কলাম

উন্মুক্ত মতামত

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করুন

প্রতিদিন জামালপুর বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে কমিউটার, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ট্রেন যাওয়া-আসা করে। একটি সিটের প্রত্যাশায় লোকজন টিকিট কাটার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। ট্রেনের টিকিট ঠিকই মেলে তবে আসনবিহীন টিকিট। বলা হয় যে, ট্রেনের আসন বিক্রি হয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, ট্রেন আসার আগে কতিপয় লোক চড়া দামে টিকিট বিক্রি করছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ দালালদের কাছ থেকে টিকিট কিনতে পারে না। এতে সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির েেত্র রেল কর্তৃপ ও প্রশাসন বরাবরই নীরব ভূমিকা পালন করে থাকে। এমতাবস্থায়, সাধারণ মানুষ যাতে করে লাইনে দাঁড়িয়ে আসনযুক্ত টিকিট ক্রয় করতে পারেন সে বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী মহল।
মাহফুজুর রহমান খান
চিনিতোলা, জামালপুর

মাধ্যমিক শিা জাতীয়করণ প্রসঙ্গে

শিা ব্যবস্থায় দুটি ধারা প্রচলিতÑএকটি সরকারি অপরটি বেসরকারি। বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ শিা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি তথা এমপিওভুক্ত। একই যোগ্যতা ও অভিন্ন সিলেবাস হওয়া সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিা প্রতিষ্ঠানের শিক-কর্মচারীরা আজ বিরাট বৈষম্যের শিকার। যার বাস্তব উদাহরণ হলো বৈশাখী ভাতা ও ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি না পাওয়া। এমপিওভুক্ত শিক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ১ হাজার টাকা ও চিকিৎসা ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা, যদিও এমপিওভুক্ত শিক-কর্মচারী সরকারি স্কেলে বেতন পান। স্বাধীনতার পর প্রাথমিক শিা জাতীয়করণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কয়েক দশক পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সমস্ত বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় কয়েকটি ধাপে জাতীয়করণ করেন। ফলে প্রাথমিক শিায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন সময় হয়েছে মাধ্যমিক শিা জাতীয়করণের। কিছু শিা বিশেষজ্ঞের মতে, মাধ্যমিক শিা জাতীয়করণ হলে শিার মান কমে যাবে। এ ধারণাটি ঠিক নয়। কারণ প্রাথমিক শিা ঢালাওভাবে জাতীয়করণের ফলে প্রাথমিক শিার মান কমেনি বরং বেড়েছে। মাধ্যমিক স্তর জাতীয়করণ হলে শিা ব্যবস্থায় আর কোনো বৈষম্য থাকবে না। অতএব ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে মাধ্যমিক শিা জাতীয়করণের জন্য পর্যাপ্ত টাকা বরাদ্দ করার বিষয়টি সরকারের সদয় বিবেচনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
মো. মোশতাক মেহেদী
সহকারী শিক
বুজরুক বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয়
কুমারখালী, কুষ্টিয়া

অরুয়াইল-সরাইল রাস্তার সংস্কার জরুরি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলাধীন অরুয়াইল-সরাইল সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা শহরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বেবি-ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার, সিএনজি ও রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ও হাজার হাজার লোক যাতায়াত করে। বিগত কয়েক বছরের বর্ষায় সড়কের স্থানে স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে, ইটগুলো খসে পড়েছে এবং কোনো কোনো স্থানে এমনই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে যে যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর। জরুরি অবস্থায় রোগী অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয় না। সড়কটির আশু সংস্কারের ব্যবস্থা না হলে যাতায়াতের দুর্ভোগ ঘুচবে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এম মনসুর আলী
মোল্লার হাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়া

ব্যাংকে টাকার স্থিতির ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে চলতি বাজেটে। একদিকে ব্যাংকে আমানতের ওপর সুদ কমেছে, অন্যদিকে আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হলো। উৎস টাকার ওপর উৎসকর দেয়ার পরও এখন বাড়ানো হচ্ছে স্থিতির ওপর আবগারি শুল্ক। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সাধারণ আমানতকারী, বিশেষত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এতে তারা ব্যাংক বিমুখ হয়ে পড়বেন। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষকে আরও অসহায় করে তুলবে। এমতাবস্থায়, সাধারণ আমানতকারীদের কথা চিন্তা করে আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার করার বিষয়টি বাজেট পাসের আগেই বিবেচনায় নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আবেদন করছি।
প্রশান্ত কুমার রায়
শিক্ষার্থী-এমডিএস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বাস্তবায়নমুখী বাজেটই চাই

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে যেমন রয়েছে সম্ভাবনা, তেমনি বড় অংকের রাজস্ব আদায়, এডিপির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও শেয়ার মার্কেট নিয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় রয়েছে শঙ্কাও। বাজেটের বাস্তবায়ন বলতে শুধু অর্থ ব্যয়ই নয় বরং সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক খাতে অর্থ ব্যয়ই কাম্য। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের যোগসাজশে যাতে কর ফাঁকি দেয়া না হয়, পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে, কর আদায়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যাতে হয়রানি করা না হয়। তাহলে সাধারণ জনগণের ব্যাংক হিসাব থেকে কর কেটে, সেই টাকা দিয়ে সরকারি ব্যাংকের মূলধন জোগান অনৈতিক হবে। তাছাড়া কাক্সিক্ষত বিদেশি সাহায্য না পেলে ঘাটতি বাজেটের বিশাল একটি অংশ ঋণ নেয়া হবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে; যা ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়াবে, তারল্য সংকটে পড়বে ব্যাংক। ফলে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া রাজস্ব আয়ের প্রায় ৭০ ভাগ রাজস্বে ব্যয় হবে, আর ২০ ভাগ উন্নয়নে। আয় ও ব্যয় নীতির পরিবর্তন না আনলে জনগণ বাজেটের সুফল ভোগ করতে পারবে না।
মাসুম বিল্লাহ্ পাটোয়ারি
মাস্টার্স, অর্থনীতি বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়