প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

পবিত্র রমজানে খাদ্যপণ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন রমজান মাসে ভেজাল ইফতারিসহ পচা-বাসি খাবার বিক্রিকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা করার পাশাপাশি কারাদ- প্রদান, রমজানে কাবে মদ ও জুয়ার আসর বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। একই সঙ্গে পহেলা রমজান থেকে সারা মাস ডিএসসিসি খাদ্যপণ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা ও ভেজাল খাবার বিক্রি না করতে এবং গুণগত মান বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেন তিনি। ২২ মে রাজধানীর নগর ভবনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ অডিটোরিয়ামে ‘রমজানের পবিত্রতা রা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সাঈদ খোকন এসব উদ্যোগের কথা বলেন। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমজান সামনে রেখে মুনাফাখোর কালোবাজারি, মজুদদার, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কোটি কোটি টাকা মুনাফা লুটে নেয়ার বিরুদ্ধে বাজার নিয়ন্ত্রণের ল্েয মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা। তাদের মতে, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিত্যপণ্যের মজুদ পরিস্থিতি ভালো। অথচ অভিযোগ উঠেছে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করছে এক শ্রেণির অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এসব অসৎ মজুদকারীর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। রমজানে বাজারের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে কালোবাজারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।

‘রমজানের পবিত্রতা রা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিল্লাল, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. শেখ সালাহউদ্দিন, রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআইর পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন, রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঢাকা দণি অঞ্চলের সভাপতি শাহ সুলতান খোকন, ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক সিদ্দিকী, মতি সরদার জামে মসজিদের ইমাম আবু আইয়ুব আনসারি, সাকুরা বারের প্রতিনিধি জিয়াউল হক, ওয়ারি কাবের প্রতিনিধি আব্দুর রব ও ব্যবসায়ী-সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ অংশ নেন। মতবিনিময় সভায় সাঈদ খোকন বলেন, খাদ্যে ভেজাল দিলে বা দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। রমজানে কাবে মদ ও জুয়ার আসর কঠোর হাতে দমন করা হবে। কারণ রমজানের পবিত্রতা কাউকে নষ্ট করতে দেয়া হবে না। তাছাড়া বর্তমানে ফলের মৌসুম চলছে। আবার অনেকেই ফল ছাড়া ইফতার করেন না। ফল খেয়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আপনারা (ফল ব্যবসায়ীরা) ব্যবসা করবেন কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন ডিএসসিসি এটা বরদাশত করবে না। ডিএসসিসি রমজানের পুরো মাস ভেজালবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাবে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সাঈদ খোকন বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যবসায়ীদের অবদান অপরিসীম। দেশের পাশাপাশি জনগণের কথাও চিন্তা করতে হবে। রমজানে কম লাভ করে নিত্যপণ্যের মূল্য ক্রয় মতার মধ্যে রাখুন। পবিত্র রমজানে কোনো বার বা কাবে মদ ও জুয়ার অবৈধ আসর বসলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। বার-কাবের মালিকরা যত প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তিনি রোজার মাসে নিরাপদ সেহরি, ইফতার নিশ্চিত করতে হোটেল-রেস্তোরাঁকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
সভায় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহউদ্দিন বলেন, সারা বছর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেণে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা বাইরে থেকে দেখা চিত্রের চেয়ে ভিন্ন। কিছু কিছু রেস্টুরেন্টের বাইরে অনেক চাকচিক্য। রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক অনেক চৌকস। লাইটিং, ডেকোরেশন দেখে ভেতরের নোংরা পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের অনেকের রান্নাঘরের পরিস্থিতি অত্যন্ত নোংরা থাকে। সেই পরিস্থিতি দেখে যে কারোর খাবার গ্রহণের ইচ্ছে দূর হয়ে যাবে। বিভিন্ন অভিযানে গিয়ে দেখা পরিস্থিতির