রাজনীতি

টার্গেট একাদশ সংসদ নির্বাচন : ইসির সংলাপ শুরু ৩১ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ দফা এজেন্ডা নিয়ে বহুল আলোচিত সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের সঙ্গে প্রথম সংলাপ শুরু হবে। এর পরপরই আগস্টের মাঝামাঝি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। পর্যায়ক্রমে গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও সাবেক নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গেও আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ইতোমধ্যেই সংলাপের এজেন্ডা তৈরি করা হয়েছে বলে ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছালে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কেননা বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় (সশস্ত্র বাহিনী) সেনাবাহিনী নেই। সরাসরি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করে না সেনাবাহিনী। ফলে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের েেত্র সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়। বিএনপি আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। আওয়ামী লীগ বলেছে, নির্বাচন কমিশন চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী নির্বাচনে সম্পৃক্ত থাকতে পারে।
এই পরিপ্রেেিত ২ জুলাই আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে কমিশনের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আওতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে যদি সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য থাকে সে েেত্র কমিশন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখবে। সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে সবার ঐকমত্য থাকলে নির্বাচন কমিশন সেই সিদ্ধান্তে সম্মান দেখাবে।
১ জুলাই গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এর আগেও সোনাবাহিনী এ দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু এখন তারা সেনাবাহিনী চান না, কারণ ক্ষমতাসীনরা চান না মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিক।
আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্বদেশ খবরকে বলেন, সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আওতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে যদি সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্য থাকে সে েেত্র কমিশন জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করবে। তিনি জানান, এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য কমিশন আগামী ৩১ জুলাই থেকে সংলাপ শুরু করবে। প্রথমে সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ হবে।
ইসি সচিব আরো বলেন, সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৪টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় ৭ ধরনের বিষয় আছে। আগামী ১৬ জুলাই এটি চূড়ান্ত করা হবে। তবে চূড়ান্ত করার আগে এটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা হবে। এই কর্মপরিকল্পনার কপি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে। অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ইসির সংলাপে ডাকা হবে না।
ইসির নির্ধারিত ১০ এজেন্ডা
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ১০টি বিষয়ের ওপরে সুশীল সমাজের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মতামত চাইবে ইসি। এর মধ্যে রয়েছে :
১. রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন।
২. গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২, বিদ্যমান ইংরেজি আইনটি বাংলায় রূপান্তর ও এর প্রয়োজনীয় ধারা সংশোধন।
৩. নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ-১৯৭৬, বিদ্যমান ইংরেজি আইনটি বাংলায় রূপান্তর ও এর প্রয়োজনীয় সংশোধন।
৪. প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের ভোট দেয়ার প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত ও সহজীকরণ।
৫. মার্কা ছাড়া ব্যালট পেপার প্রবর্তন (আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নয়)।
৬. নির্বাচনি দায়িত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া।
৭. প্রার্থীদের মনোনীত পোলিং এজেন্টগণের প্রশিণের জন্য নির্বাচন কমিশনের সহায়তা।
৮. ভোট কেন্দ্র স্থাপন এবং ব্যবস্থাপনা।
৯. আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর দায়িত্ব ও ভূমিকা।
১০. নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও ভূমিকা। এছাড়াও সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা ব্যক্তিগতভাবেও নির্বাচনকেন্দ্রিক যেকোনো বিষয়ে মতামত মৌখিক ও লিখিতভাবে কমিশনের কাছে তুলে ধরতে পারবেন।
এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, আমাদের গাইড লাইনের বাইরে সংলাপে যারা অংশ নেবেন তাদের সুপারিশগুলো আমরা সংগ্রহ করবো। সুপারিশগুলোর মধ্যে যেগুলো সবার জন্য গ্রহণযোগ্য তা আমলে নেয়া হবে। তারপর প্রয়োজনে নির্বাচনি আইন সংশোধনের পদপে নেয়া হবে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রিত অতিথিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। যদিও এখন পর্যন্ত তা কমিশন সভায় অনুমোদন পায়নি। ইসির খসড়া তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আইনজীবী সুলতানা কামাল, এম হাফিজউদ্দিন খান, ড. আকবর আলি খান, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন (অব.), সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, অধ্যাপক ড. নাজমূল আহসান কলিমুল্লাহ, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ও সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা। তবে শিগগিরই কমিশন সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের সংখ্যা ও নাম চূড়ান্ত করা হবে এবং তাদের কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর কাজ শুরু হবে।
এদিকে, ইসির খসড়া রোডম্যাপে আরো কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে অন্যতম নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে না নিয়মিত বাহিনী হিসেবে কাজ করবেÑ সে বিষয়টি ইসির খসড়া রোডম্যাপে চূড়ান্ত করা হবে। তাছাড়া ইসি সারাদেশে সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণের বিভিন্ন দাবি ও বিতর্কেরও অবসান ঘটাতে চায় আলোচনার মাধ্যমে। সর্বোপরি রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চায় নির্বাচন কমিশন। আর ইসির সাম্প্রতিক কর্মকা-ে মনে হচ্ছে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন।