প্রতিবেদন

অনলাইন ওষুধ রেজিস্ট্রেশন : ডিজিটালাইজেশনের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর

বিশেষ প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দ্রুত বিকাশমান। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সঠিক দিকনির্দেশনা ও যথাযথ নজরদারির কারণে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদনে সক্ষম। দেশে উন্নত প্রযুক্তির প্রায় সকল ডোজেস ফর্মের ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। এ শিল্প দেশের চাহিদার শতকরা ৯৮ ভাগ ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। বর্তমানে ইউএসএ এবং ইউরোপসহ বিশ্বের ১২৭টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। ওষুধ রপ্তানিকৃত দেশের সংখ্যা সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওষুধ শিল্পকে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে আসার পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সমর্থন ও সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে সংস্থার বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে একটি সময়োপযোগী কার্যকর ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মেজর জেনারেল মোস্তাফিজ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে আরো বেশি বিজ্ঞানমনস্ক ও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী করতে এর ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে ওষুধের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ম্যানুয়েল পদ্ধতির পরিবর্তে ডিজিটালাইজড করার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে একটি সফটওয়্যার উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সফটওয়্যারটি ইউএসএইড-এর অর্থায়নে সিস্টেমস ফর ইমপ্রুভড অ্যাক্সেস টু ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড সার্ভিসেস (এসআইএপিএস) প্রোগ্রামের কারিগরি সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে। সফটওয়্যারটি উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশে ওষুধের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম চালু হলো। সফটওয়্যারটির নাম দেয়া হয়েছে ফার্মাডেক্স (চযধৎধসধফবী). বাংলাদেশের জন্য এটি একটি নতুন কনসেপ্ট ও দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ফার্মাডেক্সের মাধ্যমে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম প্রবর্তিত হওয়ায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক অনলাইনে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। এর ফলে ঔষধ প্রশাসন ডিজিটালাইজেশনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল; যা বর্তমান সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য।
গত ১৭ মে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে ডিজিটাল ওষুধ রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির সফটওয়্যার ফার্মাডেক্স-এর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান এমপি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ আরও অনেকে।
ফার্মাডেক্স সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ওষুধের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হলে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি স্বদেশ খবরকে বলেন, এখন থেকে ফার্মাডেক্স সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ওষুধের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ওষুধের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। এর ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরের ইতিবাচক ইমেজ আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ওষুধের ওপর আস্থা ও চাহিদা আরো বাড়বে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি দেশের জনগণের জন্য নিরাপদ কার্যকর ও মানসম্পন্ন ওষুধ প্রাপ্তি আরও নিশ্চিত হবে যা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।
সংস্থার ডিজি মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বদেশ খবরকে বলেন, নকল, ভেজাল ওষুধ ও মূল্য যাচাইয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের আওতায় একটি মোবাইল অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে এবং এর পাইলোটিং ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে জনগণ ৪টি সেবা পাবে বলে জানান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সেবা ৪টি হলোÑ ১. নকল ও ভেজাল ওষুধ শনাক্তকরণ। ২. ওষুধের মূল্য যাচাই ও অতিরিক্ত মূল্য সম্পর্কে অভিযোগ। ৩. ওষুধ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং ৪. ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রিপোর্টিং। তিনি আরো জানান, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রূপকল্প বা ভিশন হলো ‘সকলের জন্য মানসম্পন্ন ও নিরাপদ ওষুধ নিশ্চিত করতে আমরা সচেষ্ট’ এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অভিলক্ষ্য বা মিশন হলো ‘নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্পন্ন ঔষধ নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানব ও পশু স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা।’
