প্রতিবেদন

আমিরাতে চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন ৭ লাখ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আমিরাতে চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি ৭ লাখ কর্মী। কর্মী নিয়োগ বিষয়ে আগামী মাসে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া দেশটিতে কর্মরত ৭ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর আকামা (চাকরি) পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে আমিরাতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের ইচ্ছেমতো চাকরি পরিবর্তন করতে পারবেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শেষে ২৩ মে তার কার্যালয়ে গণমাধ্যমের কাছে সফরের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশনমন্ত্রী সাকর গোবাশ সাঈদ গোবাশের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। দ্বিপীয় বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক কর্মী নেয়া ও কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সরকারের কাছে বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র পাঠানো হবে বলে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন। এই চাহিদার অনুকূলে কত সংখ্যক কর্মী তারা নেবে সে বিষয়টি ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে ঠিক হবে। আগামী মাসেই উচ্চ পর্যায়ের আরব আমিরাতের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসবে। তারা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে ঠিক করবেন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া কী হবে। তাছাড়া মানবসম্পদমন্ত্রী গোবাশ আশ্বাস দিয়েছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের আকামা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে একযোগে কাজ করছে। উভয় দেশ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামসমূহে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সুষ্ঠু ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের বিভিন্ন ইস্যুতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। এতে কর্মীদের স্বার্থ ও অধিকার সুরা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় বিদেশী কর্মীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জারিকৃত সর্বশেষ ডিক্রিসমূহের উদ্যোগকে প্রশংসা করেন। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে আরও অধিক সংখ্যক দ কর্মী নেয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান ও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখের অধিক কর্মীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি নারী-কর্মী দেশটিতে কর্মরত রয়েছেন।