কলাম

উন্মুক্ত মতামত

জনসচেতনতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ

জলবায়ু পরিবর্তন ও মারাত্মক পরিবেশ দূষণের কারণে সারাদেশে বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সবার আগে মনে রাখতে হবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে বর্তমানে এসব রোগে মৃত্যুর হার খুবই কম; তবে যন্ত্রণা অনেক বেশি। কাজেই জ্বর বা পাতলা পায়খানা দেখা দিলে নিজে নিজে কোনো ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু মশাবাহিত রোগ আর ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ।
শহরগুলোতে বর্ষাকালে মশার উপদ্রব এতই বৃদ্ধি পায় যে, কোনো অভিযানেই এদের নিয়ন্ত্রণ করা বা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। জনসচেতনতার অভাব, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল ও অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা স্থাপন ইত্যাদি কারণে ঢাকাসহ বড় বড় শহরে পরিবেশদূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শহরগুলোকে বসবাসযোগ্য রাখতে হলে যেকোনো মূল্যে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। শুধু সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করলেই চলবে না, সরকারিভাবে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও জনসাধারণকেও এগিয়ে আসতে হবে এবং এলাকাভিত্তিক ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব রোগের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং গণমাধ্যমগুলোও রোগ প্রতিরোধমূলক প্রচারণার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিপ্লব, ফরিদপুর

কলেজে এমপিও নন-এমপিও বিড়ম্বনা

গ্রাম-গঞ্জে অনার্স কোর্স খোলা হলেও অনার্সের শিক্ষকরা নন-এমপিও। দীর্ঘদিন নতুন এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকায় কলেজগুলোতে নন-এমপিও শিক্ষক বেড়েই চলেছে। অথচ তাদের মানবেতর জীবনের খবর কেউ নেন না। অনার্সের সুবাদে প্রচুর আয় হলেও অধিকাংশ কলেজে তৈরি হয়েছে এমপিও নন-এমপিও বিড়ম্বনা। কলেজ অংশের আনুষঙ্গিক প্রাপ্তি (বাড়িভাড়া ও উৎসব বোনাস) খাতে এমপিওভুক্তদের বকেয়া-বঞ্চনা যেমন আছে, তেমনি নন-এমপিওভুক্তরাও জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সুবিধা বঞ্চিত। কাজেই এমপিওভুক্তদের প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বকেয়া-বঞ্চনা ও বৈষম্য অবসানের পাশাপাশি অনার্সের জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে নন-এমপিওদের অধিকারের সুরক্ষা প্রয়োজন। তবেই সব খাতের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আসবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের নিয়মিত মনিটরিং জরুরি।
মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ
গাজীপুর

চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু মশা ও ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দীর্ঘদিন ধরে ডেঙ্গু নিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ়তা ও ব্যাপক জনসচেতনতার কারণে তার প্রকোপ কমেছে; তবে নতুন উপদ্রব হিসেবে ব্যাপক হারে আক্রান্ত চিকুনগুনিয়া নিয়ে জনগণের মধ্যে উচ্চমাত্রায় আতঙ্ক রয়েছে। মশা নিধনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। পাশাপাশি নাগরিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনেও অবহেলা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আমরা চিকুনগুনিয়া বা ডেঙ্গুতে ভোগান্তি পোহাচ্ছি। বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ ঘটে। যেহেতু এ রোগের প্রতিষেধক হাতের নাগালে, সেহেতু প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী কার্যকর পদক্ষেপ এই রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত সহায়ক বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।
ভূঁইয়া কিসলু, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

বাঁধ রক্ষায় নজর দিন

এবার হাওর ভেসেছে শুধু বাঁধে দুর্নীতির কারণে। বর্তমানে অতি বৃষ্টির কারণে প্রতিটি নদীর পানিই বাড়ছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে দেশের বড় বড় নদীর পানি। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়ছে পানির তীব্র স্রোতে। অসহায় মানুষের কান্নাও বাড়ছে। থাকার জায়গা নেই, খাবার নেই ও খাবার পানি নেই। একটু ত্রাণের অপেক্ষায় আজ লাখো মানুষ। ত্রাণ দিতে হবে, তার সঙ্গে জরুরি যে ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোর তদারকি। বিভিন্ন জায়গায়ই পানির তোড়ে বাঁধগুলো হুমকির সম্মুখীন। যদি বাঁধগুলো রক্ষা করা যায় তবে অনেক মানুষকেই এখনো বন্যার ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব। বাঁধগুলোর যেসব জায়গায় ক্ষতি হয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত বালুর বস্তা বা ইট ফেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি বাঁধগুলো ভেঙে যায় তবে নতুন নতুন জায়গা প্লাবিত হবে এবং মানুষের ভোগান্তি বাড়তেই থাকবে।
এখনই যদি বাঁধগুলো রক্ষার জন্য কাজ করা যায় তবে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করি।
সাঈদ চৌধুরী,
শ্রীপুর, গাজীপুর

ক্রিকেটের আরো মাঠ চাই

ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোর একটি। তবে একটি জায়গায় বাংলাদেশ এখনো অন্যান্য টেস্ট খেলুড়ে দেশের তুলনায় নাজুক অবস্থা পার করছে। আর তা হলো, দেশে আন্তর্জাতিক মানের মাঠের সংকট। কেনিয়া হোক, মিরপুরে ম্যাচ; জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড হোক, তা-ও মিরপুর। আবার অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড-ভারত হোক, তা-ও মিরপুর। সবসময় যদি ওই এক মিরপুরেই খেলা হয়, তবে এ দেশে ক্রিকেটের প্রচার-প্রসারই বা ঘটবে কিভাবে; আর ভালো ক্রিকেটারই বা উঠে আসবে কিভাবে? দেশে ক্রিকেট খুব জনপ্রিয়, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু তাতে দেশের ক্রিকেটের আসল ব্র্যান্ডিং হয় না। বগুড়ায় থাকার সময় দেখেছি, একটা জেলায় কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলে, সেখানটায় কেমন ঈদের মতো আনন্দ-উৎসব বিরাজ করে। দেশে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ন্যূনতম ৪টি ক্রিকেট মাঠ তৈরি, বিদেশি দলগুলোর থাকার জন্য ভালো হোটেল, হোটেল থেকে মাঠ পর্যন্ত যাতায়াত সুবিধাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন মোটেও কঠিন কিছু নয়। আরো আশার কথা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ক্রিকেটপাগল মানুষ। তাঁর কাছে সমস্যাটি তুলে ধরতে পারলে সমাধান অবশ্যই পাওয়া যাবে। তাই বিসিবি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে দাবিÑ তারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বরাবর উপস্থাপন করবে।
মাওলানা আবদুল্লাহ আল হাদী সোহাগ
সাভার, ঢাকা