প্রতিবেদন

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বাংলাদেশি তরুণরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে বাংলাদেশি তরুণরা। আগে এই পেশায় শিতি বেকার তরুণদের খুব একটা পদচারণা ছিল না। কিন্তু সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে এখন অনেকেই অনলাইনে ঘরে বসে বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ করে দিয়ে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করছে। আবার আগে যারা কাজ করত তাদের মধ্যে সফল ছিল মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংসহ নানা প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ধরনের দতা উন্নয়নমূলক প্রশিণ পেয়ে আউটসোর্সিংয়ে সফলদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। বিশেষ করে গ্রামীণ শিতি তরুণরা এখন স্বাবলম্বী হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রতি বছর অসংখ্য তরুণকে দেয়া হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিভিন্ন প্রণোদনা। তাদের মাধ্যমে অনুপ্রাণিতও হচ্ছে অনেকে।
তাদের একজন টাঙ্গাইলের কলেজ শিার্থী সৈকত হোসেন। ছোটবেলা থেকে প্রযুক্তির প্রতি প্রেম থেকে ফ্রিল্যান্সার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের প্রশিণ গ্রহণ করে তিনি এখন পুরোদস্তুর ফ্রিল্যান্সার। নিজের বেকারত্ব ঘুচিয়ে সংসারে সচ্ছলতা এনে দিয়েছে তার আউটসোর্সিং দতা। প্রশিণ মানুষের সামর্থ্য বাড়িয়ে দেয় নিজের জীবনের এমন উপলব্ধি বর্ণনা করে সৈকত বলেন, ‘প্রশিণ গ্রহণের পর এখন আমি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং গুগল অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ করছি। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমি প্রথম ৩০ ডলার আয় করেছিলাম সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং থেকে। এখন পর্যন্ত ২০০ ডলার আয় করেছি। তথ্যপ্রযুক্তি খাত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং আশা করছি সামনে আরো অনেক সুযোগ আসবে।
বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে সফল ১০০ জন শিার্থী নিয়ে ‘সাকসেসফুল ট্রেইনি মিট আপ’ শীর্ষক কর্মশালা আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী। কর্মশালায় আরো বক্তব্য দেন লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংয়ের প্রকল্প পরিচালক মির্জা আলী আশরাফ, ডিজিকনের প্রধান নির্বাহী ওয়াহিদ শরিফ, বেইজ টেকনোলজিসের সিইও রিয়াজ ইসলাম এবং এমসিসির প্রধান নির্বাহী এস এম আশ্রাফ আবিরসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সবাই ৫০ দিনের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ব্যাচে প্রশিণ সম্পন্ন করার পর আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে আয় করছেন। কর্মশালায় গ্রাফিকস ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন ও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ক ফ্রিল্যান্সারদের বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিদেশে কাজ করে অর্থ উপার্জনের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিকূলতা জয় করার কথা তুলে ধরেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রশিণ গ্রহণকারীরা। শিার্থীদের উৎসাহ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ তোমাদের পাশে থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ শুধু প্রশিণ দিয়েই নয়, মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের পরিচালক মির্জা আলী আশরাফ বলেন, আমরা তরুণদের দতা উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছি। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ৫৫ হাজার জনকে যথাক্রমে বেসিক আইসিটি, টপ-আপ, ফিউচার লিডার এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিণ প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।