অর্থনীতি

সঞ্চয়পত্র-আবগারি শুল্ক নিয়ে সংসদে সরব সরকারি ও বিরোধীদলীয় এমপিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ব্যাংক আমানতের ওপর আরোপিত আবগারি শুল্ক বাড়ানো ও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা ১৫ ভাগ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। এ সময় তারা পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ধসে বিপুল মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ১৩ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত নতুন অর্থবছরের বাজেটের সঞ্চয়পত্র ও আবগারি শুল্ক নিয়ে সরব ছিলেন এমপিরা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়া ও প্যানেল চেয়ারম্যান শামসুল হক টুকু। আলোচনায় অংশ নেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সরকারি দলের বি এম মোজাম্মেল হক, শফিকুল ইসলাম শিমুল, অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, তানভীর ইমাম, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুছ, মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার, শেখ হাফিজুর রহমান, রেজাউল হক চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, স্বতন্ত্র স্বপন ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন ও ইয়াহইয়া চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নিয়ে সিরাজগঞ্জের এমপি তানভীর ইমাম বলেন, ‘সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানোর আগে রাজনৈতিকভাবে এটা বিবেচনা করতে হবে। সব দিকে সুদের হার কমানোর আগে বিকল্প বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা উচিত। মনে রাখতে হবে, ২০১৮ সালে তারা হবেন আমাদের সম্মানিত ভোটার। নির্বাচনের আগে এটা হচ্ছে আমাদের শেষ কার্যকর বাজেট। সিরাজগঞ্জের আরেক এমপি হাবিবে মিল্লাত বলেন, অল্প আয়ের মানুষের কথা চিন্তা না করে বেশি আয়ের মানুষের কাছ থেকে কর নেয়ার বিষয়টি চিন্তা করতে হবে। শুধু খামোশ বা রাবিশ বলে দায় এড়ানো যাবে না। অর্থমন্ত্রী আর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব আছে, সবাইকে বোঝাতে হবে করারোপের ফলে কার ক্ষতি হচ্ছে। সামনে নির্বাচন, এখন অনেকে বিদেশ থেকে টাকা এনে চরিত্র হননের কাজ করছেন। গণমাধ্যমে রিপোর্ট আসছে। এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
নুরুল ইসলাম মিলন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন। ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়ন আরও কঠিন। এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা নেই। কী করে এত অর্থ আদায় করবে? অর্থমন্ত্রী সব মানুষের ওপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আগামী বছর ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা ঋণ দাঁড়াবে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে। সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি দেখানো হয়েছে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্কের কারণে ভালো দিক চাপা পড়ে গেছে। ইয়াহইয়া চৌধুরী বলেন, সমাজের জন্য ক্ষতিকারক জিনিসের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপ করা হয়। আমার প্রশ্ন হলো আমার বৈধভাবে অর্জিত টাকা কিভাবে পাপ করের আওতায় আনা হলো? ব্যাংক খাতের অনিয়মের কারণে মানুষ যে এখনো ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি সেজন্য কি অর্থমন্ত্রী পাপ কর বসালেন? সাধারণ মানুষের টাকা এভাবে কাটতে পারে না সরকার।
শিরিন আখতার প্রস্তাবিত বাজেটে করকাঠামোয় কার্যকর সংস্কার করার আহ্বান জানান। তিনি ভ্যাটের মতো পরোক্ষ করের মাধ্যমে সাধারণ গরিব ভোক্তাদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে না দিয়ে প্রত্যক্ষ করারোপের সুপারিশ করেন। সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, অতীতের মতোই সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এ বাজেট বর্তমান সরকারের গত ৭টি বাজেটের মতো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত বাজেট জাতিসংঘ-ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তার মন্ত্রণালয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার শতভাগের ঊর্ধ্বে অর্থাৎ ১২১ শতাংশ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিল ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। সে অনুযায়ী ন্যাশনাল সার্ভিস কমিশনের আওতায় কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জসহ ৩টি জেলায় কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়া হয়। ওইসব জেলায় ৩৫ বছর পর্যন্ত কোনো যুবক এখন আর বেকার নেই। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, অর্থমন্ত্রী জাতির জন্য আশাজাগানিয়া বাজেট দিয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছি খালেদা জিয়ার মন্তব্যে। তিনি বলেছেন, এটা লুটপাটের বাজেট! ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়া ও তার পরিবার এই বাংলাদেশকে লুটপাটের রাজত্ব বানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এসব কারণে খালেদা জিয়াকে জনগণ আজ আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে।