প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

বিশ্বের প্রভাবশালী ১৮ শীর্ষ নারী নেতৃত্বের তালিকায় অন্যতম শেখ হাসিনা : শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ


মেজবাহউদ্দিন সাকিল : বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বর্তমান ১৮ জন নারী নেতাকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগ্রাম ও অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে ওই ১৮ জনের মধ্যে শেখ হাসিনা অন্যতম হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন; যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের খবরও বটে।
‘উইমেন প্রেসিডেন্টস অ্যান্ড প্রাইম মিনিস্টারস’ অর্থাৎ ‘নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামের ওই বইয়ের প্রচ্ছদে ৭ জন নারী নেতার ছবি স্থান পেয়েছে, যাদের একজন বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইটির লেখক যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মানবাধিকারকর্মী ও শিাবিদ রিচার্ড ও’ব্রায়ান।
২৭ জুন ওয়াশিংটন ডিসির উইমেন্স ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক কাবে (ডব্লিউএনডিসি) এ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব হয়, যাতে বিদেশি কূটনীতিক, সুধীসমাজের প্রতিনিধি ও নারী ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন বলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গ্রন্থটিতে শেখ হাসিনার গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রম, তাঁর জীবননাশের চেষ্টা এবং বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক অর্জন লিপিবদ্ধে তিন পৃষ্ঠা উৎসর্গ করেন লেখক।
রিচার্ড ও’ব্রায়ান বাংলাদেশকে অধিকতর স্থিতিশীল ও অধিকতর গণতান্ত্রিক এবং অপোকৃত কম হিংসাত্মক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রয়াসের প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক বইটিতে শেখ হাসিনার একটি উক্তি উদ্ধৃত করেন; আর তাহলোÑ‘বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ও ুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই আমি গর্বিত হব।’
বইটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পারিবারিক পটভূমির উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। লেখক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকা-ের বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ করেন, ওই সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান।
রিচার্ড ও’ব্রায়ান ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগকে পরিচালনার নেতৃত্বের পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি নির্বাচনি কারচুপি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সে সময় তাঁকে দমন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং আশির দশকে তিনি গৃহবন্দি হন।
এরশাদের শাসনামলের উল্লেখ করে লেখক ও’ব্রায়ান বলেন, সরকারের নির্যাতন সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এতই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় ছিলেন যে তাঁর চাপে ১৯৯০ সালে একজন সামরিক জান্তাকে পদত্যাগ করতে হয়। বইটিতে লেখক বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার ১৯৯৭ সালে যুগান্তকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং ুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীকে সহায়তা ও নারী কল্যাণ, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক ইতিবাচক কর্মকা- বাস্তবায়ন করেছেন।
রিচার্ড ও’ব্রায়ান তার গ্রন্থে শান্তি ও গণতন্ত্রের বিকাশে শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উল্লেখ করে বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) মাদার তেরেসা পদক ও গান্ধী পদক অর্জন করেছেন।
রিচার্ড ও’ব্রায়ান সারা বিশ্বের শত শত নারী নেত্রী ও প্রায় অর্ধশত নারী প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে মাত্র ১৮ জন নারীকে বেছে নিয়েছেন। রিচার্ড ও’ব্রায়ানের এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় শেখ হাসিনার অন্তর্ভুক্তি সহজ ছিল না। লেখক তার সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান দেয়ার জন্য নারী নেত্রীদের যেসব গুণাগুণ বিবেচনায় নিয়েছেন তাতে শেখ হাসিনা ছিলেন সর্বাগ্রে। রিচার্ডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ১৮ জন নারী স্থান পেলেও ‘উইমেন প্রেসিডেন্টস অ্যান্ড প্রাইম মিনিস্টারস’ বইটির প্রচ্ছদে ৭ জন নারীকে স্থান দিয়েছেন। বইটির প্রচ্ছদের ৭ জন নারীর অন্যতম হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং জনগণকে দেয়া কমিটমেন্ট অনুযায়ী শান্তি ও গণতন্ত্রের বিকাশে নিরলস পরিশ্রম তথা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পেরেছেন বলেই একের পর এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাচ্ছেন। রিচার্ড ও’ব্রায়ানের ‘উইমেন প্রেসিডেন্টস অ্যান্ড প্রাইম মিনিস্টারস’ গ্রন্থে শেখ হাসিনার অন্তর্ভুক্তি সেই স্বীকৃতিরই একটি অংশ। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকল্পের টেকসই উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি নজর দিয়েছেন শেখ হাসিনা। লক্ষ্য একটাই। জাতিসংঘ প্রণীত এসডিজি বা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, এমডিজির মতো এসডিজি বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ সফলতা দেখাবে। এসডিজির সবগুলো সূচকে উন্নতি করতে পারলেই ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হবে। এই স্বপ্ন পূরণের জন্যই শেখ হাসিনা সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিয়েছেন টেকসই উন্নয়নকে।
