প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনো মানুষ অনাহারে মারা যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে আবহাওয়াজনিত যে বিপর্যয় ঘটেছে এবং তার ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণে অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নিজেও একাধিকবার হাওরাঞ্চল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে বন্যাকবলিত হাওরাঞ্চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আরো তৎপর হওয়ার ব্যাপারেও নির্দেশনা দিয়েছেন। হাওরের মানুষদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর এমন কড়া দিকনির্দেশনার পর তৎপর হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্টরা। হাওরাঞ্চল সংক্রান্ত সবগুলো মন্ত্রণালয় তাদের কার্যক্রম হাওরকেন্দ্রিক করেছে। হাওর অধিদপ্তরের ডিজি সশরীরে হাওরে অবস্থান করে এবং সরাসরি তদারকি করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওরে বিপর্যয়ের অব্যবহিত পরই ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ সফর করেন। তিনি সেখানে নিজ হাতে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। পরবর্তীতে গত ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী হাওর অধ্যুষিত নেত্রকোনা জেলা সফর করেন। নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কোনো কৃষক এমনকি কোনো মানুষই অনাহারে মারা যাবে না। হাওরের তিগ্রস্ত মানুষের জন্য তাঁর সরকার ইতোমধ্যে নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত কৃষিঋণ আদায় স্থগিত রাখা হয়েছে। এ সময়ের জন্য কৃষিঋণের সুদও মওকুফ করা হয়েছে। ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে তিগ্রস্তদের প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল এবং নগদ ৫০০ করে টাকাও দেয়া হচ্ছে।
খালিয়াজুরীতে বন্যার্তদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালের প্রথম আমি মতায় এসে বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে ঋণ দিয়েছিলাম। এখন ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার কৃষক ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। হাওরাঞ্চলের একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। হাওরাঞ্চলে বন্যা দেখা দেবেই। কিন্তু বন্যায় তিগ্রস্ত হয়ে কেউ যেন না খেয়ে এবং গৃহহারা হয়ে না থাকে, সেটাই আমাদের দেখার কাজ। হাওরবাসীর দুঃখ লাঘবে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ১৮ মে নেত্রকোনার বন্যায় তিগ্রস্ত হাওরবাসীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ উপলে খালিয়াজুরী কলেজ মাঠে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রমুখ।
এ বছর মার্চ মাসের আগাম বৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আগাম বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক ফসলহানি হয়। নষ্ট হয় হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান। মৎস্য সম্পদও তির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ এপ্রিল সবচেয়ে তিগ্রস্ত জেলা সুনামগঞ্জে যান। বন্যার পর ১৮ মের সফরটি হাওরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় সফর। খালিয়াজুরীতে ছোট-বড় ৮৯টি হাওর আছে। এ হাওরগুলোর ২০ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। বন্যায় হাওরগুলোর বাঁধ ভেঙে পুরো জমির ফসলই নষ্ট হয়। নেত্রকোনায় বোরোর আবাদ হয় ১ লাখ ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে। তিগ্রস্ত হন ১ লাখ ৬৭ হাজার কৃষক।
খালিয়াজুরী কলেজ মাঠে নামার আগে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি ওই কলেজের মাঠে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেন। ভাষণ শেষে জনগণের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ১ হাজার ২০০ মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২০ জনের মাঝে প্রত্যেককে ৩৮ কেজি চাল এবং ১ হাজার টাকা করে দেন প্রধানমন্ত্রী। ত্রাণ বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্পিডবোটে করে নগর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত হাওর এলাকা বল্লভপুর পরিদর্শন করেন। ওই সব এলাকা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যাদুর্গত ১২০টি পরিবারের মধ্যে তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ করেন।
