কলাম

উন্মুক্ত মতামত

কোরআন ও হাদিসের আলোকে রোজা পালন করুন

রোজা ও হজ পালন করতে হয় চান্দ্রমাসের হিসাব অনুযায়ী। একজন মুসলমান যে দেশেই অবস্থান করুন, সেখানে নতুন চাঁদ দেখে পরদিন রমজানের রোজা রাখবেনÑএটাই ইসলামের বিধান। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের হিসাব ঠিক রাখার জন্য তোমরা শাবানের চাঁদের হিসাব রাখবে। সুতরাং কোরআন ও হাদিসের আলোকে কোনো দেশে চাঁদ দেখা না গেলেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা শুরু ও ঈদ পালন করার কোনো বিধান নেই। বাংলাদেশে কোনো কোনো অঞ্চলের মুসলমানরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা শুরু ও ঈদ পালন করে থাকেন। কিন্তু এদেশের বিজ্ঞ আলেমগণ এটা কোনোভাবেই সমর্থন করেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বরাবরই প্রতি বছর কোরআন ও হাদিসের আলোকে চাঁদ দেখা সাপেে রোজা শুরু ও ঈদের দিন ঘোষণা করে থাকে। তাই যারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা শুরু ও ঈদ পালন করে থাকেন, তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধÑআপনারা বিষয়টি কোরআন ও হাদিসের আলোকে আরো গভীরভাবে অনুধাবন করুন।
মো. আবুল হোসেন সরকার
সহকারী অধ্যাপক
কুমিল্লা সরকারি সিটি কলেজ
কুমিল্লা

দুই মেয়রের কাছে চাওয়া

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র দাবি করেছেন, এক এক করে প্রতি মাসেই বদলে যাবে ঢাকা। একথা সত্য যে, দুই মেয়র নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দৃঢ় বিশ্বাস, একে একে তারা ঢাকাকে একটা নির্মল, পরিবেশবান্ধব, বসবাস উপযোগী আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন করে দিতে পারবেন নগরবাসীকে। তবে তাদের কাছে আমাদের ছোট্ট একটু চাওয়া। এর আগে বলে নিইÑগ্যাস না থাকলে চিড়া-মুড়ি খেয়ে থাকা যায়। বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে তালপাখা দিয়ে বাতাস করে শীতল ছোঁয়া মেলে। রাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর অভাব পূরণ করা যায়। কিন্তু রাস্তায় বের হলে যানজট বা জ্যামে পড়লে গরমে অস্থিরতা বাড়ে, বড় যন্ত্রণা লাগে, অসহ্য তো বটেই, সময়েরও হয় ব্যাপক অপচয়। হ্যাঁ বলছিলাম সকল সমস্যার আগে এবার যানজট সমস্যা দূর করুন। কিছুদিন আগে এক সকালে সাড়ে ৫টায় সদরঘাট থেকে সিএনজি অটোরিকশায় উঠে ৩০ মিনিটের মধ্যে পল্লবীতে এসে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু যানজটে পড়ে প্রতিনিয়ত পল্লবী থেকে সদরঘাট পৌঁছতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। সুতরাং দিনের অন্যান্য সময়ে পল্লবী থেকে সদরঘাটে পৌঁছতে ৪০ থেকে ৬০ মিনিটের বেশি সময় যাতে না লাগে এইটুকুই ঢাকার দুই মেয়র মহোদয়ের নিকট চাওয়া।
লিয়াকত হোসেন খোকন
রূপনগর, ঢাকা

বানান সংশোধন করুন

কমলাপুর রেলস্টেশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ট্রেনযাত্রীরা নামাজ আদায় করে থাকেন। আর এ মসজিদে লেখা আছে নানাবিধ নির্দেশনা। যেমন একটি নির্দেশনা রয়েছেÑদরজায় দাক্কা দেবেন না।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশনের জামে মসজিদে ধাক্কা শব্দটি কেন দাক্কা রূপে লেখা হয়েছে তা বোঝা মুশকিল। এমন একটি ভুল শব্দ মসজিদের পরিচালনা কমিটির চোখ কিভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে? অবিলম্বে দাক্কা বানানটি সংশোধন করে ধাক্কা লেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
শামসুল করীম খোকন
তেজগাঁও, ঢাকা

পরীার্থীর অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে

গত ১৯ মে ২০১৭-তে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে এবং পরে তা প্রমাণিত হয়। পরীার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এটি স্বীকারও করেছেন। এর আগে ২১ এপ্রিল ফাঁস হয় রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা পদের পরীার প্রশ্নপত্র। পাবলিক পরীার পাশাপাশি চাকরির পরীার প্রশ্নপত্রও যেভাবে ফাঁস হতে শুরু করেছে তাতে একে জাতীয় সমস্যা হিসেবে অভিহিত করা যায়। অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার পরীার্থীর অংশগ্রহণের কথা ছিল। সকালের শিফটের পরীা বাতিল আর বিকেলের শিফটের পরীা স্থগিত করার কারণে সারাদেশ থেকে ঢাকায় পরীা দিতে আসা এই পরীার্থীদের একটি দিনের সমস্ত তির দায়ভার কে, কিভাবে নেবে? এেেত্র বেকার চাকরিপ্রার্থীদের স্বপে পরীা গ্রহণ নীতিমালা প্রণয়ন করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে কোনো পরীা বাতিল হলে পরীার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের দায় সুনির্দিষ্ট হতে হবে। শুধু তা-ই নয়, পরীার্থীদের স্বার্থ এখানে সবার আগে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ বাতিল বা স্থগিত হওয়া পরীা পরবর্তী সময়ে নেয়া হলেও লাখ লাখ বেকারের দুর্ভোগের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।
যেহেতু অধিকাংশ পরীা ঢাকাতে হয় তাই সারাদেশ থেকে পরীার্থীদের সময়, শ্রম ও অর্থ খরচ করে ঢাকাতে আসতে হয়। এ অবস্থায় পরীা বাতিল হলে তাদের তিপূরণ পাওয়ার অধিকার, নাগরিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে। কারণ দৈনিক ভাতা ও ভ্রমণভাতা না দেয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকলেও তা শুধু নির্দিষ্ট পদে, নির্দিষ্ট দিনের পরীায় অংশগ্রহণের জন্য। যখনই ওই পরীা বাতিল বা স্থগিত হচ্ছে তখনই পরীায় অংশগ্রহণকারী তার তিপূরণ দাবি করতে পারবেন। এমনটি করা গেলে পরীার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও সরকারের দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হবে।
সাজ্জাদ হোসেন রিজু
মহিলা কলেজ পাড়া
ঝিনাইদহ

চিকিৎসাভাতা বাড়িয়ে সময়োপযোগী করা হোক

অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের সময় তাদের পেনশন শতভাগ সমর্পণ করেছেন। এটা অবশ্য তারা এমনি করেননি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, মেয়ের বিয়ের খরচ ও অন্যান্য প্রয়োজনে তারা তা করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে তারা শুধু চিকিৎসাভাতা হিসাবে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা পান। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কেউ না কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। ওষুধপত্রের যা দাম, ডাক্তারদের যে ফি এবং পরীা-নিরীার যে খরচ তাতে এই টাকা দিয়ে কিছুই হয় না। তাই ৭০ বছর বয়সের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর চিকিৎসাভাতার পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
ইদ্রিস আলী
উপশহর, বগুড়া