টেকসই উন্নয়নের রূপকার
বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আমাদের জাতির পিতা। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলেন আধুনিক ও দ্রুত উন্নয়নশীল ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন, সে অবস্থা থেকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় দেশ ও দেশের জনগণকে তুলে নেয়ার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ক্রমেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হয়ে উঠছে বাংলাদেশ।
শেখ হাসিনা উন্নয়নের যে রোড ম্যাপটি প্রণয়ন করে চলেছেন তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে সত্যিকার সোনার বাংলা হয়ে উঠবে দেশ। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন।
তাঁর সরকারের সুপরিকল্পিত, সুসমন্বিত এবং ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো মূলত শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। এর মধ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এসেছে। দেশে নৈরাজ্য, অরাজকতা, অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদী তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিদেশিদের হত্যা করে বিনিয়োগের রাস্তা বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর পাঁয়তারা করা হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি এবং তার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা এক মুহূর্তের জন্যও থমকে থাকেনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণেই। তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলসমূহ অর্জনে সাফল্য দেখানো। বাংলাদেশে এখন জাতিসংঘ প্রণীত এসডিজি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এসডিজি মানেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। বলা চলে এমডিজির মতো এসডিজি বাস্তবায়নেও রোল মডেল হওয়ার জন্য বাংলাদেশের সব ধরনের উন্নয়ন হচ্ছে টেকসই। আর টেকসই উন্নয়ন হচ্ছে বলেই মাথাপিছু জাতীয় আয় ও বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ উল্লেখ্যযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি বছর বাজেটের আকার বাড়ছে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা হারে। একই কারণে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে নিম্ন আয় থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে। এছাড়াও বিদ্যুৎ, কৃষি, শিা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্নখাতে ব্যাপক উন্নতি অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিম-লে বিভিন্ন েেত্র বাংলাদেশ স্বীকৃতি অর্জন করায় সারা বিশ্বের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্য আজ অনেকটাই প্রমাণিত। এই সাফল্য ও স্বীকৃতির সমন্বয়ে শেখ হাসিনা সরকার রূপকল্প (ভিশন) ২০২১ অর্জনে বদ্ধপরিকর।
বিশ্বনেতার মর্যাদায় আসীন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনাকাক্সিত প্রতিবন্ধকতাকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অতিক্রম করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি আজ একটি জাতির নেতা থেকে ক্রমান্বয়ে বিশ্বনেতার মর্যাদায় আসীন হয়েছেন। এ জন্য তিনি সর্বাবস্থায় জাতির পিতার আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সফল নেত্বত্বের যে পথ ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে চলছেন সেখানে উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং প্রগতি অনিবার্য। বাংলাদেশ সে পথের দিকেই দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে।
শেখ হাসিনা তাঁর সকল শক্তি, মেধা ও প্রজ্ঞাকে সম্মিলিতভাবে সহস্রাব্দ উন্নয়ন ল্যমাত্রা থেকে টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা অর্জনের জন্য যেভাবে বিনিয়োগ করেছেন, তাতে বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বিস্ময়করভাবে এগিয়ে চলছে। জাতিসংঘ এসডিজি বাস্তবায়নকারী দেশগুলোকে বলেছে, আগামীতে কিভাবে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করা যায়, সেই সব সূচক অর্জনে তারা যেন বাংলাদেশকে অনুকরণ করে। বাংলাদেশই দেখিয়েছে কিভাবে চরম দারিদ্র্যকে দূর করতে হয়, কিভাবে প্রাথমিক শিাকে সব শিশুর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, নারী ও পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানো যায় এবং শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন থেকে শুরু করে পরিবেশের ভারসাম্য রায় দণি এশিয়াতে তো বটেই সমগ্র পৃথিবীতেই কিভাবে আইকনে পরিণত হওয়া যায়।
শেখ হাসিনা সরকারের সফলতম পদপে
২০০৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের সফলতম পদপেগুলোর মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটিকে অনেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় উগ্রবাদ, প্রভৃতি অমানবিক সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় সরকারের সাহসী পদপেসমূহ প্রশংসার দাবিদার। যে দতা ও প্রিতায় গুলশান হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়া ঈদগাহে জঙ্গিদের দমন করা হয়েছে, সংগঠিত নাশকতা ও পরিকল্পনাকারী জঙ্গিদের দমন করা হয়েছে, জঙ্গিবাদের সহিংস পথ পরিহার করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে, সর্বোপরি জঙ্গিবাদী মানস সৃষ্টির সম্ভাবনা বন্ধ করার জন্য সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য মুকুটের একটি বড় পালক হলো নারীর মতায়ন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশি নারীর মতায়নের এমন দৃষ্টান্ত আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন তার নিজের দেশ ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর মতায়নের এই চিত্র দেখে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজ হওয়া সত্ত্বেও, সমাজে ধর্মান্ধতা, কূপম-ূকতা, কুসংস্কার থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের নারীরা যে শিা, কর্মসংস্থান এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথ ধরে ক্রমাগত মতায়িত হচ্ছে তাতে শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকা কার্যকর প্রভাব রাখছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি গ্রোথ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, চলতি বছরেই যা সাড়ে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অনুষঙ্গী হিসেবে ২০১৬ সালের জুনেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সাদা চোখে তাকালেও গ্রামে-গঞ্জে, পাড়ায়-মহল্লায় যখন ইঞ্জিনচালিত রিকশা কিংবা ভ্যানের বহর দৃশ্যমান হয়, তখন দেশের অর্থনীতির গতি আঁচ করতে খুব একটা অসুবিধা হয় না। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণের সময় যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন মতা ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট এবং প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট, তা বর্তমানে ১৫ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এখন দেশের প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয় সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন মতা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশকে বিদ্যুতে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। একই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন মতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের ল্েয রাশিয়ান ফেডারেশন নির্ধারিত ঠিকাদারের সাথে ৩টি চুক্তি স্বারিত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শিগগিরই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠবে।
দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের দারুণ সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে দেশে কর্মসংস্থানের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ল্েয বিদেশে বৈধ পথে স্বল্প খরচে দ-অদ জনশক্তি পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে সরকারের তরফ থেকে। চলতি বছর ১০ লাখ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন কানেক্টিভিটির দিকে। সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের বিস্তৃতি ঘটাচ্ছেন দ্রুততার সঙ্গে; পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি যোগাযোগের ক্ষেত্রকে মানুষের হাতের মুঠোয় নিয়ে হাজির করছেন। ভুটান সফরে গিয়ে বিবিআইএন বাস্তবায়নে ভুটানকে জোর তাগিদ দিয়েছেন। বাংলাদেশের ১২ কোটি মানুষ এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় নিয়মিত বিচরণ করে প্রায় ৭ কোটি মানুষ। ইন্টারনেট দুনিয়ায় পা রাখা মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। দেশজুড়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১৮ হাজার ১৩০টি সরকারি অফিসে কানেক্টিভিটি স্থাপন করা হয়েছে। একেবারে তৃণমূলের মানুষও এ কানেক্টিভিটির সুফল পাচ্ছেন। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদের জনগণ আইসিটি সেবার আওতায় এসেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্য প্রসারে এবং গতিশীলতা আনতে কানেক্টিভিটি চুক্তিতে স্বার করেছে বাংলাদেশ।
দৃশ্যমান বাস্তবতায় পদ্মা সেতু
উন্নয়নের প্রশ্নে শেখ হাসিনা নিজেকে স্বপ্নের চেয়ে বড় প্রমাণ করতে সম হয়েছেন। বাংলাদেশের দীর্ঘলালিত স্বপ্ন পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। প্রমত্তা পদ্মাকে সেতুবন্ধনে আবদ্ধ করার মাধ্যমে একদিকে যেমন রাজধানীর সঙ্গে দণিাঞ্চলের ২১টি জেলার কানেক্টিভিটি সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে তেমনি দেশের জিডিপি গ্রোথ বছরপ্রতি ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়াতে সাহায্য করবে। পদ্মা সেতুর মূল সেতু এখন প্রায় দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দুটি সার্ভিস এরিয়া, কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ প্রায় ৪৬ ভাগ শেষ হয়েছে। মাওয়া পয়েন্টের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে, আর জাজিরা পয়েন্টের কাজ প্রায় ৬০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বৃহত্তম এ ভৌত অবকাঠামো পদ্মা সেতু আমাদের আত্মনির্ভরশীলতা ও আভিজাত্যের প্রতীকে পরিণত হবে। আর এই আত্মনির্ভরতা একজন স্বপ্নচারী প্রধানমন্ত্রীর একটি বৃহৎ স্বপ্নের বাস্তবায়ন। এটি তাঁর সরকারের সাফল্য সৌধের বৃহত্তর স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হবে যুগ যুগ ধরে।
মেট্রোরেল, টানেল, এলিভেটেড
এক্সপ্রেসওয়ে ও বিআরটি
বৃহৎ স্বপ্ন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণে চীন সরকারের সাথে চুক্তি স্বার হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক উদ্বোধন হয়েছে ২০১৫ সালেই। একই সাথে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেন মহাসড়কও সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। একই উদ্দেশে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এই ধারাবাহিকতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে সাফল্যের চূড়ায়
বিভিন্ন সূচকে স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিফলিত হচ্ছে। মানুষের গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৮ বছরে উন্নীত হয়েছে। শিশু মৃত্যুর হার কমে প্রতি হাজারে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। মাতৃমৃত্যু হারও কমে প্রতি লাখে মাত্র ১৭০ জনে নেমে এসেছে। ২০১৬ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার উচ্ছেদে সাফল্যের জন্য বাংলাদেশকে পুরস্কার দিয়েছে। একই বছরে একসঙ্গে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১০ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স। একসঙ্গে কোনো একটি বিভাগ থেকে এত নিয়োগ দেশে এটাই প্রথম। আগে ৮৫টি দেশে ওষুধ রপ্তানি হতো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ১২৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। এসডিজি বাস্তবায়নকে দ্রুততর করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সেবার দতা ও সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলেই। ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৮৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এটাই এ যাবৎকালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে এটি একটি ধারাবাহিক কর্মসূচি। এর আগে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর থেকে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে আগামী ২০২২ সালের জুনে এ কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হবে। আর জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নের মেয়াদ শেষ হবে ২০৩০ সালে। অর্থাৎ এসডিজি বাস্তবায়নের অনেক আগেই বাংলাদেশ এসডিজির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোর লক্ষ্যমাত্রা পরিপূরণে সক্ষম হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এভাবে সাফল্যের চূড়ার দিকে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।
শেষ কথা
সব মিলে উন্নয়নের প্রশ্নে বাংলাদেশের আর পেছন ফেরার অবকাশ নেই। এখন শুধু সামনে চলা। বাংলাদেশ এখন শুধু সাফল্যের গল্প। এই সাফল্যের গল্পকে টেকসই করতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। আর এই ধারাবাহিকতা রক্ষার কাজটি করতে হবে জনগণকেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সর্বশেষ জনসভায়ও বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই কেবল জনগণ কিছু পায়, দেশের উন্নয়ন হয়। তাই জনগণকেই নির্ধারণ করতে হবে, তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল কতটা উপভোগ করতে পারছে। জনগণকেই নির্ধারণ করতে হবে ২০০৮ সালে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থা কিরূপ ছিল, আর ২০১৭ সালে এসে তাদের অবস্থার কতটা পরিবর্তন হয়েছে। জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার সত্যিই যদি ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে, তাহলে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। তাদের সিদ্ধান্তে আসতে হবে, তারা দেশজুড়ে সংঘটিত টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নেয়ার জন্য সঠিক নেতৃত্বের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ন্যস্ত করবে, না আবার সেই পুরনো নৈরাজ্যে ফিরে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বর্তমান সরকার যে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার যে সুযোগ ২০১৯ সালের নির্বাচনে জনগণ পাচ্ছে, সে সুযোগের সদ্ব্যবহারের ওপরই নির্ভর করছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার ভবিষ্যৎ। এক্ষেত্রে এদেশের সর্বস্তরের জনগণকে মনে রাখতে হবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতার ওপরই নির্ভর করছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার বিনির্মাণ কতটা টেকসই হবে।