বর্ণনা করে তিনি বলেন, রান্নাঘরে বহুদিন ধরে টাইলস ভাঙা অবস্থায় থাকে, একই স্থানে বছরের পর বছর ধরে নোংরা পানি জমে থাকে। সেখানে কী পরিমাণে ব্যাক্টেরিয়া ও জীবাণু জন্মে সেটা হিসাব করা কষ্টসাধ্য। রেস্টুরেন্টকর্মীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অবস্থা অত্যন্ত বাজে, রান্নাঘর আর পাশের টয়লেটে পরিস্থিতি একাকার থাকে। হোটেল ব্যবস্থাপকরা জেনে-বুঝেই বেশি লাভের আশায় খাবারে ভেজাল মেশায় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, কিছু কিছু হোটেল ব্যবসায়ী ও মালিক রোজার মাসে অধিক মুনাফার আশায় খাদ্যে ভেজাল মেশান, আবার খাবারের দামও বাড়িয়ে দেন। পুরনো পোড়া তেল ব্যবহারসহ অনেক অসদুপায় অবলম্বন করেন। এটা রোজার চেতনাবিরোধী। সভায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপরে সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া শরবত, পানীয়, ফলের জুস অবশ্যই নিরাপদ পানি দিয়ে তৈরির কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসির প থেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মচারীদের কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়, বাবুর্চিসহ সব রেস্তোরাঁকর্মীকে গ্লাভস ও মাথায় চুল ঢাকার মতো বিশেষ টুপি পরিধান করতে হবে। রান্নার সঙ্গে যুক্তদের কাজ শুরুর আগে হাত পরিষ্কার করে নিতে হবে। রান্নাঘর প্রতিদিন ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। থালাবাসন ও খাবার রাখার অন্যান্য পাত্র ধোয়ার েেত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে ব্যবহার করতে হবে খাবার উপযোগী পানি। ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত কর্মীদের ছুটি দিতে হবে। সুস্থ হয়ে তারা কাজে যোগ দেবেন। খাবারের কাছে হাঁচি-কাশি দেয়া যাবে না। রেস্তোরাঁর ডাস্টবিন অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে, যাতে আবর্জনায় মাছি বসার সুযোগ না পায়। বেনামি কোনো কোম্পানির খাবার উপাদান কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত খাবার পরিবেশন করা যাবে না। অনুমোদনহীন খাবার রঙ ব্যবহার করা যাবে না। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে এসব নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না তা দেখতে প্রথম রোজা থেকে ঢাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় অভিযান পরিচালনা করছে সিটি করপোরেশন।
এ বছর সরকার রমজান মাসে বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেছে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ সংক্রান্ত আগাম তথ্য সংগ্রহ করে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করছে। এতে বাজার সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পদপে নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সাধারণ মানুষের ক্রয় মতার মধ্যে রাখা যায়। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। রমজান সামনে রেখে রাতারাতি জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাজার মনিটরিং ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। এ জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দফায় দফায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। যদিও বাজারে পণ্যমূল্য ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রবণতা পরিলতি হচ্ছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রতি বছর রমজান আসার আগে অসাধু চক্র রোজার মাসের প্রয়োজনীয় পণ্য মসুর ডাল, পিঁয়াজ, রসুন, বেগুন, চিনি, মশলা, দুধ, শিশুদের গুঁড়াদুধ, ছোলা ও মাংসসহ ইফতারিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পণ্য আগাম আমদানির পর মজুদ করে। পাশাপাশি চাহিদা বৃদ্ধির কথা বলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। এরপর তাদের চাহিদা মতো অতিরিক্ত মূল্যে ওই সব পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে। ঢাকার চকবাজার, মৌলভীবাজার, ওয়াইজঘাট, ডাল পট্টি, চকমোগলটুলী, শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ী, কাওরানবাজার, মোহাম্মদপুর, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য আমদানিকৃত পণ্য মজুদ করে থাকে। এরপর নিজেদের ইচ্ছামতো বাজারে মূল্য বাড়িয়ে বেশি দামে বিক্রি করে। এ বছর রোজার মাস শুরুর এক মাস আগে থেকেই নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার যে চক্রান্ত শুরু করা হয়েছে তা ঠেকাতে চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। রাজধানী