ত্রাণ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা যেমন হাওর পাড়ের মানুষ, আমি বাঁওড় এলাকার; তাই আমি হাওরবাসীর দুঃখ বুঝি। এ জন্য বর্তমান সরকার হাওরবাসীর দুঃখ মোচনে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। হতদরিদ্র মানুষের জন্য ১০ টাকা কেজির যেমন চালের ব্যবস্থা করে দিয়েছি, তেমনি বিনা জামানতে কৃষকদের ঋণ সুবিধা পেতে ১০ টাকা জামানত দিয়ে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলারও সুযোগ করে দিয়েছি। কৃষিতে আমরা ভুর্তকি দিচ্ছি। এ কারণে কৃষকরা আজ অতি সহজে কৃষি উপকরণ পাচ্ছে। দেশে বর্তমানে খাদ্যের কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে থেকে আরও খাদ্য সরবরাহ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকার শিার্থীরা বন্যার সময় যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে স্কুলে যেতে পারে না; সেজন্য সেখানে আমরা বিশেষ আবাসিক স্কুল করে দেব। আওয়ামী লীগ সরকার শিার জন্য ব্যাপক কাজ করেছে। স্কুল-শিার্থীদের আমরা বিনামূল্যে বই দিয়েছি। ১ কোটি ৭৩ লাখ শিার্থীকে আমরা উপবৃত্তি দিচ্ছি। প্রযুক্তিগত শিার সম্প্রসারণ করছি। স্কুলে স্কুলে ডিজিটাল ল্যাবরেটরি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলে বা অন্যান্য স্থানে আগাম বন্যা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বন্যার য়তি কমিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে যে সমস্ত ধান উৎপাদন করা যাবে তার উদ্যোগ নিতে হবে এবং এ জন্য কৃষিমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ফসল রার জন্য হাওরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। হাওর এলাকার খালের নাব্য ফিরিয়ে আনতে এবং নদী ছাড়াও হাওরের ভরাট অংশ খনন করা হবে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত মাছের বাজারজাতেরও ব্যবস্থা করা হবে। হাওর উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে হাওরের উন্নয়নের জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করা হবে।
এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বয়স্ক-ভাতা, বিধবা-ভাতা চালু ছাড়াও স্বামী পরিত্যক্তাদের জন্যও ভাতা দিচ্ছি। ৭ লাখ ৫০ হাজার প্রতিবন্ধীকেও ভাতা দিচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদেরও ভাতা দেয়া হচ্ছে। সরকার প্রত্যেক উপজেলায় ১টি করে স্কুল ও কলেজ সরকারীকরণ করেছে। এখন প্রত্যেক উপজেলায় সরকারি খরচে আধুনিক মসজিদও নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নেত্রকোনার খালিয়াজুরীসহ সব উপজেলার কেউ যাতে গৃহহীন না থাকে তার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিটি উপজেলার ভূমিহীনরা আশ্রয় পাবে ও গৃহ পাবে। গৃহায়ন তহবিল থেকে এ কার্যক্রম চলবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, স্বাধীন বাংলাদেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না। আওয়ামী লীগ যখন মতায়, তখন আমরা সে ব্যবস্থা করব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার কাজ করছি। বঙ্গবন্ধুর নৌকা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে নৌকার পে জনগণকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নৌকায় ভোট দিলে মানুষ খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা পায়। সুখে-শান্তিতে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। মানুষের কল্যাণই আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য। তিনি দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ সমস্ত জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যুব সমাজকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী খালিয়াজুরী কলেজ মাঠে এবং নগর ইউনিয়নের বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম জানিয়েছিলেন, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চল প্লাবিত হয়। হাওরাঞ্চলের ৬ জেলার মধ্যে বিশেষ করে ৪টি (সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট) জেলা অত্যন্ত তিগ্রস্ত হয়। বেশির ভাগ কৃষকের সব শেষ হয়ে গেছে। সেখানকার মানুষ একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল আর ১০-১২ দিনের মধ্যে ফসল তারা ঘরে তুলতে পারতেন। আগাম বন্যা ও বৃষ্টির কারণে তা ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু করে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩ মাস ১০ দিন অর্থাৎ ১০০ দিনের কর্মসূচি সরকার হাতে নিয়েছে। সরকার ৩ লাখ ৩০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফের আওতায় মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেবে। পরিবার ১০ থেকে ২০ হাজার বাড়তেও পারে। এখানে ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। শুধু তো চাল দিলেই হবে না তেল, ডাল, নুন, মরিচও তো কিনতে হবে। এ জন্য মাসে ৫০০ করে টাকাও দেয়া হবে। এেেত্র ৫০ কোটি টাকা সরকার নগদ দেবে। মায়া আরো বলেছিলেন, যারা রিলিফ নেবেন না, যাদের আর্থিক অবস্থা একটু ভালো, তাদের জন্য ওএমএসের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হবে। এছাড়া সুলভ মূল্যের ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিক্রির কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। আমাদের খাদ্যের কোনো সংকট নেই। মজুদ যথেষ্ট। মন্ত্রী উল্লেখ করেছিলেন, আমরা ত্রাণের কাজ চালু রেখেছি। খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সংকট মোকাবিলা করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। সুনামগঞ্জে ৮০ থেকে ৮৬ ভাগ এলাকা পানিতে তিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ত্র“টিগুলো চিহ্নিত করেছে, যার ভিত্তিতে সরকার কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছে। সেখানে ৩ থেকে ৬ মাস খাদ্য দিয়ে সহায়তা করার দাবি ছিল। আমরা বলেছি ৩ মাসও না, ৬ মাসও না যতণ পর্যন্ত পানি না নামবে, মানুষ ঘরে ফিরে না যাবেন, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে না পারবেন ততণ খাদ্য ও নানান সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। পরবর্তী ফসল না উঠা পর্যন্ত আমরা এ কাজ অব্যাহত রাখব। এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ত্রাণমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো আপনারা ওই এলাকায় যান। আমরা গেছি, আমরা আবার যাব। ওখানে এমন অবস্থা তৈরি হয়নি যে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হবে। সেখানে অভাব আছে, অভাব আমরা মিটিয়ে দিচ্ছি। কষ্ট আছে আমরা কষ্ট লাঘবে চেষ্টা করছি।
ফসলের তির বিষয়ে কৃষি সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ সে সময় বলেছিলেন, প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ তিগ্রস্ত হয়েছে। সেটা চালের হিসাবে ৬ লাখ টনের কাছাকাছি হতে পারে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। হাওরের বাইরে বোরো ধানের উৎপাদন ল্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে। তাই এখানে যেটা লস হচ্ছে সেটা পুষিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেছিলেন, আউশ ও আমন চাষের এলাকা বাড়িয়ে দেয়া হবে। বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া হবে। এতে উৎপাদন বেড়ে যাবে।
এদিকে ১৮ মে খালিয়াজুরী গিয়ে প্রধানমন্ত্রী রিকশায় চড়ে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। খালিয়াজুরীতে প্রধানমন্ত্রীর রিকশায় চড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইট বিছানো একটি পথ দিয়ে রিকশায় চেপে যাচ্ছেন। এর আগে চলতি বছর ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গিয়ে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে ভ্যানে চড়ে কিছু পথ অতিক্রম করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রিকশা চালকের নাম টিপু সুলতান। তার বাড়ি নেত্রকোনার দণি বিশুহুরা এলাকায়।
এদিকে নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী কলেজ মাঠে বন্যায় তিগ্রস্ত ১ হাজার ২৫০ জন ও নগর ইউনিয়নের বল্লভপুরে ২৫০ জন মানুষের মাঝে নগদ জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ও ৩৮ কেজি করে চাল বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে যান। সেখান থেকে ১০ মিনিটের মতো রিকশায় চড়ে জেলা ডাকবাংলো পরিষদে পৌঁছান তিনি। এর আগে গোপালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ভ্যানে চড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর ভ্যানচালককে নিয়েও গণমাধ্যমে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে সেই ভ্যানচালক ইমাম শেখকে চাকরি দেয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। আর ভ্যানটি রাখা হয় জাদুঘরে। নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর হাওরাঞ্চলের বাসিন্দারাও আশা করছেন টিপু সুলতান যেহেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রিকশার চালক হয়েছেন, সেক্ষেত্রে এই রিকশাচালকও গোপালগঞ্জের ভ্যানচালক ইমাম শেখের মতো একটি ভালো চাকরি পাবেন।