কলাম

বাজেটে ভ্যাটকেন্দ্রিক অপপ্রচার রোধে কার্যকর প্রচার-প্রচারণা জরুরি

সব পণ্য ও সেবায় একই হারে ভ্যাটের (মূল্য সংযোজন কর) হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এই হার ১৫ শতাংশ। ভ্যাট আইন ২০১২ অনুযায়ী সব পণ্যে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত এবং চলতি অর্থবছরে অধিকাংশ খাতে ভ্যাটের ১৫ শতাংশ হার কার্যকর করা হয়। তবে অতি জরুরি কিছু পণ্যে ভ্যাটের এ হার কার্যকর হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছর অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে এবং সব পণ্যে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকর করা হবে। আর এটা নিয়েই চলছে ভ্যাটকেন্দ্রিক অপপ্রচার। বিশেষ করে ব্যাংকের নির্ধারিত আমানতের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক নিয়ে চলছে ব্যাপক অপপ্রচার; তবে ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন আমানতের ওপর নির্ধারিত আবগারি শুল্ক বছরে একবার কাটা হবে, যা অতীতেও নির্ধারিত হারে কাটা হতো। এবার অপপ্রচারের মাত্রাটা হচ্ছে এমন যে, ভ্যাট শব্দটিই যেন এবারের বাজেটে প্রথমবারের মতো আবির্ভূত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের মানুষ সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান প্রবর্তিত ভ্যাট ১৯৯২ সাল থেকেই দিয়ে আসছেন। কিন্তু এতদিন অবৈজ্ঞানিক পন্থায় মানুষের সেই ভ্যাট দেয়ার প্রক্রিয়া এবং এনবিআরের ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছিল। ভ্যাট দেয়া ও আদায়ের প্রক্রিয়াটিই এবারের বাজেটে নিয়মনীতির আওতায় অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক পন্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে বিভিন্ন পণ্যে যে ভ্যাট প্রদান করা হত, তার পুরোটাই যেত ভোক্তার পকেট থেকে। পণ্যটির আমদানিকারক, উৎপাদক, ডিলার, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাÑযার যার মতো করে ফাঁকি দিয়ে পুরো করভার নিয়ে ফেলত ভোক্তার ওপর। এবারের বাজেটে এই করভারটিই আমদানিকারক, উৎপাদক, ডিলার, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তার ওপর সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ভোক্তা একটি পণ্যের ওপর আগে যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিত, এখনও ১৫ শতাংশই ভ্যাট দেবে এবং আমদানিকারক, উৎপাদক, ডিলার, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতা আগে যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট না দিয়ে কর ফাঁকি দিতÑএখন সে পথটি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমদানিকারক যদি কোনো পণ্যের কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করে, তাহলে তাকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করে আমদানি করতে হবে। উৎপাদককে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করে আমদানিকারকের কাছ থেকে পণ্যের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হবে। একইভাবে ডিলার ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে উৎপাদকের কাছ থেকে, পাইকারি বিক্রেতা সমহারে ভ্যাট দিয়ে ডিলারের কাছ থেকে, খুচরা বিক্রেতা একই হারে ভ্যাট দিয়ে পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে এবং ভোক্তা একই হারে অর্থাৎ ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিয়ে খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্যটি কিনে নেবে। এই প্রক্রিয়ায় আগে আমদানিকারক, উৎপাদক, ডিলার, পাইকারি বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতা যে ভ্যাট ফাঁকি দিত, ১ জুলাই থেকে সেই ফাঁকিটি রোধ হলো। অবাক করা বিষয় হলো সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই ভ্যাট আদায়ের এই প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাখ্যা করছে না। আমরা মনে করি, ভ্যাট আদায়ের এই প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যার জন্য কার্যকর প্রচার-প্রচারণা জরুরি। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর এ বিষয়ে কার্যকর প্রচার-প্রচারণা চালালে ভ্যাটকেন্দ্রিক অপপ্রচার বন্ধ হবে এবং মানুষের ভয়ও দূর হবে।