প্রতিবেদন

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত নিযুক্ত হলেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ অটিজম ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলকে দণি-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শুভেচ্ছা দূত হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলকে অটিজম ডিসঅর্ডার বিষয়ে বিশ্বখ্যাত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অভিহিত করে ৬ জুলাই ডব্লিউএইচওর এক বিবৃতিতে তাকে ২ বছরের জন্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়।
ডব্লিউএইচওর দণি-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ত্রেপাল সিং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত ঘোষণাকালে বলেন, অটিজম শনাক্তকরণে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্রমাগত যে শ্রম দিচ্ছেন তা প্রশংসনীয়। তাছাড়া তিনি আক্রান্তদের দুর্ভোগ হ্রাসে ও সচেতনতা তৈরিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
গত এপ্রিলে ভুটানে একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অটিজমসহ অন্যান্য নিউরো ডিসঅর্ডারের ওপর থিম্পু ঘোষণা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। ওই ঘোষণায় স্বাস্থ্য, শিা ও সামাজিক সুরা খাতে কার্যকর সেবা ও অটিজমসহ অন্যান্য নিউরো ডিসঅর্ডার আক্রান্তদের সহায়তায় জাতীয় সমতা জোরদার কার্যক্রম অগ্রাধিকারে রেখে সমাজ ও সরকারের ভূমিকার দাবি করা হয়েছে।
পুনম ত্রেপাল সিং বলেন, শুভেচ্ছা দূত হিসেবে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল থিম্পু ঘোষণার প্রসারেও কাজ করবেন। স্কুল সাইকোলজিস্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সনদপ্রাপ্ত সায়মা হোসেনকে এর আগে গত এপ্রিলে ১১টি দেশের দণি-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য অটিজম বিষয়ক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিয়োগ দেয় ডব্লিউএইচও। এছাড়া গত বছরের মে মাসে তাকে ডব্লিউএইচওর অটিজম বিষয়ক আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অভিহিত করা হয়। অটিজম বিষয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদানের জন্য ডব্লিউএইচও তাকে ২০১৪ সালের জন্য এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডও প্রদান করেছে।
ডব্লিউএইচও’র মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের উদ্যোগেই ২০১১ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বলেছিলেন, অটিস্টিক জনগোষ্ঠীকে বিশ্বের মূলধারার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-ে যুক্ত করার ল্েয তাদের শিা, প্রশিণ ও সেবা দিয়ে কর্মোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য বিশ্বের ুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেছিলেন, সহযোগিতার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতের উদ্যোগ, অটিস্টিকদের জীবনের পুরোটা সময় সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ, দেশভিত্তিক বহু খাত ও স্তরভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, টেকসই ও সাশ্রয়ী কর্মকৌশল বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিলোপ ঘটাতে হবে। শিা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক সেবাসহ প্রতিটি খাতে অটিস্টিকদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অটিজম মোকাবিলায় গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও সীমিত সেবা, সেবাদানকারীদের মানসম্পন্ন প্রশিণের অভাব এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে এসব চ্যালেঞ্জ ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের শুভেচ্ছা দূত সায়মা ওয়াজেদ। অটিজম আক্রান্ত শিশুরাও এই সমাজের অংশ এবং তাদেরও সকল পর্যায়ে সমান অধিকার থাকার বিষয়টি যত বেশিসংখ্যক মানুষ বুঝতে পারছেন, সমস্যাটি ততই হালকা হয়ে আসছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কর্মতৎপরতা সম্পর্কে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, ২০১১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দণি এশীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অটিজম সচেতনতা ও সেবা নিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে অটিজম বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি, জাতীয় পরামর্শক কমিটি এবং কারিগরি নির্দেশক কমিটির মাধ্যমে সমন্বিতভাবে অটিজম সচেতনতা, দ্রুত চিহ্নিতকরণ, সেবা ও পুনর্বাসনে কাজ চলছে। এ জন্য ১৩টি মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে। চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় টেকসই কৌশল নির্ধারণ করে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির প্রধান সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বলেন, বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, শিা, প্রশিণ ও গবেষণার জন্য ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অটিস্টিক শিশুর মা-বাবার মতায়ন, নীতি ও আইনি কাঠামো চিহ্নিতকরণ, সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও অভিভাবকের সমন্বয়, দ পেশাজীবী গড়ে তোলা ও অধিকতর প্রশিণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের সামর্থ্য বাড়ানো, প্রচলিত জনস্বাস্থ্য, শিা ও কর্মসংস্থান প্রশিণে অটিজমকে সম্পৃক্ত করা, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং সার্বণিক মনিটরিং ও গবেষণাÑ এই ৭টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৬ স্তরের কর্মসূচি গ্রহণ করে কাজ চলছে, যেখানে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসা-শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
অটিজম নিয়ে এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, তা জাতিসংঘেও তুলে ধরেছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। জাতিসংঘকে তিনি জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার ফর নিউরোডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অটিজম ইন চিলড্রেন সেন্টার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ এবং অটিস্টিকদের জন্য শিা ও প্রশিণ ইনস্টিটিউট চালু করা হয়েছে। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী, শিক, প্রশিক, চিকিৎসক, সেবাদানকারী ও মা-বাবার প্রশিণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অটিস্টিক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের বিনামূল্যে বিভিন্ন সেবা দিতে মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন চত্বরে অটিজম রিসোর্স সেন্টার চালু করা হয়েছে। অটিস্টিকসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধীকে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসা দিতে দেশের ৬৪ জেলায় ১০৩টি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর অঙ্গীকার রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প থেকে।
১ এপ্রিল ২০১৬, ‘জাতিসংঘে অটিজম মোকাবিলা : এসডিজির আলোকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কৌশল’ শীর্ষক এক হাই-লেভেল ইভেন্টে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। সেখানে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন ল্েযর (এসডিজি) আলোকে অটিজম মোকাবিলায় বিশ্ব কৌশল গ্রহণে বাংলাদেশের বহুমুখী ও বহুপাকি মডেল অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী অটিজম ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার রা, তাদের জীবনমানে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৃষ্টিশীল, সুলভ ও টেকসই পরিকল্পনা নিতে হবে। এই ল্েয বাংলাদেশ ৭ বছর ধরে বহুমুখী ও বহুপাকি মডেল বাস্তবায়ন করে আসছে। ফলে এরই মধ্যে ল্য অর্জনে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।
অটিজমসহ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বিভিন্ন কর্মকা-ের উল্লেখ করে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধীদের অধিকার রায় আন্তর্জাতিক আইন গ্রহণের েেত্র বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে। বাংলাদেশ এর প্রটোকলও স্বার করেছে।
অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৬ উদযাপন উপলে জাতিসংঘের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ, কাতার, দণি কোরিয়া, উজবেকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও অটিজম স্পিকস যৌথভাবে ওই ইভেন্টের আয়োজন করেছিল। ইভেন্টে প্রত্যেক বক্তাই দণি এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে বাংলাদেশে অটিজম বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার রায় অনন্য সাফল্য অর্জন করায় সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের প্রশংসা করেন।
স্কুল মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিবন্ধীসহ সব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরণ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ১৯৯৯ সালে জাতীয় ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। ২০০১ সালে তাদের অধিকার রায় প্রথম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন যুগোপযোগী করা হয়েছে। সেই বছরই অটিস্টিকসহ অন্যান্য মানসিক প্রতিবন্ধীর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যা নিশ্চিতে বাংলাদেশে জাতীয় নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার সংরণ ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
ওই অধিবেশনে বৈষম্য হ্রাস (এমডিজি ১০) বিষয়ক এক প্যানেল আলোচনায় সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বলেন, অটিস্টিকদের অধিকার রা, শিা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য আর্থসামাজিক কর্মকা-ে বাংলাদেশের ১৪টি মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এসব মন্ত্রণালয়ের সামাজিক সেবাকেন্দ্র, কমিউনিটি হেলথ কিনিক, স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অটিস্টিক ও তাদের পরিবারদের সেবা দিচ্ছে। তাদের শিা ও প্রশিণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য এসব প্রতিষ্ঠান তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঢেলে সাজিয়েছে। এর ফলে এই কর্মযজ্ঞ এখন আর কেবল অস্টিটিক পরিবার ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নীতি-নির্ধারণ, সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা সবাই এর অংশীদার হয়েছেন। নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। অটিজম মোকাবিলায় বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর জাতিসংঘের অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে একজন আন্তর্জাতিক অটিজম বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমন্ত্রিত হচ্ছেন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশে অটিজম সচেতনতা উদ্বুদ্ধকরণ কর্মকা- শুরু করেন।
উল্লেখ করা প্রয়োজন, সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের অটিজম এবং স্নায়বিক জটিলতাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর কাজ শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ায়। প্রথমে নিজ দেশ বাংলাদেশে এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘ ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় তিনি কাজ করেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পুতুলকে ‘হু এক্সিলেন্স’ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দণি-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পুনম ত্রেপাল সিংয়ের উদ্যোগে এই অঞ্চলের ১১টি দেশের জন্য এ পুরস্কার চালু করা হয়। এর আওতায় জনস্বাস্থ্যে অবদানের জন্য প্রতি বছর একজন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। মনস্তত্ত্ববিদ সায়মা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অটিজম স্পিকস’-এর পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন। তিনি ২০১৩ সালের জুন থেকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ‘বিশেষজ্ঞ পরামর্শক প্যানেলে’ অন্তর্ভুক্ত আছেন। পুতুলের উদ্যোগেই ২০১১ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় অটিজম নিয়ে দণি এশিয়ার প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের পর গড়ে ওঠে সাউথ এশিয়ান অটিজম নেটওয়ার্ক। সংগঠনটি দণি এশিয়ার দেশগুলোতে অটিস্টিক শিশুদের স্বাস্থ্য, সামাজিক ও শিা সহায়তা দেয়ার জন্য অবকাঠামো গড়তে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যার উদ্যোগেই অটিজম সচেতনতায় বাংলাদেশের একটি প্রস্তাব বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিষদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। হু এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের সময় সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল বলেছিলেন, ‘মানসিকস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করাই আমার দায়িত্ব।’ এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০০৮ সালের পর থেকে সায়মা ওয়াজেদ অটিজম সমস্যার উন্নয়নে কাজ করার জন্য অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড পান। সবগুলো অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের সময়ই পুতুল বলেন, মানসিকস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করাই তাঁর দায়িত্ব। পুতুল সে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। সেই নিষ্ঠারই একটি ক্ষুদ্র অর্জন ব্যারি ইউনিভার্সিটির প্রদত্ত সম্মাননা। অটিজম আন্দোলন ও বিশ্বস্বাস্থ্যে অবদান রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যারি ইউনিভার্সিটি ডিসটিংগুইসড অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ডস প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলকে। গত ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারি ফোরিডার মায়ামিতে ব্যারি ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননাপত্রে উল্লেখ করা হয়, মনোবিজ্ঞানী সায়মা ওয়াজেদ শিশুদের অটিজম বিষয়ে একজন আন্তর্জাতিকপর্যায়ের প্রবক্তা। তিনি ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি, ২০০২ সালে কিনিক্যাল সাইকোলজির ওপর মাস্টার্স ডিগ্রি এবং ২০০৪ সালে স্কুল সাইকোলজির ওপর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নের ওপর গবেষণা করেন। এ বিষয়ে তার গবেষণাকর্ম ফোরিডার একাডেমি অব সায়েন্স কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সায়েন্টিফিক উপস্থাপনা হিসেবে স্বীকৃত হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৬ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলকে শুভেচ্ছা দূত নিযুক্ত করে।