প্রতিবেদন

জাইকা কখনও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করবে না- শিনিচি কিতাওকা, জাইকা প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাপান আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা (জাইকা) বাংলাদেশে তাদের উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে পুনরায় আশ্বস্ত করে বলেছে, জাইকা কখনও বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করবে না। জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. শিনিচি কিতাওকা ২৫ মে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাাৎকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে এবং জাইকা কখনোই ঢাকার সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করবে না।
ড. শিনিচি কিতাওকা বৈঠকে গত বছর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী পদেেপ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর আপনার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।
জাইকা প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে আপনার সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, জনগণের দৃষ্টিশক্তি উপো করা সহজ নয় এবং আপনার এ পদপেটি যথার্থ হয়েছে। জাইকা প্রেসিডেন্ট এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শিনিচি কিতাওকা বলেন, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন দেখে আমি অভিভূত। আপনি অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আজকের এ অবস্থানে এসেছেন এবং আমরাও বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পেরে খুবই আনন্দিত।
জাইকা প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সহস্রাব্দ উন্নয়ন ল্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, আমরা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিা খাতে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক। বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মুসলিমরা জাপানের সঙ্গে দীর্ঘদিন অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করে আসছে এবং তারা কোথাও কোনো বিঘেœর সৃষ্টি করছে না।
প্রধানমন্ত্রী গত বছর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৭ জাপানি নাগরিকের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন। সন্ত্রাসবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সকল ধরনের পদপে গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী প্রচারের অংশ হিসেবে দেশের সকল বিভাগের সকল শ্রেণি-পেশার নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্স করে তাদের মধ্যে এই সামাজিক ব্যাধিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতেও তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই প্রচারের ফলে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। এই সামাজিক ত দুটি সারাতে এর অর্থের উৎস এবং অস্ত্রের জোগান বন্ধের ওপরও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দেশ নেই, কোনো ধর্ম নেই, একজন সন্ত্রাসীর পরিচয় সে কেবলই একজন সন্ত্রাসী। দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম যার যার হলেও উৎসব সবার। এদেশে সকল ধর্ম ও মতের মানুষ নানা ধর্মীয় উৎসব এক সঙ্গে পালন করে থাকে। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাপান সফরের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাপানের জন্য তাঁর হৃদয়ে সব সময়ই একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন পদেেপর কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের একমাত্র ল্যই সমাজের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন এবং তাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলোর সংস্থান করা। সরকারের সামষ্টিক অর্থনীতির সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গেল অর্থবছরে আমাদের জিডিপি অর্জিত হয়েছে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং তার আগের অর্থবছরে যা ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।
এ সময় জাইকা প্রেসিডেন্ট ঢাকার রাজপথে যানজটের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সামর্থ্যও বাড়ছে এবং তারা বেশি করে গাড়ি ক্রয় করছে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে এবং জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট জাইকা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. শিনিচি কিতাওকা। বাংলাদেশে জাইকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেণ এবং গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় দলটি ৩ দিনের সফরে ২৪ মে বাংলাদেশ আসে।