প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

দেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সর্ববৃহৎ বাজেট : উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হবে নতুন মাত্রা

বিশেষ প্রতিবেদক : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট পেশ করে ১৯৭২ সালে। সেই বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। ৪৫ বছর পর জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই আবার বাংলাদেশের ৪৬তম বাজেট পেশ করে, যার আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সর্ববৃহৎ বাজেট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রদত্ত প্রথম বাজেটের তুলনায় টানা ৯ বার বাজেট দেয়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ৪৬তম বাজেট ৫১০ গুণ বড়। দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম (২০০৯-১০) অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ (২০১৭-১৮) অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা, যা মাত্র ৯ অর্থবছরের ব্যবধানে বেড়েছে সাড়ে ৩ গুণেরও বেশি।
বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের তুলনায় ৪৬তম বাজেটের আকার অন্তত হাজার গুণ বেশি হওয়া যুক্তিযুক্ত ছিল। কেন হয়নি, সে দায়ভার লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিয়োগান্ত ঘটনা না ঘটলে এবং পুরো সময়টাতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে বাজেটের আকার এতদিনে হাজার গুণ বাড়ত। তারপরও জাতির পিতার উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত ৮ অর্থবছর ধরে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে এবং এই সচলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যে উন্নয়নের মহাসড়কে আরোহণ করেছে, তাতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। ক্রমেই সমৃদ্ধির পথে এগুচ্ছে দেশ। জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনে সরকারের ধারাবাহিকতার কারণেই মাত্র ৯ অর্থবছরে দেশের বাজেটের আকার সাড়ে ৩ গুণ বেড়েছে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন পূরণ করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হারের (জিডিপি) ল্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন, প্রবৃদ্ধির হার হবে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। প্রত্যাশিত সাফল্যও তিনি পেয়েছেন। বিবিএস যে সাময়িক হিসাব দিয়েছে তাতে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রাক্কলন করেছে। অর্থমন্ত্রী তাই আগামী অর্থবছরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশের বিষয়টি অনুকূল থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের কাতারে বাংলাদেশকে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বৃত্ত ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্নকে বাস্তবে তালুবন্দি করতে চান ৮৫ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আর ২০২১ সাল থেকে ৩ বছরের পথ এগিয়ে এসে ২০১৮ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়তে চান বাংলাদেশকে। এই আশাবাদ পূরণ করতে অর্থমন্ত্রী চোখ রেখেছেন ইউরোপের ধনী ক্রেতার ক্রয়মতা থেকে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া আমজনতার ওপর। সরকারের উপযুক্ত অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার মতোই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আমজনতার আগ্রহ, উৎসাহ ও কর্মোদ্যম। আর বিচিত্র কারণে হাত গুটিয়ে বসে থাকা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের পথে থাকা বাধাগুলো সরিয়ে দেয়াকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
এবারের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, সবার সহযোগিতা পেলে বিশেষ করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এ মেয়াদেও আমরা অনেক দূর এগোতে পারব। অর্থমন্ত্রীর আশাবাদ পূরণের পথে সহায়ক শক্তি হয়ে সামনে এসেছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরপতন, কৃষক ও শ্রমিকদের নিরন্তর পরিশ্রম ও উৎপাদন। তবে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপের দেশগুলোর মানুষের ক্রয়মতা কমে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে রয়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি। সেই জনশক্তির প্রেরিত রেমিট্যান্সে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অন্য সব রপ্তানি পণ্যের বড় ক্রেতা ইউরোপের মানুষের হাতে পয়সা না থাকলে এবং রেমিট্যান্স প্রেরণ কমে গেলে তা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্রতি বছর ২০ লাখ শ্রমশক্তি শ্রমবাজারে প্রবেশ করে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এদের মধ্যে গড়ে ৪ লাখ বিদেশে এবং ১৬ লাখ দেশে কাজের সুযোগ পায়। বাকি কর্মসংস্থানে ভিন্নতর কর্মসূচির কথা বলেছেন। তবে মধ্যমেয়াদে ১২টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে ২ লাখ মানুষের চাকরি হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
ভ্যাটকে একটি অত্যুত্তম কর উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী নতুন ভ্যাট আইনে ১ হাজার ৪৩টি পণ্য ও সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে ৫৪৯টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ৯৩টি জীবনরাকারী ওষুধ এবং কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশুসংশ্লিষ্ট ৪০৪টি পণ্য রয়েছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিদ্যমান মূল্য বাড়ার বদলে অনেকটা কমে যাবে আশা করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই কোনো পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে না। ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাটে অর্থমন্ত্রী ছাড় দিয়েছেন কিছুটা। ভ্যাটমুক্ত টার্নওভারের পরিমাণ ৩৬ লাখ এবং ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স দেয়ার পরিমাণ ৩৬ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা নির্ধারণ করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটি ুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ, যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নেই। তিনি দাবি করেছেন, ব্যবসায়ীরাও এখন নতুন ভ্যাট আইন গ্রহণে প্রস্তুত।
বাংলাদেশের মানুষ কোনো কিছু কেনার সময় ভ্যাট দিয়ে আসছেন ১৯৯১ সাল থেকে। ব্যবসায়ীদের দিক থেকে জনগণের দেয়া সেই ভ্যাটের অর্থ সরকারের কোষাগারে না দেয়ার অভিযোগ আছে। এখন আর ব্যবসায়ীরা ক্রেতার দেয়া ভ্যাট নিজের পকেটে ভরতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে বাজেট বক্তব্যে বলা হয়েছে, পণ্য ও সেবা ক্রয়ের সময় সম্মানিত করদাতাদের পরিশোধিত ভ্যাট কোষাগারে যথাযথভাবে জমা হচ্ছে কি না, তা করদাতাগণ যেন তাৎণিকভাবে যাচাই করতে পারে, সে জন্য একটি মোবাইল অ্যাপস তৈরির বিষয়েও বর্তমান সরকার কাজ করছে। একইভাবে সারাদেশে তিন কোটি টেলিভিশন সেট রয়েছে, যার প্রায় সবগুলোই কেবল টিভি নেটওয়ার্কের (ডিশ) সঙ্গে যুক্ত। ডিশ ব্যবসায়ীরা মাসের শেষে বিল নেয়ার সময় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ ক্রেতার কাছ থেকে টাকা নেয়; কিন্তু সরকারকে দেয় না। এটি যাতে না করতে পারে, সে জন্য ভারতের মতো ডিজিটাল অ্যাড্রেসিবল সিস্টেম করতে যাচ্ছে সরকার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের টিভিগুলোকে এবং ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে পুরো দেশের ডিশ ব্যবসাকে এ সিস্টেমে আনা হবে।
গত দুই বছর আগে করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তারপর থেকে সেটি আর বাড়ানো হয়নি। এবার এফবিসিসিআই এটি বাড়িয়ে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। অর্থমন্ত্রীও বারবার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিনি বললেন, আমাদের মূল্যস্ফীতি এ মুহূর্তে কম, তাই করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত থাকছে। গত দুই অর্থবছর ও আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ হারে ধরলেও তিন বছর আগে ১০০ টাকায় যে পণ্য পাওয়া যেত, আগামী অর্থবছর তা কিনতে ১১৫ টাকা লাগবে। কিন্তু রাজস্ব বাড়াতে সরল এই অঙ্কের সমাধানের দিকে হাঁটেননি অর্থমন্ত্রী। তবে প্রতিবন্ধীদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ করার প্রস্তাব করেছেন তিনি। একই অবস্থা করপোরেট করের েেত্রও।
বাংলাদেশে সৎ ব্যবসায়ী কারা, তা নিয়ে কোনো সমীা বা গবেষণা নেই। কিন্তু বাজেট বক্তব্যে সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি প্রণোদনা রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। বলেছেন, সৎ ব্যবসায়ীদের বাড়তি প্রণোদনা হিসেবে দ্রুততার সঙ্গে পণ্য খালাসের ও অপরাপর সুবিধা প্রদানের ল্েয অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) কর্মসূচিটি পাইলট ভিত্তিতে প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছি। আর ব্যক্তি শ্রেণির কোনো পরিবারের সব সদস্য দীর্ঘকাল ধরে কর দিলে সেই পরিবারকে কর বাহাদুর পরিবার হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
প্রস্তাবিত বাজেটটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের, তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য দ্বিতীয় প্রেতি পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা ভাবছেন। তাই একটি উন্নত এবং ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুস্থ-সবল আলোকময় বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি ১৫০ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতাজুড়ে।
আমাদের যেতে হবে অনেক দূরÑস্লোগান দেয়া ৮৫ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৮ বছর আগের ৯৫ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে টেনে তুলেছেন ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকায়। পরের অর্থবছর ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট করার কথা আগাম জানিয়ে রেখেছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেছেন, ৭৫-এর নারকীয় ঘটনা না ঘটলে এখন আমরা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে থাকতাম, মধ্যম আয়ের দেশ হতাম আরো ২০ বছর আগেই। তবে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর দেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসী ও মৌলবাদের আক্রমণের মধ্যেও বিশ্বের বিস্ময়রূপে অটল হিমালয়ের মতো চির উন্নত শিরে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।
এক নজরে বাজেট
অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মোট আয়ের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে এটি ছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ল্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। রাজস্ব ল্যমাত্রার মধ্যে আগামী অর্থবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করবে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে এটি ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরে মোট বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছিল ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা আগামী অর্থবছর বাড়িয়ে ধরা হচ্ছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। তবে ল্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা বৈদেশিক অনুদান পাওয়া গেলে ঘাটতি দাঁড়াবে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিট বিদেশি ঋণ নেয়ার ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৩০ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার ল্যমাত্রা ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মূল বাজেটে এই ল্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়া হবে ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা; চলতি অর্থবছর সঞ্চয়পত্র থেকে নেয়ার ল্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ২২ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এর পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয় ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এডিপির আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপির আকার ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছর জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, চলতি অর্থবছর এটি ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এবার মূল্যস্ফীতির ল্যমাত্রা রয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আগামী বছর তা নামিয়ে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হয়েছে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে-কমতে পারে
২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেশকিছু পণ্য ও সেবা আমদানিতে শুল্ক (সিডি), সম্পূরক শুল্ক (এসডি) হ্রাস-বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো-কমানোর পাশাপাশি আয়করের েেত্রও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে-কমতে পারে।
এবারের বাজেটে যেসব পণ্যের
দাম কমতে পারে
ভোজ্যতেল : ভোজ্য তেল আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এতে সয়াবিনসহ অন্য ভোজ্যতেলের দাম কমতে পারে। হাইব্রিড গাড়ি : এ ধরনের গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে। এ কারণে আগামীতে হাইব্রিড গাড়ির দাম কমবে। ওষুধ : জরুরি জীবনরাকারী ৯৩ ধরনের ওষুধে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ফলে এসব ওষুধের দাম কমবে। এলপি গ্যাস সিলিন্ডার : এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে দাম কমতে পারে। কম্পিউটার যন্ত্রাংশ : কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হয়েছে। এর ফলে কম্পিউটার যন্ত্রাংশের দাম কমবে। আঠা (গ্লু) : কাঠসহ অন্য তৈজসপত্র জোড়া দেয়ার কাজে ব্যবহৃত আঠার দাম কমবে। কারণ এর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বাজেটে। এছাড়া ফ্যারো সিলিকন, টেলকম পাউডার, সয়া মিল, ৫ হাজার লিটারের নিচের এলডি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কমবে।
বাজেটের কারণে যেসব
পণ্যের দাম বাড়তে পারে
মোবাইল ফোন : প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল সেটের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে ১ জুনের পর থেকে মোবাইল কিনতে হলে বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। ফাস্টফুড : চিকেন ফ্রাই, বার্গারের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে। এতে এ ধরনের ফাস্টফুডের দাম বাড়বে। ইমিটেশন জুয়েলারি : স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নারীদের প্রিয় ইমিটেশন জুয়েলারির দাম বাড়বে। এ পণ্যটির সম্পূরক শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এছাড়া ভ্যাট হারও বাড়ানো হয়েছে। ব্যাটারি : বাজেটে লিথিয়াম, লেড এসিড, ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইডসহ সব ধরনের ব্যাটারির ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত ব্যাটারি, আইপিএস, ইউপিএসে ব্যবহৃত ব্যাটারির দাম বাড়বে। কিচেনওয়্যার : রান্নাঘরে ব্যবহৃত টেবিলওয়্যার ও কিচেনওয়্যারের সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে পণ্যটির দাম বাড়বে। টুথব্রাশ : ডেন্টাল পেইন্ট ব্রাশসহ সব ধরনের টুথ ব্রাশের ওপর শুল্ক ২০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কারণে এ জাতীয় পণ্যের দাম বাড়বে। সোলার প্যানেল : দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সোলার প্যানেলের আমদানি শুল্ক ৫ থেকে ১০ শতাংশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে পণ্যটির দাম বাড়বে। এছাড়া বিড়ি-সিগারেট, জর্দা-গুল, জানালার পর্দা, জামা-কাপড়, জুতা, সিরামিকের তৈরি ইট, কম্বল, রেজর, রঙিন টেলিভিশন, টিভি কার্ড, আসবাবপত্র, সেনিটারি টাওয়াল, শ্যাম্পু, প্রসাধন সামগ্রী ইত্যাদি পণ্যের দাম বাড়তে পারে।