প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অস্ট্রিয়া সফর : জলবায়ু পরিবর্তন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদারে ঢাকা-ভিয়েনা ঐকমত্য

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অস্ট্রিয়া সফরে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার ব্যাপারে ঢাকা-ভিয়েনা ঐকমত্যে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান কার্ন ৩০ মে ফেডারেল চ্যান্সেলারিতে এক দ্বিপাকি বৈঠকে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার এবং এই পৃথিবীর স্থায়িত্বের বিষয়ে একমত হয়েছি।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের ৬০ বছর পূর্তি উপলে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আয়োজিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর দেয়া ভাষণে বলেন, জ্ঞান চর্চা ও বিনিময়ের মধ্য দিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে আমরা বিজ্ঞান কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছি। ৩০ মে ভিয়েনা সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া দুই দিনের এই সম্মেলনে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, দণি আমেরিকা ও ক্যারিবিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নেতারাও অংশ নেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নের ল্যমাত্রা অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের সহযোগিতা নিয়ে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বাধিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন দ্য আইএইএ টেকনিক্যাল কো-অপারেশন প্রোগ্রাম; সিক্সটি ইয়ারস অ্যান্ড বিয়ন্ড- কন্ট্রিবিউশন টু ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতেই আণবিক শক্তির শন্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করে যাওয়ার জন্য আইএইএ-এর মহাপরিচালক ইউকিয়া আমানোর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে আইএইএ’র সদস্য পদ পায় বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার স্বামী প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া সে সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশকে গত ৪৫ বছর ধরে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ৭ শতাংশের বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আমাদের এ অর্জনে মুখ্য ভূমিকা রাখছে। আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন মডেল হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃত।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর স্বামী বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার দৃঢ় ও দূরদর্শী পদপে শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের রূপায়ণের সহায়ক হয়েছে। বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত আণবিক শক্তি গবেষণা কেন্দ্র (এইআরসি) ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা, রেডিয়োআইসোটপ উৎপাদন, শিা ও প্রশিণের ল্েয কাজ করছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও নানা আবিষ্কার বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক উন্নয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আইএইএ’র সাথে চমৎকার সহযোগিতা উপভোগ করছে এবং কারিগরি সহযোগিতায় প্রায় ১৩৮টি জাতীয় প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং রিজিওনাল কো-অপারেটিভ এগ্রিমেন্টের (আরসিএ) অধীনে ১১১টি আঞ্চলিক প্রকল্পে অংশ নিয়েছে। আইএইএ’র কারিগরি সহযোগিতা কার্যক্রমের কাঠামোর আওতায় পরমাণু শিা ও গবেষণা, খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য সুরা, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, পানিতে আইসোটোপ কৌশল প্রয়োগ, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, নন ডেস্ট্রাকটিভ টেস্টিংয়ের মতো শিল্প সহায়তা, শস্য ও গবাদি পশুর উন্নয়ন এবং পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের মতো অনেক েেত্র বাংলাদেশ সহযোগিতা পেয়েছে। তবে দুইটি েেত্রর সাফল্যকে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউকিয়ার এগ্রিকালচার বিনার উচ্চ ফলনশীল জাত ও লবণাক্ত সহিষ্ণু শস্য জাতের উন্নয়ন ও উদ্ভাবন এবং দেশে নিউকিয়ার মেডিসিন সেবার অগ্রগতির অসামান্য অর্জনের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনা ইতোমধ্যেই ৯২টি শস্য প্রজাতির উন্নয়ন ঘটিয়েছে; এর মধ্যে ১৩টির উন্নয়নে নিউকিয়ার প্রযুক্তি, বিকিরণ এবং অন্যান্য অগ্রসর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব শস্য উচ্চ ফলনশীল, উচ্চ পুষ্টিমান, স্বল্প সময়ে ফলন, লবণাক্ততা ও বন্যা সহিষ্ণু এবং জলবায়ু পরিবেশ সহিষ্ণু। বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে অবদান রাখার জন্য এফএওÑআইএইএ কর্তৃক ‘বিনা’-কে ২০১৪ সালে ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বনির্ভর এবং এমনকি অতিরিক্ত খাদ্যশস্য রপ্তানি করতে সম। বাংলাদেশে পরমাণু চিকিৎসা সেবার অগ্রগতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে পরমাণু চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ এবং শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাাশি, গত ২০ বছরে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করতে সম লোকের সংখ্যা ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসা েেত্র ১৫টি সরকারি এবং ৬টি বেসরকারি নিউকিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউট প্রতি বছর ৪ লাখেরও বেশি রোগীকে নিউকিয়ার মেডিসিনের মাধ্যেমে চিকিৎসা দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সম্প্রতি ক্যানসারের চিকিৎসায় আধুনিক পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার জনগণকে প্রকৃত সাহায্য করছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথাও বলেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে এ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০১৪ সালের আগস্টে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় কোম্পানি গঠন করতে সংসদে বিল পাস হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ বাংলাদেশের উন্নয়নের দ্বার খুলে দেবে এবং উন্নয়ন সমতা আরও বৃদ্ধি করবেÑএমন আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ কোটি মানুষের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য বাংলাদেশ নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নিউকিয়ার এনার্জি সোর্স ব্যবহার করবে। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ল্য ২০৩০ সালের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের কারিগরি কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত সহযোগিতা নিশ্চিত করতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়শীল দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের সমতা বাড়ানো উচিত। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও এর বিস্তার রোধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে এবং পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতিমালা এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, কৃষি, খাদ্য, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন েেত্র উদ্ভূত সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের ল্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের পুরোপুরি ব্যবহার করা।
দুই.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান কার্ন ফেডারেল চ্যান্সেলারিতে যে দ্বিপাকি বৈঠকে অংশ নেন তাতে কার্ন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রিয়ায় প্রথম সরকারি সফর ঢাকা এবং ভিয়েনার মধ্যে দ্বিপাকি সম্পর্কের েেত্রও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর বলেন, বাংলাদেশ ’৭০-এর দশকের গোড়ার দিকেই একটি গর্বিত স্বাধীন জাতি হিসেবে জন্মলাভ করলেও এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কাছাকাছি ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপাকি সম্পর্কের েেত্র একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বিবৃতিতে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর এই অস্ট্রিয়া সফর ঢাকা এবং ভিয়েনার দ্বিপাকি সম্পর্কের মধ্যে গতিশীলতা সঞ্চার করবে। শেখ হাসিনা বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমার এই অস্ট্রিয়া সফর দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে আরো গতিশীলতা আনবে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়েছে। ২০১৪ সালে আমরা ভিয়েনায় আবাসিক মিশন চালু করেছি, যেটা আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দুই দেশের আরো কাছাকাছি আসার আন্তরিকতারই পরিচায়ক।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর যৌথভাবে খুঁজে বের করেছেন তাদের দু’দেশের মধ্যকার সহযোগিতার প্রধান ত্রেগুলো হচ্ছে কৃষি, পশু পালন, যোগাযোগ, ব্যবসা ও বিনিয়োগ। তিনি বলেন, আমরা বৈশ্বিক প্রোপটে বিশেষ করে বৈশ্বিক সন্ত্রাস এবং উগ্রচরমপন্থা নিয়েও মতবিনিময় করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং অস্ট্রিয়ার ঘনিষ্ঠতার সূচনা হয় ’৭০ দশকের গোড়ার দিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় থেকে। অস্ট্রিয়ার তৎকালীন সরকার প্রধান ব্রুনো ক্রিসকির নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ব্রুনো ক্রিসকি ২০১২ সালে বাংলাদেশের মরণোত্তর ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর অনেক পথ অতিক্রম করেছে। দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন, স্বাস্থ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারীর মতায়নের মাধ্যমে নারীদের মূল স্রোতে নিয়ে আসা, সামাজিক নিরাপত্তাবলয় কর্মসূচিকে আরো পরিব্যাপ্ত করাসহ বিভিন্ন েেত্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত করেছে। আমাদের সহস্রাব্দ উন্নয়ন ল্যমাত্রা অর্জনের নম্বর বোর্ডই সেই স্যা দিচ্ছে যে, বাংলাদেশ আজ বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল বলে স্বীকৃত। আমরা এ বছর ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি অর্জন করেছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁকে এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের ভিয়েনায় উষ্ণ আতিথেয়তা প্রদর্শন করায় অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলরকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে অস্ট্রিয়ার সাথে একযোগে কাজ করারও আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশকে কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। চ্যান্সেলর ক্রিশ্চিয়ান কার্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকের পরে ফরেন অফিস কনসালটেশন বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বারিত হয়।