প্রতিবেদন

প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা : পিজিআর’কে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঢাকা সেনানিবাসস্থ পিজিআর সদর দপ্তরে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ জুলাই ঢাকা সেনানিবাসস্থ পিজিআর সদর দপ্তরে যান। সকালে রেজিমেন্ট মসজিদে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া এবং পরে কোয়ার্টার গার্ডে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন করার মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় গঠিত হয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিজিআরের সকল সদস্যের উদ্দেশে রাখা বক্তব্যে পিজিআর সদস্যগণ পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে পরিশ্রম, দক্ষতা, কর্তব্যপরায়ণতা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি প্রতিটি পিজিআর সদস্যকে যেকোনো অবস্থায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের বিনিময়ে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন।
৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদর দপ্তরে পৌঁছলে রেজিমেন্টের কোয়ার্টার গার্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক এবং পিজিআর-এর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুন তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকল অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসারদের সাথে সাক্ষাৎ এবং কুশলাদি বিনিময় করেন। একদল চৌকস গার্ড তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করেন। তিনি সকলের উপস্থিতিতে রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় নিহত শহীদদের স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের মাঝে উপহার সামগ্রী ও অনুদান হস্তান্তর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সকলের সাথে পিজিআর-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতিভোজে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক (অব.), নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নুল আবেদীন বীর বিক্রম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহ্যবাহী প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। আপনারা জানেন, ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসামান্য দূরদর্শিতায় রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমি আরও স্মরণ করছি ১৫ আগস্টে শাহাদৎবরণকারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও জাতির পিতার পরিবারের সদস্যবর্গসহ সকল শহীদকে। আরও স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।
জাতির পিতার প্রতিষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট কালের আবর্তে আজ স্বমহিমায় উজ্জ্বল ও ঐতিহ্যে ভাস্বর। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা দায়িত্ব ও রাষ্ট্রাচার অনুষ্ঠানে আপনাদের ভূমিকা আজ সর্বজন প্রশংসিত।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে আমাদের পরিবারের আছে গভীর বন্ধন। আমার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। অপর ভাই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ব্রিটেনের স্বনামধন্য স্ট্যান্ডহার্সট মিলিটারি একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত হন। সবার ছোট ভাই শেখ রাসেলেরও ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে সে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে দেশ সেবা করবে। সে সেনাসদস্যের কর্মকা- দেখে খুবই উৎসাহবোধ করত। কিন্তু ঘাতকের বুলেট দশ বছরের শিশুটির ছোট্ট বুক বিদীর্ণ করায় তার স্বপ্নেরও যবনিকা হয়। আমি আপনাদের মাঝে আমার হারানো ভাইদের স্মৃতি খুঁজে পাই।
সরকার প্রধান হিসেবে এ রেজিমেন্টের সাথে আমার একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমার দায়িত্ব পালনকালে আপনাদের সাথে প্রতিদিনই দেখা হয়। আপনাদের দক্ষতা, কর্তব্যপরায়ণতা ও একাগ্রতা প্রমাণ করে আপনারা সকলেই বিশেষভাবে নির্বাচিত ও নির্ভরযোগ্য গার্ডস সদস্য। আপনারা অত্যন্ত বিশ্বস্ততা, আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সাথে গার্ডস-এর দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদের নিরলস পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময়ে গার্ড রেজিমেন্ট আজ সুসংহত ও সর্বজন প্রশংসিত। দিন-রাত রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে আপনাদের একনিষ্ঠ কর্তব্য পালন দেখে আমি মুগ্ধ ও গর্বিত হই।
আমাদের সরকার সর্বপ্রথম ১৯৯৮ সালে গার্ডস সদস্যদের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে গার্ডস ভাতার প্রচলন করে। এই রেজিমেন্টের সাংগঠনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী ও শক্তিশালীরূপে পুনর্গঠিত করা হয়।
গার্ডস সদস্যদের ট্রেনিং কার্যক্রমকে আরও সহায়ক ও কার্যকর করতে ইতোমধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে একটি নতুন মাল্টিপারপাস শেড নির্মাণ হয়েছে। গণভবন পিজিআর ব্যারাকে চারতলা ভবন উদ্বোধনের মাধ্যমে আবাসন সমস্যা অনেকটাই সমাধান হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা সেনানিবাসে গার্ডস পরিবারের জন্য আলাদা ১৪-তলা পারিবারিক বাসস্থানের নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটি আমার পক্ষ থেকে গার্ডস সদস্যদের জন্য একটি উপহার। ভবিষ্যতেও গার্ডসদের উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা রাখি।
আমি সবসময় চাই আপনাদের যথাসাধ্য ভালো রাখতে। আপনাদের উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে সকল পদক্ষেপ আমাদের সরকার গ্রহণ করবে, ইনশাআল্লাহ।
দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কাজ আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে সেনানিবাস ও সামরিক স্থাপনাসমূহে প্রশিক্ষণ ও সৈনিক কল্যাণের লক্ষ্যে বিভিন্ন অবকাঠামো ও স্থাপনা নির্মাণ করেছি। সেনাসদস্য হিসেবে এর সুফল আপনারাও পাচ্ছেন। আমাদের সরকার সামগ্রিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ টেকসই অবকাঠামো গভীর সমুদ্রবন্দর, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল, ফোর লেন-রাস্তা, আন্তঃদেশীয় রেল প্রকল্প এবং এলএনজি টার্মিনাল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। আমি বিশ্বাস করি, এ সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমাদের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
আমাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। দারিদ্র্যের হার ২০১০ সালের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১৬ সালে ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
বিভিন্ন প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত অর্থবছর আমরা ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭২ বছর। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি লাভ করেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম-আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা লাভ করা।
আমরা এমডিজি বাস্তবায়নে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছি। এমডিজি সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আমরা এসডিজি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এসডিজি’র বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি।
আমাদের সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে শান্তি রক্ষায় বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ইতোমধ্যেই তারা প্রমাণ করেছে। এজন্য দেশ ও জাতি হয়েছে গর্বিত ও আশান্বিত। আপনারা সকলে সেই গর্বিত ও দক্ষ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত।
আপনাদের দৃপ্ত পদচারণায় এবং কর্তব্য পালনের একনিষ্ঠতায় আমি একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনীর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আপনাদের এ সম্মান চিরদিন অক্ষুণœ রাখেন।
সরকারপ্রধান বলেন, কার্যকরী কমান্ড চ্যানেল সেনাবাহিনীতে যেকোনো কাজ সমাধানে মুখ্য ভূমিকা রাখে। আমি বিশ্বাস করি, সকল স্তরের কমান্ডারদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও তাদের প্রতি অনুগত থাকলে যেকোনো কাজ দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও নৈপুণ্যের সাথে সম্পন্ন করা সম্ভব। নেতৃত্বের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখে সকল কাজে আপনারা এগিয়ে যাবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি। একই সাথে আমি আশা করি সকল স্তরের কমান্ডারগণও তাদের অধীনস্থদের প্রতি সবসময়ই প্রয়োজনীয় মনোযোগ বজায় রাখবেন এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে যতœশীল থাকবেন।
আপনারা সবসময় স্মরণ রাখবেন, কমান্ড চ্যানেল কার্যকর রেখে সকল আদেশ নিষেধ মান্য করে কর্তব্য পালন করাই একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক জীবনে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জিত হয় এবং নৈপুণ্য নিশ্চিত করা যায়। সঠিক প্রশিক্ষণ সকলকে পেশাগত মান বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে আমাদের সরকার সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায়। সকল ক্ষেত্র ও প্রতিষ্ঠানের ন্যায় পিজিআরও তার দায়িত্ব পালনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার তাদের কায়িক শ্রম লাঘব এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরী করেছে। কর্তব্য পালনের পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনারা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত অনুশীলন চালিয়ে যাবেন বলে আমি আশাবাদী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি স্মরণ করছি, আপনাদের পূর্বসূরিদের, যারা কর্তব্য পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের মাধ্যমে এ রেজিমেন্টের ইতিহাসকে করেছে গৌরবোজ্জ্বল এবং অনুকরণীয়। দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আপনাদের একাগ্রতা ও আত্মোৎসর্গের মনোভাব যেন চিরদিন বজায় থাকে। এ বিশেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহতাআলা যেন তাঁদের বেহেশতবাসী করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসামান্য ত্যাগ ও সংগ্রামের চূড়ান্ত ফলাফল রূপে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ আমাদের উপহার দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের যে মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্রজাতি সেদিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মরণপণ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, সেই চেতনা ও মূল্যবোধ চিরঅম্লান।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। দেশকে ভালোবেসে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি দায়বদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধের অর্জনসমূহ আমাদের লালন করতে হবে।
আমরা রক্ত দিয়ে দেশ শত্রুমুক্ত করেছি। বীরত্বপূর্ণ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জয়লাভ করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। জাতির পিতার ভাষায় বলতে পারিÑ আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। দেশি-বিদেশি কোনো চক্রান্তের কাছে আমরা মাথা নত করি না। আমরা পদ্মা সেতু নিয়ে হওয়া ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যেমন নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করছি, তেমনি দুর্নীতি প্রচেষ্টার অপবাদ মিথ্যা প্রমাণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস আমাদের জানতে হবে। তাহলেই আমরা একটি আত্মবিশ্বাসী জাতি হয়ে উঠতে পারব। আমাদের দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ বাড়বে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য, মঙ্গল ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট তার চিরাচরিত সুনাম অক্ষুণœ রেখে ভবিষ্যতে অধিক সফলতা অর্জনে সক্ষম হোক। আত্মবিশ্বাসী পদভারে তারা আরও সামনে এগিয়ে যাক। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হোন।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠা লাভের পর হতেই পিজিআর দেশ ও বিদেশ থেকে আগত রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সরকারিভাবে ঘোষিত যেকোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্বসমূহ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সকল প্রকার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছে।