কলাম

শিক্ষাকে ফিরতে হবে একাত্তরের মূলমন্ত্রে : বঙ্গবন্ধুর আদর্শই একমাত্র রক্ষাকবচ

রোকেয়া প্রাচী : ঊনিশ’শ একাত্তরের উত্তাল মার্চে বাঙালি জাতি হাঁটতে শুরু করে মুক্তির পথে। গৌরবের এই মাসটির ৭ তারিখে হাজার বছরের সেরা বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন, উদ্ভব ঘটিয়েছিলেন এক অনন্য যোদ্ধা জাতির, বাঙালি জাতির, রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দীর মাটিতে, বাংলার আকাশে-বাতাসে, কোটি জনতার হৃদয়ে। স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পর আজও সেই ধ্বনি ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলজুড়ে বহমান আছে, ষোল কোটি জনতার প্রাণে শক্তি সঞ্চার করে চলেছে।
অনন্য সংগ্রামী এক মহাজীবন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তরাধিকার সূত্রে নেতা হননি, বন্দুকের নল ঠেকিয়ে কিংবা গায়ে উর্দি চাপিয়ে তাকে নেতৃত্ব লুট করে নিতে হয়নি। একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়ে আপন মহিমায় শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বের এমন একজন বিরল নেতা, যার তর্জনী নির্দেশে একাত্ম হয়েছিল একটি জাতি। যার নামে বুকের খুন ঢেলে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। অভ্যুদয় হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের।
বঙ্গবন্ধু গণমানুষের মাঝখান থেকে ওঠে আসা নেতা। তাই সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা নিয়েই গড়া তার রাজনৈতিক আদর্শ। হাজার বছর ধরে বাঙালি জাতি ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে। এ জাতি কখনো শাসন ক্ষমতার অংশীদারিত্ব পায়নি। একই ভাষা ও সাধারণ আর্থসামাজিক জীবনধারায় বিকশিত হলেও রাষ্ট্রীয় কোনো সত্তা না থাকায় বাঙালি জাতি ছিল কেবলই একটি নৃগোষ্ঠী (জধপব) মাত্র। এই জাতি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করলেও বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে কখনোই শাসন ক্ষমতায় ছিল না।
হাজার বছর ধরে শোষিত বাঙালি জাতি যে বহিরাগতদের শাসন-অত্যাচার যে সব সময় মেনে নিয়েছে তা বলা যাবে না। বিদেশি শাসকদের বিরুদ্ধে বহুবার বিদ্রোহ করেছে বাঙালিরা। কিন্তু ভিনদেশিদের কূটকৌশল, অস্ত্রবাজি আর একজন যোগ্য নেতার অভাবে বাঙালিদের বিদ্রোহ-সংগ্রাম হাজার বছরেও সফলতার মুখ দেখেনি। অবশেষে হাজার বছরের বিদেশি শাসনের অবসান ঘটাতে বাঙালিদের মাঝে জন্ম নেয় এক মহানায়ক। একটা সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়ে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন এ জাতির স্বপ্ন পূরণের সারথী। ওই মহামানবের ডাকে বাঙালিরা ভিনদেশি পাকিস্তানি শাসকদের অনাচার-অত্যাচার শোষণ-লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বাঙালি জাতিকে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মনস্তাত্ত্বিক ও স্বাধীনতার চেতনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যের বাইরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের বাঙালি জাতিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ করে শেখ মুজিব উচ্চারণ করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বাঙালি হাজার বছর ধরে যেন এমনই বজ্রকণ্ঠের অপেক্ষায় ছিল। বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার স্বপ্নে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দেয়ার শপথে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। নয় মাসের রক্ত ঝরানো যুদ্ধে এ দেশের বীর সন্তানেরা আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে হটিয়ে দিয়ে একাত্তরের ষোলই ডিসেম্বর ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতা। হাজার বছর পরে বাঙালি পায় নিজের ঠিকানা, একটি স্বাধীন ভূখ-Ñবাংলাদেশ।
যে মহামানবের ডাকে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তারই সুযোগ্য কন্যা সময়ের সাহসী ও আপসহীন নেতা শেখ হাসিনা আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্বে। তিনি এই দেশের জনগণের জন্য অবিচল চিত্তে কাজ করে চলেছেন। সব ক্ষেত্রে এই দেশের অগ্রযাত্রা পৃথিবীর উন্নয়নের সূচকে প্রশংসার দাবিদার। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাফল্য সড়কে বাংলাদেশ এখন বেশ দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের নামে আগে ‘দারিদ্র্যপীড়িত’ শব্দটি তিনি নির্বাসনে পাঠিয়েছেন, এনেছেন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি। বর্তমানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া ৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশের গড় প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের ওপরে, মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬২০ ডলারে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতি পেয়েছে বঙ্গোপসাগরের অমীমাংসিত অংশের অধিকার, অনেকটাই কেটে গেছে বিদ্যুৎ সমস্যা, নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সমৃদ্ধি এসেছে তথ্যপ্রযুক্তিতে, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাংলাদেশ আর্থসামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্বের সামনে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাফল্যের যে পথে দেশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, এ পথ মোটেও ফুল ছড়ানো নয়। পথের বাঁকে বাঁকে কাঁটা হয়ে আছে সাম্প্রদায়িক শক্তি ও জঙ্গি তৎপরতার ইঙ্গিত। শহীদের রক্তস্নাত বাংলার মাটিতে আইএস’র নীলনকশার পূর্বাভাস কিংবা সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা। হাজার বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতির এই দেশে জিহাদের জিকির তোলা জঙ্গিদের তৎপরতার নেপথ্যে একাত্তরের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আর গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুত দেশের একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধন আছে বলেও অভিযোগ শোনা যায়। পাশাপাশি নিজেদের উগ্র মতাদর্শ ছড়ানোর জন্য ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জঙ্গিরা টার্গেট করে এগুচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। জঙ্গি তৎপরতার বিপুল অস্ত্রভা-ার জব্দ হওয়ার খবর একদিকে আমাদেরকে আশ্বস্ত করে, অন্যদিকে দেশের ভেতর অস্ত্র মজুদের সংবাদ আমাদের আতঙ্কিত করে। আসলে জঙ্গিবাদকে রুখতে হলে এর শেকড় উপড়ে ফেলা দরকার। এ জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা খুব জরুরি। জঙ্গিবাদ নির্মূলের জন্য বাস্তবসম্মত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে তৃণমূলে তা বাস্তবায়নে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।
সবার আগে দেশ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নয়, দেশের সুনাম আগে। এই গভীর সত্য উপলব্ধি করেই দলমত নির্বিশেষে জঙ্গিদের অপতৎপরতা রোধে ঐকমত্যে আসতে হবে। ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে এদেশের আবেগপ্রবণ মানুষের মনে যাতে জঙ্গিবাদ কোনো ধরনের সহানুভূতি আদায় করতে না পারে, সেজন্য গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন।
জঙ্গিবাদ নির্মূলের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার আমাদের হাতেই আছে। সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বঙ্গবন্ধুর যে রাজনৈতিক দর্শন আমাদের একাত্ম করেছিল, এনে দিয়েছিল স্বাধীনতা; এখন সময় এসেছে সেই আদর্শকে ফিরিয়ে আনা। চারটি স্তম্ভ সামনে রেখেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের রূপরেখা সাজিয়েছিলেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থাপনার মূল এই চার আদর্শিক ঐশ্বর্যই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল অনুপ্রেরণা। অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও আইনের শাসনÑএই চার স্তম্ভকে শক্তিশালী করে তুলতে পারলে জিহাদের হাওয়া কখনো বাংলাদেশের ভিত বা ভিত্তি কাঁপাতে পারবে না।
চার স্তম্ভ সামনে রেখে ঢেলে সাজাতে হবে শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থা। একটি শিশু বেড়ে ওঠার সময়ই যেন জানতে পারে রাষ্ট্রের চার মূলমন্ত্র সম্পর্কে। হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নয়, সে যেন বড় হয়ে ওঠে বাঙালি পরিচয়ে। সকল ধর্মের মানুষের সহাবস্থানে অসাম্প্রদায়িক চেতনার রাষ্ট্রে শিশু-কিশোর ও তরুণদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। জাতির আগামী দিনের দিশারিদের জন্য ঢেলে সাজাতে হবে সমাজ কাঠামো, যেখানে থাকবে সব মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার। যে সমাজ হবে দুর্নীতিমুক্ত। আমাদের রাষ্ট্র কাঠামো অবশ্যই হবে গণতান্ত্রিক। তবে কেবল ভোট দেয়ার মধ্যে এই গণতন্ত্রকে সীমিত রাখলেই চলবে না। এই গণতন্ত্র মানে সকলের সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া, সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরকে শোষণ-বঞ্চনা মুক্ত রাখা।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করার মধ্য দিয়ে এই দেশের রাজনীতিতে কলঙ্কজনক ইতিহাসের সূচনা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি, ১৯৭১ সালে যাদের আমরা পরাজিত করে এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। সেই স্বাধীন দেশে একাত্তরের পাকিস্তানিদের দোসর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষের শক্তিকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন ও ক্ষমতায় অধিষ্ঠ করার মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির সূচনা করেন জিয়াউর রহমান। তাই যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সরকার জনগণের দাবি পূরণে সচেষ্ট হয় তখন জঙ্গি উত্থানের হুমকির আশঙ্কা তৈরি হয়। যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জনগণের ইচ্ছার প্রতি সমর্থন পোষণ করেন, শহীদের ঋণ শোধ করার তাগিদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন তখনই জিয়াউর রহমানের সেই অপরাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তাদের দোসর জামায়াতের তা-ব জঙ্গিবাদের উত্থানের পূর্বাভাস সৃষ্টি করে। যে প্রশ্নে এক ও অভিন্ন থাকবে রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল সেই প্রশ্নে দেশকে দ্বিধা-বিভক্ত করে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়ে অস্থিতিশীল ও অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত করতে চায় বিএনপি ও তাদের দোসর জামায়াত। তারা এই শান্তির দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়। সরকারের সকল উন্নয়নকে মুছে দিয়ে বলতে চায় এই দেশ মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের দেশ। আর এই কাজের জন্য যাদের ব্যবহার করা হচ্ছে তারা এই দেশেরই কোমলমতি ছেলেমেয়ে, আপামর জনসাধারণ, খেটে-খাওয়া মানুষ। দারিদ্র্য কিংবা সচেতনতার অভাব, অশিক্ষা এবং ধর্মান্ধতা তাদের সহজে উদ্বুদ্ধ করতে পারছে। অনায়াসে তারা হয়ে পড়ছে জঙ্গি তৎপরতার সহায়ক।
একটি শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে তার বাল্য শিক্ষা। একজন শিশুর মানসিক বৃদ্ধিতে সংস্কৃতির প্রভাব, এই প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রভাবের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দেশপ্রেমিক অথবা অপশক্তির সহায়কদের ভবিষ্যৎ। আগামী দিনের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বপ্নের পথে এই পরিকল্পনা এখনই শুরু করতে হবে। ভাবতে হবে যে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়েছে গত রাতে তার শিক্ষা-সংস্কৃতি-রাজনৈতিক বিকাশের ভাবনার দায়িত্ব নিতে হবে এখনই। আর দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে দলমত নির্বিশেষে সকলকে।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চার মূলমন্ত্র থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছিল। সেই বিষবলয় থেকে এখনো আমরা পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারিনি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সকল স্তরের পাঠক্রমে মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির অনুপস্থিতি তারই প্রমাণ বহন করছে। প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি মুক্তিযুদ্ধের চার নীতির বিষয়টিকে পাঠক্রমে রাখেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার মাধ্যমে যেভাবে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা হচ্ছে, ঠিক তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঢেলে সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে সংস্কৃতি হতে পারে শক্তিশালী মাধ্যম।
যে যে মাধ্যমেই পড়ালেখা করুক না কেন শিশুকাল থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ভাষাবোধ, সংস্কৃতি, বাংলার সমাজ, কৃষ্টি, পারিবারিক এবং একজন শিশুর মানবিক ও দেশপ্রেমিক হিসেবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে শিক্ষা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ সংযোজন হবে মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম ও বীরবিক্রমদের বীরত্বগাথা এবং সাড়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা। সেই সঙ্গে এই সময়ে বিশ্বময় বাঙালিদের কীর্তির কথাও শিখতে হবে এই প্রজন্মকে। শিক্ষা সাংস্কৃতিতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতিফলন করতে হবে। শিক্ষাকে ফেরাতে হবে একাত্তরের মূলমন্ত্রে।
আমাদের ছেলেমেয়েরা গাইবে ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি’। গাইবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।’ শুনবে এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। যারা এই মন্ত্রে শিক্ষিত হবে তারা আর যাই হোক জঙ্গি হবে না। আমাদের শিশুরা বেড়ে উঠুক খেলতে খেলতে, হাসতে হাসতে, গাইতে গাইতে। এই দেশের আলো বাতাস সুন্দর, খুবই সুন্দর। সোনার বাংলাদেশের রূপ-রস-গন্ধ তাকে একবার উপভোগ করতে দিলে এই অপরূপ সৌন্দর্য রক্ষায় সচেষ্ট সে হবেই হবে।
লেখক : নাট্যাভিনেত্রী