প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জনবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য বাজেট পাস

বিশেষ প্রতিবেদক : ২৮ জুন জাতীয় সংসদে অর্থবিল ২০১৭ পাস হয়। বাজেটের যে অংশে কর সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেগুলোকে একত্রিত করে অর্থবিল তৈরি করা হয়। অর্থবিল আরেক অর্থে বাজেট পাস হওয়ার পূর্বে পুরো জুন মাসজুড়েই ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক এবং নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা বাজেট নিয়ে সংসদে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠেন। এমনকি সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। বাজেট নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে সংসদ। এ অবস্থায় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন, বাজেটে কোনো অসঙ্গতি থাকলে, বাজেট পাসের আগেই তা সমাধান করা হবে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তার কমিটমেন্ট রক্ষা করেছেন এবং ২৮ জুন যখন অর্থবিল পাস হয়, তখন দেখা যায় ব্যাংকে আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং নতুন মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট/মূসক) আইন কার্যকর আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ বলা চলে গত অর্থবছরে মানুষ যে নিয়মে ও হারে ভ্যাট প্রদান করত, চলতি অর্থবছরেও সেভাবে ভ্যাট প্রদান করবে এবং আগামী ২ অর্থবছরেও একই নিয়মে ভ্যাট প্রদান করবে। এমনকি ব্যাংকে আমানতের ওপর ধার্যকৃত আবগারি শুল্ক অতীতের তুলনায় এবার অনেক কমেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই দুইটি সিদ্ধান্তে পুরোপুরি পাল্টে যায় বাজেটের চরিত্র; বিশেষ করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তাই অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে এবারের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট হয়ে ওঠে জনবান্ধব ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। তারা এও বলছেন, এতে সরকার বিরোধীরা খুশি না হলেও দেশের সাধারণ মানুষ এ বাজেটে খুবই খুশি। বিশেষ করে বাজেট প্রকাশের পরপর দেশের ব্যবসায়ী সমাজ বাজেট নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেও বাজেট পাসের পর তারাও অবশেষে খুশি হন। এমনকি এফবিসিসিআই, বিজেএমইএ ও বিকেএমইএসহ সব ব্যবসায়ী সংগঠন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন ভ্যাট আইন ২ বছরের জন্য স্থগিত করার কারণে।
২৮ জুন যখন অর্থবিল পাস হয় তখনই নির্ধারণ হয়ে যায় ব্যাংকে আমানতের ওপর মানুষকে আর বাড়তি আবগারি শুল্ক দিতে হবে না এবং বাড়তি ভ্যাটও দিতে হবে না। সে অর্থে অনেকেই ভেবেছিল, বাজেটের আকার কিছুটা ছোট হয়ে আসবে এবং সেটা ৪ লাখ কোটি টাকায় না-ও থাকতে পারে। কিন্তু ২৯ জুন সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার ল্য পূরণে চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেটই সাংসদদের মাধ্যমে পাস করিয়ে নেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২৯ জুন জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মাধ্যমে এ বাজেট পাস করা হয়।
গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ বাজেট পেশ করেন। বাজেট আলোচনায় মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন। এ মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। প্রধান বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যগণ মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে মোট ৩৫২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে ৫টি দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। এরপরই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করা হয়।
২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপির) মাধ্যমে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এডিপির বরাদ্দের েেত্র সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে ২৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।
বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সংগ্রহের ল্য ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। বাজেটে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা।
রাজস্ব আহরণের মোট ল্যমাত্রার মধ্যে ভ্যাট থেকে সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা আহরণের ল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আয়কর থেকে রাজস্ব আহরণের ল্যমাত্রা ৮৬ হাজার ৮৬৭ কোটি ও আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক থেকে ৬৮ হাজার ২১২ কোটি টাকা। এেেত্র এনবিআরের ল্যমাত্রায় প্রবৃদ্ধি ২৯ শতাংশ। তবে নতুন ভ্যাট আইন পিছিয়ে যাওয়ায় এ ল্যমাত্রা পূরণে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে এনবিআরকে।
বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির ল্যমাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেটে মোট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ শিা ও প্রযুক্তি খাতে, জনপ্রশাসন খাতে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, সুদ প্রদান খাতে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, প্রতিরা খাতে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, কৃষি খাতে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৬ শতাংশ, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ৫ দশমিক ২ শতাংশ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সার্ভিস খাতে ১ শতাংশ, বিবিধ ব্যয় খাতে ২ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এর আগে অর্থ বিভাগ খাতে ৫৩ হাজার ৮৩৩ কোটি ৮০ লাখ ৭১ হাজার টাকা দাবির বিপরীতে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
বাজেট আলোচনায় সড়ক বিভাগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের বিরোধিতা করে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা বলেন, শুধু রাস্তা নির্মাণ করলেই হবে না, জনগণ যাতে নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। যানজট নিরসনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। সড়ক নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবশ্যই সড়ক নির্মাণের মান বৃদ্ধি করতে হবে।
জবাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনা যারা করেন তারা আমার বন্ধু। চাটুকার-মোসাহেবরা আমার শত্র“। কারণ তারা বলবে সব ঠিক আছে। কারোর মনে করা উচিত নয়, আমরা সব ভালো করছি। আমাদেরও ভুল হতে পারে, ভুল হয়।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি বাজেটের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে। ভাবটা এমন ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন করবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর গঠনমূলক পদেেপর কারণে পাস হওয়া বাজেট নিয়ে এখন সারাদেশেই আনন্দ-উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৩ বছরের মধ্যে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কম হয়েছে।’
সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণে কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে, শতভাগ দুর্নীতি দূর করা সম্ভব হয়নি। ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বীকার করছি যানজট রয়েছে। এবারের ঈদে ১ কোটি মানুষ গ্রামে-গঞ্জে গেছে। স্পিড কম ছিল, কিন্তু যানজট ছিল না। মন্ত্রী-এমপি-ভিআইপিরা উল্টো পথে গেলেই যানজট হয়। জনগণকে আইন মানতে বলার আগে আমাদের নিজেদের আইন মানতে হবে। আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন না হলে যানজট দূর হবে না। আর পদ্মা সেতুর কাজ ৪৬ ভাগ অগ্রগতি হয়েছে। মহাসড়কে ত্রি-হুইলার চালানোর ব্যাপারে কারো উৎসাহিত করা উচিত নয়, এতে প্রাণহানির ঘটনা বেশি হচ্ছে।’
বাজেট আলোচনায় স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের বিরুদ্ধে ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, সরকার চিকিৎসক দিলেও তারা এলাকায় থাকেন না। অনেক স্থানেই আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। অনেক জেলায় সিসিইউ, আইসিইউ নেই। বাজেট অপ্রতুলতার কারণে তৃণমূলে অ্যাম্বুলেন্স নেই। জননিরাপত্তা কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে; ফলে জনসংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। সব উন্নয়ন বৃথা যাবে যদি জন্মনিয়ন্ত্রণ করা না যায়। এটি সর্ববৃহৎ সেবা খাত, তাই এ খাতে বাজেট আরো বাড়াতে হবে।
জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস করেন বলেই দেশেই চিকিৎসা নেন। অথচ সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ বিদেশে চিকিৎসা নেন। এটা ঠিক নয়। বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি চান সেটা অর্থমন্ত্রীকে বলুন। বাংলাদেশে অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সার্জন রয়েছেন। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও কাজ করে যাচ্ছি বলেই বিশ্বের অনেক দেশ থেকে স্বাস্থ্যসেবায় আমরা অনেক দূর এগিয়ে আছি। এমনকি ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও স্বাস্থ্য সেবায় বাংলাদেশ এগিয়ে। দেশে এখন স্যানিটারি লেট্রিন ব্যবহারের হার ৯৯ ভাগ।’
বাজেট আলোচনায় স্থানীয় সরকার বিভাগ খাতে বরাদ্দের বিরুদ্ধে ছাঁটাই প্রস্তাব এনে বিরোধী দল সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেন, দেশের অনেক স্থানেই রাস্তাঘাট ধ্বংসের পথে। দতার অভাবে অনেক রাস্তা নির্মাণের পরেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার দীর্ঘদিনেও ঠিকাদাররা কাজ শেষ করছে না। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের কোনো কর্মকা- পরিচালিত হয় না। দেশ ডিজিটাল হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনো এনালগভাবে চলছে। ঠিকাদাররা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কাজ নিয়ে সঠিকভাবে করছে না, কাজ না করেই বিল নিয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তিই নষ্ট হচ্ছে। এসব বন্ধ করতে হবে। আর সারা দেশেই সুষম উন্নয়ন করতে হবে।
জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্থানীয় সরকার উন্নয়নমুখী বিভাগ। নগর ও গ্রামীণ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয় এই বিভাগের মাধ্যমে। ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৬২ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করেছে। প্রত্যেকটা গ্রামকে আমরা যোগাযোগের আওতায় আনছি।’ তিনি বলেন, ‘সমস্যা রাস্তার নয়, সমস্যা হচ্ছে ট্রাফিকের। ধারণ মতার বাইরে লোড পড়লেই রাস্তা তিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমেই সারাদেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে।
এবারের জাতীয় বাজেটে পদ্মা সেতু, একটি বাড়ি একটি খামারসহ দশটি মেগা প্রকল্পসহ যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, শিা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ১ জুন জাতীয় সংসদে ‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শীর্ষক ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা গত ৭ জুন শুরু হয়। ২৮ জুন সংসদ নেতা ও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাধারণ আলোচনা শেষ হয়। প্রায় সোয়া ৫৬ ঘণ্টার এ আলোচনায় সরকারি দলের ১৬৫ জন ও বিরোধী দলের ৪২ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। এরপর ২৮ জুন সংসদে অর্থবিল ২০১৭ পাস হয় আর বিদায়ী অর্থবছরের শেষ কর্মদিবসে ২৯ জুন পাস হয় দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। এর আগে আলোচনা শেষে মঞ্জুরি দাবিগুলো কণ্ঠভোটে গৃহীত হয় সংসদে। এরপর অর্থমন্ত্রী নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১৭ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে সর্বসম্মতিতে তা পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট বাস্তবায়নের যাত্রাকে স্বাগত জানান।
শেষ কথা
এবারের বাজেটটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের, তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য দ্বিতীয় প্রেতি পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা ভাবছেন। তাই একটি উন্নত এবং ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সুস্থ-সবল আলোকময় বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি তার সর্বশেষ প্রণীত বাজেটে।
আমাদের যেতে হবে অনেক দূরÑস্লোগান দেয়া ৮৫ বছর বয়সী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৮ বছর আগের ৯৫ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে টেনে তুলেছেন ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকায়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট করার কথা আগাম জানিয়ে রেখেছেন তিনি। ১ জুন অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে বলেছেন, ’৭৫-এর নারকীয় ঘটনা না ঘটলে এখন আমরা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে থাকতাম, মধ্যম আয়ের দেশ হতাম আরো ২০ বছর আগেই। তবে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর দেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসী ও মৌলবাদের আক্রমণের মধ্যেও বিশ্বের বিস্ময়রূপে অটল হিমালয়ের মতো চির উন্নত শিরে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।