প্রতিবেদন

নিহত ৩ বাংলাদেশি শান্তিরীকে সম্মাননা জানালো জাতিসংঘ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘ শান্তিরা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত বাংলাদেশের ৩ জন শান্তিরীকে সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য দ্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল প্রদান করেছে জাতিসংঘ। একই সম্মান দেয়া হয়েছে বিশ্বের ৪৩টি দেশের আত্মোৎসর্গকারী ১১৭ জন শান্তিরীকে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ২৪ মে আন্তর্জাতিক শান্তিরী দিবস উপলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মেডেল দেয়া হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টেনিও গুতেরেজ বাংলাদেশসহ ৪৩টি দেশের স্থায়ী প্রতিনিধির হাতে এ মেডেল তুলে দেন।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতিসংঘ শান্তিরা কার্যক্রমের মালি মিশনে কর্মরত অবস্থায় ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক আবুল বাসার ও একই মিশনে কর্তব্যরত বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল মোতাহের হোসেন এবং একই বছর ১৫ মে সামিদুল ইসলাম নিহত হন।
বাংলাদেশের প থেকে এই মেডেল গ্রহণ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রতিরা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খান ফিরোজ আহমেদসহ জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশ সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মহাসচিব গুতেরেজ কর্তব্যরত অবস্থায় জীবনদানকারী সামরিক ও বেসামরিক শান্তিরী কর্মীদের আত্মার স্মরণে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের উত্তর লনে অবস্থিত পিসকিপিং মেমোরিয়াল সাইটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সে সময় জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আজ যাদেরকে আমরা সম্মান জানালাম তারা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলোকে রা এবং সংঘাত থেকে শান্তিতে উত্তরণের মতো কঠিন কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তিনি বিশ্ব শান্তির জন্য জীবনদানকারী এসব শান্তিরী কর্মীর সর্বোচ্চ অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এর আগে আত্মদানকারী শান্তিরীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ শান্তিরা কার্যক্রমে বাংলাদেশ একটি অন্যতম বৃহৎ শান্তিরী সরবরাহকারী দেশ। ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত শান্তিরা মিশনে কর্তব্যরত অবস্থায় বাংলাদেশের ১৩৩ জন শান্তিরী মৃত্যুবরণ করেন।