স্বদেশ খবর পত্রিকার সঙ্গে এক মতবিনিময়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যক্রম, অর্জন ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও কথা বলেন।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ওভারসাইট
ক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জিসিপি গাইডলাইন অনুমোদন।
ক্স ৫টি ঈড়হঃৎধপঃ জবংবধৎপয ঙৎমধহরুধঃরড়হ (ঈজঙ) অনুমোদন এবং ২টি প্রক্রিয়াধীন।
ক্স ৮টি ট্রায়াল প্রোটোকল অনুমোদন এবং ৩টি প্রোটোকল অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মেডিকেল ডিভাইস
ক্স স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুমোদন।
ক্স মোট ৫৫১টি সেডিবেল ডিভাইসের রেজিস্ট্রেশন প্রদান।
ক্স ৪৬টি করোনারি স্টেন্ট-এর রেজিস্ট্রেশন প্রদান এবং ৪০টির এমআরপি নির্ধারণ।
ক্স ২২টি ইন্ট্রাওকুলার লেন্স-এর রেজিস্ট্রেশন প্রদান এবং ১৫টির এমআরপি নির্ধারণ।
ক্স সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
ক্স তালিকা মোতাবেক মূল্য গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
ক্স নিয়মিতভাবে মূল্য মনিটরিং করা হচ্ছে।
ক্স অনুরূপভাবে পেসমেকার, হার্টভালব গাইড ওয়ার, বেলুন ক্যাথেটারসহ করোনারি স্টেন্ট এক্সেসরিজের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও মূল্য নির্ধারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এক নজরে ২০১৬ সালের কার্যক্রম
ক্স মোবাইল কোর্ট : মোবাইল কোর্টে মামলা দায়ের ২১৬৯টি।
ক্স জরিমানা আদায় : ৬ কোটি ৬৬ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ টাকা।
ক্স কারাদ- ও সিলগালা : ৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-, নিয়মিত অভিযানে ১৬টি কারখানা সিলগালা এবং ২১টি ফার্মেসি সিলগালা করা হয়।
ক্স মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে জব্দ : আনুমানিক ১৭ কোটি টাকা মূল্যের আনরেজিস্টার্ড, মিসব্র্যান্ডেড, মেয়াদোত্তীর্ণ, সরকারি ওষুধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট জব্দ করা হয়।
ক্স ড্রাগ কোর্ট : ড্রাগ কোর্টে মামলা দায়ের ৪১টি।
ক্স ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট : ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের ৬৪টি।
ক্স চংবঁফড়বঢ়যবফৎরহব জাতীয় ২০১টি ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।
ক্স মান-বহির্ভূত হওয়ার কারণে ৪৪টি পদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে এবং ১৪টি পদের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক বাতিল করা হয়েছে।
ক্স ১৯টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
ক্স ১৪টি প্রতিষ্ঠানের পেনিসিলিন, সেফালোস্পোরিনসহ সকল ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ স্থগিত করা হয়েছে।
ক্স ২০টি প্রতিষ্ঠানের পেনিসিলিন, সেফালোস্পোরিন জাতীয় পদের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ স্থগিত করা হয়েছে।
উন্নত বিশ্বের আদলে রপ্তানির জন্য নতুন ফরমেটে প্রণীত বিভিন্ন সনদ
ক্স এগচ ঈবৎঃরভরপধঃব
ক্স ঈবৎঃরভরপধঃব ড়ভ চযধৎসধপবঁঃরপধষ চৎড়ফঁপঃং (ঈচচ)
ক্স ঋৎড়স ১০অ (ভড়ৎ ঊীঢ়ড়ৎঃ খরপবহপব)
ঈঞউ-ঈড়সসড়হ ঞবপযহরপধষ উড়পঁসবহঃং : ইউএসএ, ইইউ, জাপানসহ উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশে ঈঞউ ঋড়ৎসধঃ-এ ওষুধের রেজিস্ট্রেশন আবেদন গ্রহণ করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় সমতা বিধান হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক ঈঞউ ঋড়ৎসধঃ-এ পর্যায়ক্রমে রেজিস্ট্রেশন ডোসিয়ার গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ক্স চযধৎসধফবী বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন কনসেপ্ট।
ক্স এটি দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ক্স চযধৎসধফবী প্রচলনের ফলে দেশে ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরের ইমেজ বৃদ্ধি পাবে।
ক্স উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ওষুধের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঐধৎসড়হরুবফ হবে।
ক্স ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
ক্স জনগণের জন্য মানসম্পন্ন ওষুধ প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।
ঙহষরহব জবমরংঃৎধঃরড়হ ঝুংঃবস-চযধৎসধফবী
ঈঞউ ঋড়ৎসধঃ-এ ওষুধের রেজিস্ট্রেশন আবেদন ঙহষরহব-এ গ্রহণের জন্য টঝঅওউ এর অর্থায়নে গঝঐ/ঝওঅচঝ-এর কারিগরি সহায়তায় চযধৎসধফবী নামের একটি ঝড়ভঃধিৎব উবাবষড়ঢ় করা হয়েছে এবং সে মোতাবেক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
ক্স ঔষধ প্রশাসনের কর্মচারী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
ক্স ঔষধ কোম্পানির ২ জন করে কর্মকর্তা।
ক্স ৪০টি ঔষধ কোম্পানির মালিক ও প্রশাসকগণকে অবহিত করা হয়েছে।
