কলাম

হামিদ মীর একজন পাকিস্তানি এবং রাষ্ট্রটি পাকিস্তান

মাসুদা ভাট্টি : প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, পাকিস্তানিদের তিনি অবিশ্বাস করেন, যদি তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তাও। কথাটি যে মিথ্যে নয় তার প্রমাণ আমরা বারবার পেয়েছি। অন্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তান কী আচরণ করে তা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে কেবলমাত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই যদি পাকিস্তানের আচরণকে আমরা পর্যবেক্ষণ করি তাহলে দেখতে পাই যে, দেশটি যে কেবল ১৯৭১ সালের পরাজয়কে ভুলতে পারেনি তাই-ই নয়, বরং পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার কোনো সুযোগই দেশটি হাতছাড়া করতে রাজি নয়, তা দেশটির শাসন ক্ষমতায় যে বা যিনি কিংবা যে দল বা যে বাহিনীই থাকুক না কেন।
কিন্তু দেশটির সুশীল সমাজেরতো একটু ব্যতিক্রম হওয়ার কথা ছিল, তাই না? যেমনটি হয়েছিল ১৯৭১ সালে। বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেই ঘোর সামরিক আমলেও পাকিস্তানি সুশীল সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছিলেন। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা যায়। যদিও সে মুষ্টিমেয়দের পাকিস্তানের মূলধারা কখনোই সম্পৃক্ত করেনি বরং ‘গাদ্দার’ অভিযুক্ত করে রেখেছে দীর্ঘদিন।
পাকিস্তানিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনা কিংবা পাকিস্তানি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ থেকে আমরা জানতে পারি যে, ১৯৭১ সালে যে বা যারাই বাংলাদেশের পক্ষে সামান্য বক্তব্য দিয়েছেন তাদেরই পাকিস্তান আসলে সঠিকভাবে গ্রহণ করেনি। দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রের অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে জানা যায়। সত্য ও ন্যায়ের জন্য এহেন ত্যাগ স্বীকারকারী পাকিস্তানিদের সম্মাননা প্রদান করে বাংলাদেশ নিজেকে মহান প্রমাণিত করেছিল এবং শেখ হাসিনা তার দূরদর্শী নেতৃত্বেরও প্রমাণ দিয়েছিলেন ২০১৩ সালে। মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দেয়া বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা দিয়ে বাংলাদেশ তাদের কাছে এদেশের মানুষের স্বাধীনতার ঋণ একটু হলেও শোধ দেয়ার প্রয়াসী হয়েছে। সে অনুযায়ী পাকিস্তানের ৫ জন বুদ্ধিজীবী যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেছিলেন (যদিও তারা কেউই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেননি, বলেছিলেন এদেশের মানুষের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর করা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা। তাদের অনেকেই পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বা পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য একতরফাভাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করে কলম ধরেছেন) তাদেরকে বাংলাদেশ সম্মানিত করে। তাদেরই একজন ওয়ারিশ মীর, যিনি সে সময় পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াতেন এবং ২৫ মার্চের গণহত্যার পর একদল ছাত্র নিয়ে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন পরিস্থিতি দেখতে। সে সময়ের জন্য এটি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ ছিল তাতে কোনোই সন্দেহ নেই।
