কলাম

কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কেরানীগঞ্জে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য তার সরকার সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। ১১ জুলাই রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে একটি প্রকল্প পেশ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ একর বা ১০ একর দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ অন্যান্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কমপক্ষে ১০০ একরের মতো জমি লাগবে। কেরানীগঞ্জে সে জমির ব্যবস্থা করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ বিপুকে দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একনেক সভায় ২৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ শিরোনামের একটি প্রকল্প উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নজরুল ইসলাম। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সাড়ে ৭ একর জায়গায় দুটি বড় ভবন নির্মাণ করা হবে। একটি ২০ তলা একাডেমিক ভবন এবং আরেকটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ১ হাজার সিটের আবাসিক ছাত্র হল। প্রকল্পের প্রস্তাবনা দেখার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই ৭ একর, ১০ একর দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার সমাধান হবে না। পুরান ঢাকা যানজট এবং ঘিঞ্জি এলাকা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সেটি অনুপযুক্ত জায়গা। আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য খুচরা একটি হল ও একাডেমিক ভবন দিয়ে কাজ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। আর সেটি করতে হলে অন্তত ১০০ একর জমি লাগবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যত জমি লাগবে, যত টাকা লাগবে, তার জোগান দেয়া হবে। সে জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করে তাঁর কাছে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সদরঘাটে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্বতন জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু। অধ্যাপক ড. এ কে এম সিরাজুল ইসলাম খান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৮৫৮ সালে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাস করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। এখানে প্রায় ২৩ হাজার ছাত্রছাত্রী এবং ১ হাজার জন শিক্ষক রয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৫৮ সালে ঢাকা ব্রাহ্ম স্কুল নামে প্রতিষ্ঠা হয়। ১৮৭২ সালে এর নাম বদলে জগন্নাথ স্কুল করা হয়। বালিয়াটির জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী তার বাবার নামে জগন্নাথ স্কুল নামকরণ করেন। উল্লেখ্য, কিশোরীলাল রায় শিক্ষাবিস্তারে আগ্রহী ছিলেন। ১৮৮৪ সালে এটি একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কলেজে ও ১৯০৮ সালে প্রথম শ্রেণির কলেজে পরিণত হয়। এ সময় এটিই ছিল ঢাকার উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে জগন্নাথ কলেজের স্নাতক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গ্রন্থাগারের বই পুস্তক, জার্নাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার সাজাতে জগন্নাথ কলেজ গ্রন্থাগারের ৫০ ভাগ বই দান করা হয়। জগন্নাথ কলেজে আইএ, আইএসসি, বিএ (পাস) শ্রেণি ছাড়াও ইংরেজি, দর্শন ও সংস্কৃতি অনার্স এবং ইংরেজিতে মাস্টার্স চালু করা হলেও ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং ইন্টারমিডিয়েট কলেজে অবনমিত করা হয় জগন্নাথকে। পুরান ঢাকার নারী শিক্ষায় বাধা দূর করতে ১৯৪২ সালে সহশিক্ষা চালু করা হয়। ১৯৪৮ সালে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে ১৯৪৯ সালে আবার এ কলেজে স্নাতক পাঠ্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ রফিকউদ্দিন (ভাষা শহীদ রফিক) আত্মত্যাগ করেন। ১৯৬৩ সালে অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান পুনরায় কো-এডুকেশন চালু করেন। ১৯৬৮ সালে এটিকে সরকারীকরণ করা হয়, কিন্তু পরের বছরেই আবার এটি বেসরকারি মর্যাদা লাভ করে। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাসের মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে মোট ৬টি অনুষদের অধীনে ৩১টি বিভাগের ও ২টি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। প্রতি বছর ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদে রয়েছে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ফার্মেসি বিভাগ, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ।
বিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, গণিত বিভাগ, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ ও মনোবিজ্ঞান বিভাগ।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে রয়েছে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফিন্যান্স বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, সমাজকর্ম বিভাগ, লোকপ্রশাসন বিভাগ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
কলা অনুষদে রয়েছে বাংলা বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, দর্শন বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চারুকলা ও গ্রাফিক্স বিভাগ এবং নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ। আইন অনুষদে রয়েছে আইন বিভাগ। তাছাড়া ইনস্টিটিউটের মধ্যে রয়েছে ইংরেজি শিক্ষা কেন্দ্র ও আইইআর।
এসব অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউট বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-দুইটি ভবনে অত্যন্ত ঘিঞ্জি পরিবেশে শিক্ষা প্রদান করে যাচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যত অনুষদ ও বিভাগ রয়েছে, তার চেয়ে কোনো অংশে কম নেই জগন্নাথের অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউট। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। কিন্তু অবকাঠামোর দিক দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় শতভাগ পিছিয়ে আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৭ সালের ১১ জুলাইয়ের একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিষয়টিরই অবতারণা করেছেন। তিনি বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য খুচরা একটি হল ও একাডেমিক ভবন দিয়ে কাজ হবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরিসহ আধুনিক মানের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। আর সেটি করতে হলে অন্তত ১০০ একর জমি লাগবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যত জমি লাগবে, যত টাকা লাগবে, তার জোগান সরকার দেবে।
দেশের উচ্চশিক্ষা প্রসারের প্রতি বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক বলেই তিনি কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করতে বলেছেন এবং এর জন্য যত টাকা প্রয়োজন তার জোগান সরকার দেবে বলে জানিয়েছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগরসহ দেশের প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধরনের অবকাঠামো সুবিধা আছে, জগন্নাথের জন্যও সে ধরনের অবকাঠামো সুবিধা প্রয়োজন। আর তার জন্য প্রয়োজন ১০০ একরের মতো জমি। এত বেশি পরিমাণের জমি জগন্নাথের বর্তমান অবস্থানে সংস্থান করা সম্ভব নয়। সে জন্যই প্রধানমন্ত্রী কেরানীগঞ্জের কথা বলেছেন। অনেকেই মনে করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের নির্দেশনার মানে হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান অবস্থান ছেড়ে কেরানীগঞ্জে চলে যাবে। বিষয়টি আসলে মোটেও তা নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এখন যেখানে আছে, সেখানেই থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ধিত ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন, ছাত্র ও ছাত্রী হল, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য অবকাঠামো একসঙ্গে এক ক্যাম্পাসের আওতায় এক জায়গায় কেরানীগঞ্জে চলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী এ দ্বারা বোঝাতে চেয়েছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবন বিচ্ছিন্নভাবে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠবে না। সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান ক্যাম্পাসের বাইরে একমাত্র কেরানীগঞ্জেই সুসমন্বিতভাবে গড়ে উঠবে। সে জন্য প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে ১০০ একর জমি দেখতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ধরনের নির্দেশনার মাধ্যমে বোঝা যায়, তিনি ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে চান। সে লক্ষ্যেই তিনি কেরানীগঞ্জে একত্রে ১০০ একর জমি দেখতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। একনেক সভায় দেয়া নির্দেশনার পর অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভাবতে থাকেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান ক্যাম্পাস ছেড়ে একযোগে কেরানীগঞ্জ চলে যাবে। তবে উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান যখন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে সবাইকে বুঝিয়ে দেন, তখন সবার মন থেকেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উচ্চশিক্ষার প্রতি, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি অসম্ভব আন্তরিক বলেই এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ঘিরে বিচ্ছিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে যে নিশ্চয়তা দেন, সে নিশ্চয়তা পূরণ করেন আন্তরিকভাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলবেন। আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ জন্য আনন্দিত ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা ধরে নিতেই পারি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই নির্দেশনার ফলে ও প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অচিরেই একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর পরিকল্পনামাফিক কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করার পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো একসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হবে। তবে আধুনিক মানের এ বিশ্ববিদ্যালয় কেরানীগঞ্জে তৈরি করতে সময় লাগবে এবং সেই সময় পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বর্তমান স্থানেই সংঘটিত হবে। এ বিষয়ে কোনোরূপ ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ নেই বলেও মন্তব্য করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।