আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচন : টিউলিপ সিদ্দিক রুশনারা আলী ও রুপা হক ফের এমপি নির্বাচিত

স্বদেশ খবর ডেস্ক : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী, রূপা হক ও টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে এই তিন বাংলাদেশি কন্যা বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। লেবার পার্টি থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী, রূপা হক ও টিউলিপ সিদ্দিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রাপ্ত নির্বাচনি ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে ১৫ হাজার ৯৬ ভোটের বড় ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো লেবার পার্টির এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী কেয়ার লুইচ লিল্যান্ড পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৪ ভোট। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে টিউলিপ ১ হাজার ১৩৮ ভোট বেশি পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এবারে তার জয়ের ব্যবধান বিশাল।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অপর দুই নারী প্রার্থী রুশনারা আলী এবং ড. রূপা হকও লেবার পার্টি থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তারা বেথনালগ্রিন এবং বো আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। লেবার দলীয় প্রার্থী রূপা হকের প্রাপ্ত ভোট ৩৩ হাজার ৩৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী জয় মোরিসি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩০ ভোট। গতবার মাত্র ২৭৪ ভোটে জয় পাওয়া রূপা হক এবার দ্বিতীয় মেয়াদে ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক রূপা হক লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের পাবনা জেলায় তার আদি বাড়ি। ২০১০ সালে প্রথম বাংলাদেশি এমপি হিসেবে ১১ হাজার ৫৭৪ ভোট বেশি পেয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনালগ্রিন-বো আসন থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পা রেখে ইতিহাসের পাতায় ঢুকে যান তিনি। এরপর ২০১৫ সালের নির্বাচনেও নিজেকে ছাড়িয়ে আবারও ঢুকে যান ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ৩৫ হাজার ৩৯৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে তৃতীয় মেয়াদে হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে রুশনারা আলী, ড. রূপা হক ও বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাদের এই বিজয়ে বাংলাদেশের জনগণের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।