ওয়ারিশ মীরের পক্ষ থেকে সম্মাননা পদকটি গ্রহণ করেন তারই পুত্র হামিদ মীর, যিনি পাকিস্তানে এ সময়কার একজন নামকরা সাংবাদিক। পদক গ্রহণকালে তিনি বাংলাদেশের বাইরে পাকিস্তানেও যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম এই ভেবে যে, না পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী মহল একেবারে নষ্ট হয়ে যায়নি, এখনও কেউ কেউ ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে থাকেন। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিকগুলো যদি কেউ নিয়মিত দেখেন তাহলে দেখবেন যে, প্রায়ই বাংলাদেশ নিয়ে সেখানে নানাবিধ বিশ্লেষণ থাকে। বিশেষ করে ১৯৭১ সাল নিয়ে, পাকিস্তানের ভেঙে যাওয়া নিয়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব লেখা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ১৯৭১ সাল পাকিস্তানের ইতিহাসে অমোচনীয় কালি দিয়ে লেখা একটি সময়কাল। এই সময়কে কেউই ভুলতে পারছেন না, না দেশটির শাসকশ্রেণি, রাজনীতিবিদ বা সেনাবাহিনী না দেশটির বুদ্ধিজীবীরা। এখনও তাদের বেশির ভাগের কাছেই ১৯৭১ মানেই ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিজয় এবং আধা-মুসলিম ‘মাছলিখোর’ বাঙালির গাদ্দারি। এমন অবস্থায় শেখ হাসিনার সরকার যখন বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে তখন পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে। এমনকি একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকরের পর দেশটির সংসদ একটি রেজুল্যুশন পাস করে, যেখানে মূলত বাংলাদেশের নিন্দা করা হয়। বাংলাদেশ তার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। লক্ষ্য করা যায় যে, বাংলাদেশে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক যেন কোনোভাবেই ভালো করা সম্ভব হয় না। এ এক ভয়াবহ সমীকরণ, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনা নিয়ন্ত্রিত শাসন ব্যবস্থা কোনোভাবেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শাসনকে মেনে নিতে পারে না। প্রথমত তারা বাংলাদেশে যাতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসতে পারে তার জন্য জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করে। এ সময় স্মরণ করতে পারি ২০০১ সালের কথা যখন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার বাইরে রাখার জন্য পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা প্রকাশিত সংবাদ মতেই প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা দিয়েছিল এদেশে তাদের এজেন্টদের। আবার যে মুহূর্তে এদেশে আওয়ামী লীগের বাইরে বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় বসে ঠিক সেই মুহূর্তেই বাংলাদেশ হয়ে ওঠে আইএসআই’র ঘাঁটি, তারা নিজেদের মতো করে এদেশে পরিচালনা করে তাদের ভারতবিরোধী তৎপরতার সবচেয়ে বড় ক্যাম্পটি। ফলে এদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় কারা থাকবে তার ওপর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন থাকবে তা অনেকটাই নির্ভর করে।
বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে, একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করা বিদেশি বন্ধুদের সম্মানিত করছে, যাদের মধ্যে পাকিস্তানিরাও রয়েছে, এটি পাকিস্তান সরকার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। দেশে-বিদেশে সর্বত্র শেখ হাসিনা সরকারের বিরোধিতা অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। একজন সাংবাদিক হিসেবে বিষয়টি কোনোভাবেই হামিদ মীরের অজানা থাকার কথা নয়। তবু পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন না ঘটায় শেখ হাসিনা সরকারের নয়, ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার নিন্দা করে হামিদ মীর তার বাবাকে দেয়া সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রথম প্রশ্ন এখানে তোলা উচিত যে, সম্মাননাতো তাকে দেয়া হয়নি, তিনি সেটি গ্রহণ করেছেন তার বাবা ওয়ারিশ মীরের পক্ষ থেকে, তাহলে তিনি সেটি ফিরিয়ে দেয়ার এখতিয়ার রাখেন কি? দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো একই সময়ে পাকিস্তানের আরো যারা সম্মাননা নিয়েছিলেন তাদের কেউতো এই সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি; তাহলে হঠাৎ কেন হামিদ মীরের এরকম দেশপ্রেম উথলে উঠলো এবং তিনি বাংলাদেশের জনগণের দেয়া এই সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিলেন?