চযধৎসধফবী ঙহষরহব জবমরংঃৎধঃরড়হ ঝুংঃবস
চযধৎসধফবী ঝড়ভঃধিৎব-এর মাধ্যমে ঙহষরহব জবমরংঃৎধঃরড়হ ঝুংঃবস প্রবর্তনের মাধ্যমে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক ঙহষরহব-এ সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। এর ফলে ঔষধ প্রশাসন উরমরঃধষরুধঃরড়হ-এর পথে এগিয়ে যাবে, যা বর্তমান সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য।
সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা উত্তরণে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রস্তাবনা
ওষুধ আইন বাংলায় প্রণয়ন : ঞযব উৎঁমং অপঃ, ১৯৪০ ধহফ উৎঁম (ঈড়হঃৎড়ষ) ঙৎফরহধহপব, ১৯৮২ একসাথে করে প্রয়োজনীয় ধারা সংযোজনসহ বাংলা ভাষায় প্রণয়নপূর্বক ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনটির অনুমোদন অতীব জরুরি। মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিলম্বিত পদোন্নোতির কারণে জনবলের স্বল্পতা : ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে পরিচালক পদের সংখ্যা ৪টি। বর্তমানে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। পরিচালক পদে পদোন্নতির জন্য ৫ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে মন্ত্রণালয়ের পদোন্নতির প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হয়। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সহকারী পরিচালকের পদ সংখ্যা ১৭টি। বর্তমানে ৭টি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ পদোন্নতি না হওয়ায় নতুন জনবল নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জনবলের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
ডঐঙ কর্তৃক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে ঋঁহপঃরড়হধষ ঘজঅ হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য নতুন অর্গানোগ্রাম
সুনির্দিষ্ট ও কার্যকরভাবে কর্মকা- পরিচালনার স্বার্থে প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামটিতে ডঐঙ-এর প্রতিটি ফাংশনকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন বিভাগ সৃজনসহ অর্গানোগ্রামটি নতুন ১ হাজার ৭৪৫ জন জনবলসহ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের অভিপ্রায় মোতাবেক প্রশাসনকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং প্রান্তিক পর্যায় হতে নকল-ভেজাল, আনরেজিস্টার্ড, কাউন্টারফেইট, মিসব্র্যান্ডেড ওষুধ ক্রয়/বিক্রয়, মজুদ ও বিতরণ রোধে প্রতিটি বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে পদ সৃজনের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
৭টি সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে কাঁচামাল এবং উৎপাদিত ওষুধ ক্লিয়ারেন্স-এর লক্ষ্যে ওষুধ তত্ত্বাবধায়ককে প্রধান করে ৩ জন জনবল সংবলিত ক্লিয়ারেন্স অফিস স্থাপনের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
ডঐঙ কর্তৃক ঘঈখ এর জবয়ঁধষরভরপধঃরড়হ প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা
ক্স অ্যানিমেল হাউজের পরিসর ও সুবিধাদি অপর্যাপ্ত।
ক্স প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব।
ক্স প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট ও রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড এর ঘাটতি।
ক্স সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নিমিত্তে বাজেট বরাদ্দ নেই।
ক্স প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল জনবলের অভাব।
ক্স ঘবি ঈযধষষবহমব রহ চযধৎসধ ঝবপঃড়ৎ
আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। নিম্ন বর্ণিত ঐরময ঞবপয গবফরপরহবং উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। যথা Ñ
ক্স ঠধপপরহব
ক্স গবফরপধষ উবারপব
ক্স ইষড়ড়ফ চৎড়ফঁপঃং
ক্স ইরড়ষড়মরপং ধহফ ইরড়ংরসরষধৎং
ক্স ঝঃবস ঈবষষ ঞযবৎধঢ়ু
ক্স ঈবষষ ঞযবৎধঢ়ু
ক্স এবহব ঞযবৎধঢ়ু
ক্স ঘধহড় ঞবপযহড়ষড়মু
ক্স জড়নড়ঃরপ ঝঁৎমবৎু
উল্লেখিত ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইস আমদানিতে আমদানিকারকগণ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরের এ নতুন বিষয়গুলোতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতায় ঘাটতি রয়েছে। তাই এসব বিষয়ের ওপর দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকা-কে কিভাবে আরো গতিশীল ও সময়োপযোগী করা যায়Ñ এমন এক প্রশ্নের জবাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমিত জনবল ও অপ্রতুল লজিস্টিক সাপোর্ট সত্ত্বেও জনগণের জন্য মানসম্পন্ন, নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ নিশ্চিতকল্পে ঔষধ প্রশাসন সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকা- পরিচালনার জন্য এ সংস্থা কর্তৃক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পেশকৃত জনবল সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি, ফার্মেসির সংখ্যা ও দেশে-বিদেশে ওষুধের চাহিদা বাড়ার কারণে আগের সীমিত জনবল দিয়ে বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বেশ কঠিন।