ঢাকার বাইরে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, পাবনা, বরিশাল, বরগুনা, খুলনাসহ দেশের অনেক স্থানে এখন ধানসহ বিভিন্ন চালের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। বেড়েছে মশলার দামও। এছাড়াও অতিবৃষ্টি, হাওরের অকাল বন্যার অজুহাতে কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বেগুন, ঝিঙা, ঢেঁড়স প্রতিটি তরকারির দাম বাড়ছে। তরকারি বিক্রেতাদের মতে, হাওরাঞ্চল তলিয়ে যাওয়া, অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্টসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে তরকারির দাম ইতোমধ্যে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাজারে গরু, খাসি, মুরগির মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মাংসের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। রমজানের আগে বাজারে মূল্য বাড়ানো নিয়ে আবারও নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কিছু কিছু ব্যবসায়ী রমজানে বেশি বিক্রি হয় এমন পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলেছে। এই এলসি খুলে রমজানের আগে পণ্য আমদানি করা হয়। পরে পণ্য বেশি দামে বিক্রি করা হয়। এই লণ পাইকারি বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় ব্যবসায়ী যারা প্রথম শ্রেণির আমদানিকারক বলে পরিচিত তারাই মূলত বিদেশ থেকে ডাল, তেল, পিঁয়াজ, রসুন ও ছোলার সিংহভাগ আমদানি করে থাকেন। এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের সয়াবিন ও পাম অয়েল আমদানিকারক, খুলনার পিঁয়াজ আমদানিকারক, ঢাকার মৌলভীবাজারের ডাল ও তেল আমদানিকারক, গুলশান এলাকার ডাল ও ছোলা আমদানিকারকদের নাম সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে এই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের রয়েছে ব্যাপক প্রভাব। এই প্রভাব কাজে লাগিয়েই তারা ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ, ডাল, তেল, ছোলা ও পিঁয়াজ আমদানি করে মজুদ গড়ে তুলেন। অন্য কোনো আমদানিকারক যেন এসব পণ্য আমদানি করতে না পারে সে জন্য কৌশলে তাদের ওপরও তারা প্রভাব বিস্তার করেন। ফলে সিন্ডিকেটের বাইরের সাধারণ আমদানিকারকরা এখন আর এসব পণ্য আমদানি করতে পারেন না। এই সুযোগে সিন্ডিকেটভুক্ত ব্যবসায়ীরা রোজা শুরুর আগেই নিজেদের ইচ্ছামতো ডাল, ছোলা, তেল ও পিঁয়াজের দাম এক দফা বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। রোজা শুরুর পরে তারা আরও দুই দফায় দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রতি বছর রমজান আসার আগে থেকেই রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়াদুধ, পোকা ধরা ছোলা, মসুর ডালসহ অনেক পণ্য কারসাজি করে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। এবারও এই সিদ্ধান্ত পাকা হয়েছে। পণ্য মজুদ রাখার গোডাউন তল্লাশি করলে পোকা ধরা বা নষ্ট হওয়া অনেক পণ্য সামগ্রী পাওয়া যাওয়ার বহু ঘটনা ঘটেছে অতীতে। অভিযোগ রয়েছে, কাঁচাবাজার বা পাইকারি কাঁচাবাজার থেকে বহু দূরে ফ্যাট বাড়ি ভাড়া নিয়ে গোপনে সেখানে পণ্য মজুদ করে ব্যবসায়ীরা। আর সময় সুযোগ হলে বাজার পরিস্থিতি বুঝে তা বেশি দামে বিক্রি করা হয়। দাম বাড়লে গোপন গোডাউন থেকে পণ্য বের করা হয়। দাম কমলে পণ্য মজুদ থাকে। এভাবে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। অনেকেই রাতারাতি কোটি টাকার মালিক হওয়ার জন্য টার্গেট নিয়ে তৎপরতা চালায়। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে এ ধরনের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আছে, যারা রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে তারা ইতোমধ্যে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় চলে এসেছে। রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে সক্রিয় রয়েছে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মহল। তারা পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টায় কাজ করেছেন। গোয়েন্দা সদস্যরা ক্রেতার বেশে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ পাইকারি বাজারগুলোতে খোঁজখবর নিচ্ছেন। যেভাবেই হোক রমজানে বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখাই হচ্ছে সরকারের লক্ষ্য। বাণিজ্যমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, রমজানে খাদ্যপণ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখবে। সেইসঙ্গে যারা মজুদদারির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।