প্রতিবেদন

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে আপত্তি প্রত্যাহার করে নিল ইউনেসকো

নিজস্ব প্রতিবেদক : রামপাল প্রশ্নে বাংলাদেশের যুক্তি মেনে নিয়েছে জাতিসংঘের শিা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেসকো) বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি। বর্তমান অবস্থানে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে আপত্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায়ও স্থান পায়নি সুন্দরবন। সুন্দরবন যদি ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেত, তাহলে রামপালে কিছুতেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যেত না।
পোল্যান্ডের ক্রাকাউতে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১তম অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। ১২ জুলাই পর্যন্ত অধিবেশন চলবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখতে ওই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে।
কোনো সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক এলাকা বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত স্থানগুলো সংরণ করা হচ্ছে কি না এবং যথাযথভাবে সংরণ করা না হলে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় স্থান দেয়া হবে কি নাÑ এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় ২১ সদস্যবিশিষ্ট বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি। স্বতন্ত্র বাস্তুসংস্থান এবং অনন্য বৈশ্বিক গুরুত্বের কারণে সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি সুন্দরবনের বৈশ্বিক ঐতিহ্য সম্পদ সংরণের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানায়। ওই কমিটি সুন্দরবন সংরণে বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। এর বাইরে সুন্দরবনে পর্যাপ্ত মিঠাপানির প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং চোরা শিকার ও সম্পদের অতিমাত্রার উত্তোলন প্রতিরোধের েেত্র রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারি সিদ্ধান্তও বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির নজরে আসে। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ইউনেসকোর ‘রিয়েক্টিভ মনিটরিং মিশন সুন্দরবনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্যত্র স্থানান্তরের সুপারিশ করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘দীর্ঘ আলোচনা শেষে কমিটি প্রয়োজনীয় প্রশমন ব্যবস্থাসহ বর্তমান অবস্থানেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। কমিটি তার গৃহীত সিদ্ধান্তে ২০১৬ সাল থেকে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদ হিসেবে সংরণে বাংলাদেশের নেয়া বেশ কিছু উদ্যোগকে স্বাগতও জানায়। কমিটির অনুরোধের পরিপ্রেেিত বাংলাদেশ সুন্দরবনসহ দেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলে ‘কৌশলগত পরিবেশগত মূল্যায়ন (স্ট্র্যাটেজিক এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট, সংেেপ এসইএ) করতে সম্মত হয়েছে।’
কমিটির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী ঐতিহ্য সংরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সর্বোচ্চ ভারসাম্য সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। সুন্দরবনের অমূল্য বৈশ্বিক মূল্য সংরণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার ব্যাপারেও তিনি কমিটিকে আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেসকোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম শহীদুল ইসলামসহ ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাস, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ, মংলা বন্দর কর্তৃপ, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের (সিইজিআইএস) সদস্যরা ছিলেন।
ইউনেসকোর উদ্দেশে বিশ্বের ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের পাঠানো চিঠিতে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণার দাবি ছিল। তবে পোল্যান্ড যাওয়ার আগে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, সুন্দরবনকে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা না দেয়া হয়, সে বিষয়ে সরকার তৎপর ছিল। রামপালে বিদ্যুকেন্দ্র হলে সুন্দরবন ও পরিবেশের কোনো তি হবে না, সরকার তা ইউনেসকোর কর্মকর্তাদের বোঝাতে সম হয়েছে।