুখী ও আগামী নির্বাচনে দলের জয় সুনিশ্চিত করতে কাজে নেমে পড়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। বৈঠকে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকেই জেলায় জেলায় জনসংযোগে নামার সিদ্ধান্ত নেন সজীব ওয়াজেদ জয়। বৈঠকে জয় বলেন, ‘শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবো। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে সারাদেশে জনসংযোগ করবো। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য জয় পিতৃভূমি দিয়ে জনসংযোগ শুরু করার কথাও বলেন।’ আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি চালুর পক্ষে মত দিয়ে জয় বলেন, এই ব্যবস্থা চালু হলে নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ বন্ধ হবে। কেউ ব্যালট ছিনতাই ও কারচুপি করতে পারবে না।