আসুন পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে একটু আলোচনা করা যাক, তাতে হয়ত বিষয়টি এক প্রকার পরিষ্কার করা যাবে।
এই মুহূর্তে পাকিস্তান পৃথিবীর অন্যতম একটি অপাঙক্তেয় রাষ্ট্র, কোনো ক্ষেত্রেই যার কোনো অগ্রগতি আছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায় না। উল্টো দেশটির শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম এবং দেশটির ভেতর বিচ্ছিন্নতাবাদী স্বাধীনতা আন্দোলন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, একই সঙ্গে ধর্মীয় সন্ত্রাস দেশটিকে পুরোপুরি পর্যুদস্ত করে তুলেছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশের যোগ না দেয়ার ঘটনা পাকিস্তান হজম করতে পারেনি, কারণ এর ফলে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিতই হয়নি। শুধু তাই-ই নয়, পাকিস্তান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যতবার অহেতুক মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে বা যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ততোবার তার কড়া জবাব দিয়েছে। ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এদেশে সন্ত্রাসে মদদ দেয়া থেকে শুরু করে নানাবিধ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার চাইলেও সম্পর্কোন্নয়ন করতে পারবে না। কারণ সম্পর্কের উন্নয়নে যেসকল অনুঘটকের কাজ করে দু’দেশের মধ্যে সেগুলোর ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর এবং ভারতে শেখ হাসিনাকে অভাবনীয় সৌহার্দ্যে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বরণ করা পাকিস্তানের জন্য চরম অস্বস্তির একটি বিষয় ছিল। কারণ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কেরও ভয়ঙ্কর অবনতি ঘটেছে, দু’দেশ প্রায় যুদ্ধাবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।
ভারত সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া সেনাকর্মকর্তাদের সম্মাননা প্রদান করেন একটি বিশাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রাধান্য লাভ করে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমেও এই খবর প্রকাশিত হয় কিছুটা ক্ষোভ ও উষ্মার সঙ্গে, যা পাকিস্তানের সেনা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক সরকার খুব ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। বিশেষ করে সেই সব ভারতীয় সেনাকর্মকর্তা যারা ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে একত্রে লড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে পরাজিত করেছিলেন। তাদেরকে সম্মানিত করে শেখ হাসিনা আসলে ১৯৭১ সালের পরাজয়ের গ্লানিকে আরো উসকে দিয়েছেন বলে স্পষ্ট হয়েছে পাকিস্তানিদের কাছে।
এই সময়ে জিও টিভির মতো একটি টিভিতে সাংবাদিকতা করা এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্বপ্ন দেখা কোনো সাংবাদিকের পক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রক্ষা করে চলাটা খুব বেশি কাক্সিক্ষত নাও হতে পারে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরে থেকে ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করা সেনাবাহিনীর কাছে। ধারণা করতে অসুবিধা হয় না যে, হামিদ মীরসহ পাকিস্তানের অন্য যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা লাভ করেছেন তাদের ওপর এক ভয়ানক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এই সম্মাননাকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য, যা আগেও হয়েছিল বলে বোঝা যায়। কিন্তু অন্যরা সে চাপের কাছে নতি স্বীকার না করলেও হামিদ মীর হঠাৎ তার দেশপ্রেমের প্রমাণ দেয়ার জন্য বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে দেয়া এই সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পক্ষান্তরে তিনি বাংলাদেশের জনগণকেই আসলে অপমান করেছেন এই ঘোষণা দিয়ে। যদিও বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণকে অপমান করা পাকিস্তানের জন্য খুবই সাধারণ ও স্বাভাবিক ঘটনা। অতীতেও এ কাজ হয়েছে ভবিষ্যতেও হবে, কেবল যখন এদেশে বিএনপি-জামায়াতের মতো পাকিস্তানপন্থি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকবে তখন এই অপমানকে সরকার অপমান মনে করবে না, কারণ যে গরু দুধ দেয় তার লাথিও নাকি ভালো লাগে!
যাহোক, ব্যক্তিগতভাবে হামিদ মীরের মতো সাংবাদিক বা পাকিস্তানের সুশীল সমাজের নামকরা অনেক প্রতিনিধিকেই বাংলাদেশ প্রশ্নে বে-তাল হতে দেখেছি। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় একবার পাকিস্তানি সাংবাদিকদের একযোগে আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম বাংলাদেশে পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক সহিংসতাকে উসকে দেয়ার কথা বলায়। যতদূর স্মরণ করতে পারি সেখানে হামিদ মীরও উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং পাকিস্তানের সুশীল সমাজ বা রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের কাছ থেকে এরকমটিই কাম্য ছিল, যদিও কোনো রাষ্ট্রের প্রতি এরকম ধারণা পোষণ করা আধুনিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত, কিন্তু কী করা যাবে, রাষ্ট্রটি যে পাকিস্তান। যে কারণে শুরুতেই হুমায়ুন আজাদের একটি উক্তির উদ্ধিৃতি দিয়েছি। হামিদ মীর একজন পাকিস্তানি এবং তিনি বাংলাদেশের জনগণকে খাটো করার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করবেন বলে বিশ্বাস করার কোনো কারণ এখন পর্যন্ত ঘটেনি। ঘটলে তখন আমার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেব করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে।