প্রতিবেদন

বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : আর্থসামাজিক নানা খাতে ধারাবাহিক উন্নয়নের পর এবার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগেও (এফডিআই) এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ২ শতাংশ। এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ কমেছে ১৫ শতাংশ। অথচ এক্ষেত্রে ক্রম উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়োপযোগী নানা পদক্ষেপের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এফডিআই কমলেও বাংলাদেশে তা বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের এফডিআই শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে এফডিআই এসেছে ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। যা আগের বছরে এসেছিল ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। এই এফডিআই বিশ্বের মোট এফডিআইয়ের শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।
৮ জুন আঙ্কটাডের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপ (বিডা)। রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, গেল বছরে বিশ্বের এফডিআই কমে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতি এখনও মন্দা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছে না। সবচেয়ে লণীয় বিষয় হলো গত বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এবং আফ্রিকার অনেক দেশে এফডিআই কমে গেছে। সেই হিসাবে বাংলাদেশ ভালো করেছে। প্রত্যাশা ও সম্ভাবনা অনুযায়ী এফডিআই না এলেও আন্তর্জাতিক বাস্তবতার বিবেচনায় এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তবে আমাদের দেশে সরকার এফডিআইয়ের চেয়ে রেমিট্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেয়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর েেত্র এফডিআইয়ের ভূমিকা বেশি। তাই এফডিআই বৃদ্ধিতে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এেেত্র উন্নয়নশীল দেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ গত বছর এশিয়ার দেশগুলো থেকে অন্য দেশে এফডিআই যাওয়ার পরিমাণ ৭ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে বিশ্বব্যাপী ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এফডিআই প্রবাহ ছিল, যা আগের বছরের চেয়ে ২ শতাংশ কম। গত বছর সবচেয়ে বেশি ৩৯১ বিলিয়ন ডলার এফডিআই পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এফডিআই পেয়েছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যে এফডিআইয়ের পরিমাণ ২৫৪ বিলিয়ন ডলার। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ এফডিআই পেয়েছে চীন। চীনে এফডিআই এসেছে ১৩৪ বিলিয়ন ডলার। দণি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এফডিআই পেয়েছে ভারত। ভারতে এসেছে ৪৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা এ অঞ্চলের ৮২ শতাংশ। আর বাংলাদেশে এসেছে এ অঞ্চলের মাত্র ৪ শতাংশ। এবার এফডিআই বৃদ্ধিতে দণি এশিয়ায় শীর্ষে ছিল পাকিস্তান। চীন ব্যাপক বিনিয়োগ করায় পাকিস্তানে এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, বিডার সেক্রেটারি অজিত কুমার পাল এবং উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সেলিমা আহমেদসহ আরো অনেকে।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিমানবন্দর নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ রয়েছে। এটা ঠিক যে, বিমানবন্দরে এখনও কিছুটা অব্যবস্থাপনা রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদেরকে চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। তাই এ বিষয়ে পদপে নেয়া হচ্ছে। আশা করি, খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে। এছাড়া ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করতে বিডা পদপে নিচ্ছে। তাই আগামীতে বিদেশি বিনিয়োগ আরো বাড়বে। সেলিমা আহমেদ বলেন, বিনিয়োগের েেত্র জমি প্রাপ্তি, অবকাঠামো এবং মূলধনের জোগান পাওয়া বড় সমস্যা। এগুলো দূর করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয় কিন্তু ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে চায় না। বিশেষ করে নারীদের ঋণ দিতে তাদের অনাগ্রহ রয়েছে। এ বিষয়গুলোর সমাধান করা গেলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগও প্রত্যাশিত পর্যায়ে বাড়বে।