প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

এতিম-প্রতিবন্ধী শিশু আলেম ওলামা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ইফতার : দেশ জাতির শান্তি ও উন্নয়ন কামনায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতি বছরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে ইফতার করেন। ইফতার অনুষ্ঠান-পূর্ব ও ইফতার-পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী আগত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ-খবর নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রমজানের সপ্তম দিনে এতিম, প্রতিবন্ধী শিশু, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ইফতার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩ জুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনের ব্যাংকুয়েট হলে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার শুরুর আধা ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী গণভবনের ব্যাংকুয়েট হলে স্থাপিত মাহফিলস্থলে আসেন। অনুষ্ঠানমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী এক পাশে এতিম ও অপর পাশে প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে ইফতার করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে পাশের শিশুর মুখে ইফতার তুলে দিতে দেখা যায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী যখন বিভিন্ন টেবিল ঘুরে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন তখনও এক শিশুর মুখে খাবার তুলে দিতে দেখা যায়।
অনুষ্ঠানমঞ্চে দেশের বৃহত্তম ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা রুহুল আমীন গওডাঙ্গী, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ইফতারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ আবদুল্লাহ, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গোলাম মওলা নকশবন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আলেম-ওলামাদের মধ্যে ওলামা লীগের একাংশের সভাপতি মাওলানা আখতার হোসাইন বোখারী, সাধারণ সম্পাদক শেখ আবু হাসান শরিয়তপুরী, মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী, হাফেজ মাওলানা আবদুস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ইফতার অনুষ্ঠানে প্রতিটি টেবিল ঘুরে ঘুরে এতিম, প্রতিবন্ধী, আলেম-ওলামা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ আগত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানান। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি, শান্তি, উন্নয়ন ও সাফল্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, জাতীয় চার নেতা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। মোনাজাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে প্রায় দুই শতাধিক এতিম ও প্রতিবন্ধী শিশু ইফতার মাহফিলে শরিক হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতায় এতিম, প্রতিবন্ধী শিশু ও মেধাবী শিার্থীদের কাছে টেনে নেন। তাদের কষ্টের কথা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী ছোট ছোট শিশুকে কাছে টেনে নিয়ে আদর করেন। শিশুরাও শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানস্থল ঘুরে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও আলেমদের সুখ-দুঃখের খোঁজ-খবর নেন। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী আলেম-ওলামাদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন।
ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।