প্রতিবেদন

ঢাবি সিনেট শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে সরকারপন্থি নীল দলের নিরঙ্কুশ বিজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ৩৫ জন শিক প্রতিনিধি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দল ৩৩টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে। অপরদিকে বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দল।
গত ২২ মে দুপুরে ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন এ ফল ঘোষণা করেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। এবারের সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ৫৯০ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৪৪৪ জন। নীল দল থেকে এবার ৩৪ জন ও সাদা দল থেকে ৩৫ জন প্রার্থী ছিলেন। নতুন নির্বাচিত সিনেটের সদস্যদের ভোটেই পরবর্তী ঢাবি উপাচার্য নির্বাচিত হওয়ার কথা। আগামী আগস্টে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের মেয়াদ শেষ হবে।
নীল দল থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন নীল দলের আহ্বায়ক এবং পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাজমা শাহীন, শিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এজেএম শফিউল আলম ভূঁইয়া, ইতিহাস বিভাগের আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মাদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ইসতিয়াক মঈন সৈয়দ, কিনিক্যাল ফার্মাসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক এসএম আব্দুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক কাজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তৌহিদা রশীদ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মুবিনা খন্দকার, লেদার ইঞ্জিনিয়ানিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আফতাব আলী শেখ, জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মো. আফতাব উদ্দিন, থিওরিটিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুস ছামাদ, ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান, শিা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. ফজলুর রহমান, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মাদ আলী আক্কাস, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা, তড়িত ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক সুব্রত কুমার আদিত্য, ম্যানেজমেন্ট ইনফর্মেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এসএম রেজাউল করিম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী হানিয়াম মারিয়া, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পাপিয়া হক, রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লাফিফা জামাল, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুসরাত জাহান। সাদা দল থেকে নির্বাচিত দুজন হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান।
এ নির্বাচন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক নাজমা শাহীন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে শক্তি আবারও ক্ষমতায় থাকবে এটা প্রমাণিত হয়েছে। নীল দল হারতে পারে না, কারণ দলের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও দলের শিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সক্রিয়ভাবেই নির্বাচন করেছেন।
সাদা দলের আহ্বায়ক ও মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান বলেন, আমাদের সম্মানিত ভোটাররা যেটা ভালো মনে করেছেন সেটা রায় দিয়েছেন। তাই ওই রায়ের ওপর আমরা শ্রদ্ধাশীল। গত কয়েক বছরে অনেক নতুন শিক নিয়োগ দিয়েছেন নীল দলের শিকরা, সেটার প্রতিফলন এ ভোটে প্রতিফলিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এবারের সিনেট নির্বাচনে নানা নাটকীয়তার জন্ম দেয় নীল দল। প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে বিভক্তির মুখে পড়ে দলটি। নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক নাজমা শাহীন ও শিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় দলটি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৬ মে মাকসুদ কামালের নেতৃত্বাধীন প্যানেলটি বাতিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক কামাল উদ্দীন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নীল দলের শিকদের এক বৈঠকের পর আহ্বায়ক নাজমা শাহীনের প্যানেলকে সমর্থন জানান অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালের অনুসারীরা।