প্রতিবেদন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃরোপণ অভিযান ও বৃমেলা ২০১৭-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড গড়ে তুলেছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৭ পালিত হয় ৪ জুন। এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দেয়া ভাষণে প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ রায় সরকারের পাশাপাশি দেশের আপামর জনসাধারণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের মাধ্যমে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরণে জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এবারের স্লোগান আমি প্রকৃতির, প্রকৃতি আমার এবং প্রতিপাদ্য প্রাণের স্পন্দনে, প্রকৃতির বন্ধনে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃরোপণ অভিযান ও বৃমেলা এমন সময় বাংলাদেশে পালিত হলো, যখন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রকৃতির সঙ্গে এক প্রকার যুদ্ধ করে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশকে বড় দুইটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর একটি হলো অসময়ে দেশের হাওরাঞ্চলে বন্যা এবং অন্যটি হলো ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাত। দুটি দুর্যোগই সরকার সঠিক ব্যবস্থাপনায় সামাল দিয়েছে। এ জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দেয়া ভাষণে বলেছেন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় থেকে রা পেতে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের অর্থে ট্রাস্ট ফান্ড গড়ে কাজ করে যাওয়ার কথাও শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে জানান। তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে ২০১০ সালে কাইমেট চেইঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের পর এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উন্নত দেশগুলো এই তহবিলে প্রতিশ্রুত অর্থ না দেয়ায় ােভ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনেক পেলেও এখানে আমরা পেয়েছি খুব সামান্য। তবে যেটুকু পেয়েছি সেটুকু আমরা যথাযথভাবে কাজে লাগাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশই বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে, কারো মুখাপেী না থেকে নিজস্ব অর্থায়নে ট্রাস্ট ফান্ড করে কিভাবে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কাজ করা যায় তার একটা স্বীকৃতি আমরা পাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, সুন্দরবনের তি হয় এমন কোনো প্রকল্প তার সরকার নিচ্ছে না, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবেই এ বনকে সংরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো প্রকল্প আমরা নিই না কেন অন্তত আমাদের এই সুন্দরবন যেন তিগ্রস্ত না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েই কিন্তু আমরা আমাদের প্রকল্প গ্রহণ করি।
সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছে পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও বামপন্থিরা। তবে সরকারের প থেকে বলা হচ্ছে, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের কোনো তি হবে না। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ যখন মতায়, শেখ হাসিনা যখন প্রধানমন্ত্রী, তখনই সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে ইউনেস্কো। শেখ হাসিনা বলেন, সেভাবেই আমরা সুন্দরবন সংরণ করে যাচ্ছি। সুন্দরবনের কারণে বাংলাদেশ বেঁচে আছে। সুন্দরবন যেন বৃদ্ধি পায়, সেজন্য কৃত্রিমভাবে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এদিকে বৃরোপণ কর সম্পদশালী হও স্লোগান নিয়ে ৪ জুন থেকে ৩ মাসব্যাপী জাতীয় বৃরোপণ কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে একটি কাঁঠাল গাছের চারা রোপণ করে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃরোপণ অভিযান এবং পরিবেশ মেলা ও বৃমেলা ২০১৭-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন-২০১৭, বৃরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার-২০১৬ ও সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের চেক প্রদান করেন। বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান এবং ঢাকার কলাবাগানের মোকারম হোসেন ব্যক্তিগতভাবে বৃরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পরিবেশ পুরস্কার ২০১৭ এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিষ্ঠানগতভাবে এই পুরস্কার লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে দুজনের হাতে সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশের চেকও প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশের ভারসাম্যকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে এই ভারসাম্য রায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকৃতি যখন ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে তখন মানুষের জন্য তা বিপদ ডেকে নিয়ে আসে।
প্রধানমন্ত্রী এই সময় জাতির পিতার দূরদর্শিতা উল্লেখ করে বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি করেন। তখন পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়। এ অধ্যাদেশ ও প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হয়েছে আজকের পরিবেশ অধিদপ্তর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে অনুচ্ছেদ ১৮ (ক) সংযুক্ত করেছে। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরণ ও উন্নয়ন করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে।
পরিবেশের ভারসাম্য রার জন্য সরকার দ্বিমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সাড়ে ৮ বছরে আমাদের দেশের মোট বনভূমির পরিমাণ ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। স্থানীয় দরিদ্র মহিলাসহ সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে বন অধিদপ্তর সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সাফল্য অর্জন করেছে। সামাজিক বনায়নের আওতায় এ যাবৎ প্রায় ৭৯ হাজার ২৯৮ হেক্টর এবং ৬৬ হাজার ৪৭২ কিলোমিটার এলাকায় বাগান সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব বাগান থেকে প্রায় ৭৭৫ কোটি ১৪ লাখ টাকার বৃ সম্পদ আহরণ করা হয়েছে। এ যাবৎ ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮০ জন দরিদ্র উপকারভোগীর মধ্যে ২৬১ কোটি ১৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, সামাজিক বনায়ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সৃষ্টি ও পরিবেশের ভারসাম্য রাসহ সবুজায়নে ও দখলকৃত বনভূমি উদ্ধারে একটি সফল কৌশল হিসেবে ইতোমধ্যে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
সরকার জীববৈচিত্র্য সংরণ ও টেকসই আহরণের ল্েয বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৬ জারি করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশ, বেশ কিছু এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ সংরণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ল্েয কার্যকর পদপে গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ৪০টি বনসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ এলাকাকে সংরতি এলাকা এবং জলাভূমি, হাওর, নদী, উপকূলীয় দ্বীপসহ ১৩টি এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও সরকার বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৩৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করেছে। এখানে ৫ প্রজাতির বিপন্ন সামুদ্রিক ডলফিন, পাখনাহীন শুশক, কয়েক প্রজাতির তিমি ও হাঙ্গর সংরণ এবং তাদের বংশ বৃদ্ধির ল্েয পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের ভূমিকা না থাকলেও আমরা এর বিরূপ প্রভাবের নির্মম শিকার। বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের সরকার ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় মোকাবিলায় ২০০৯ সালে প্রণীত বাংলাদেশ কাইমেট চেঞ্জ স্ট্রাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান (বিসিসিএসএপি) যুগোপযোগী করছে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ২০১০ সালে কাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গঠিত গ্রিন কাইমেট ফান্ড এবং এলডিসি ফান্ড হতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ প্রাপ্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন নেগোসিয়েশনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছে। পরিবেশ রায় বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশকে ২০১৫ সালে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কারে ভূষিত করে।
আমাদের দেশে বায়ু দূষণের অন্যতম উৎস ইটভাটা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ইটভাটা জিগজ্যাগ এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটায় রূপান্তরিত হয়েছে। বাকি ইটভাটাসমূহও রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দেশের প্রধান নদীসমূহ খনন করে তার নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কাজ সম্পন্ন করা গেলে নদীসমূহের প্রতিবেশ বা ইকোসিস্টেম আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে ও নৌ-পরিবহনের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতল্যা, তুরাগ ও বালু নদীকে ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে তা ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হচ্ছে। হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প সাভারের হরিণধরায় স্থানান্তর করা হয়েছে। দেশের সকল কারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইটিপি ছাড়া কোনো নতুন কারখানার স্থাপনের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্প মালিকরা ইটিপিগুলো নিজেরা করলে তা ব্যবহার করতে চায় না। শুধু পরিদর্শনের সময় ব্যবহার হয়। তাই এগুলো সেন্ট্রালি তৈরি করে সকলকে বাধ্যতামূলক করে দেয়া হচ্ছে। হাজারীবাগের ট্যানারি সাভারে নিয়ে সেখানে ইটিপি সেন্ট্রালি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আবাসিক ফ্যাট যেখানে করা হচ্ছে সেখানে রিসাইকিং ব্যবস্থা রাখার প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাত হানার সময় সরকারের আগাম ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে য়তি অনেক কম হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার পাশেই গাজীপুর জেলার শালবনে প্রায় ৪ হাজার একর ভূমিতে ২০১৩ সালে স্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শেখ রাসেল এভিয়ারি ইকো-পার্ক। এখানে দেশের সর্বপ্রথম প্রায় ২ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রোপওয়ে স্থাপন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা এ দেশকে সবুজে সবুজে ভরে তুলি। প্রত্যেকে অন্তত একটি করে বনজ, ফলদ ও ঔষধি চারা রোপণ করি এবং সবুজ অর্থনীতিনির্ভর ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে যাই।