আন্তর্জাতিক

জি-২০ সম্মেলন : যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমাগতভাবে একঘরে হয়ে পড়ছেÑ তা গত ৯ জুলাই ২০ জাতি সম্মেলনে বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী দেশগুলোর উপস্থিতিতে তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। পরাশক্তিধর দেশটির সঙ্গে এই বিভাজন জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে মুক্তবাজার অর্থনীতি পর্যন্ত প্রায় সকল নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রেই দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে জি-২০ সম্মেলনের প্রধান সফলতা হলো যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ রেখে বাকি ১৯টি দেশের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।
জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বিশ্বের ২০ জাতি সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশের এক দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সম্মেলনে আটলান্টিক অঞ্চলকেন্দ্রিক একটি সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়েও আলোচনার অবতারণা হয়। ট্রাম্পের পূর্বসূরিদের অনুসৃত নীতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচ্যুতিÑ এই উদ্বেগ-উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে কাজ করেছে। এটিকে বিশ্ব অঙ্গনে ওয়াশিংটনের ক্ষয়িষ্ণু প্রভাবের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হামবুর্গে সমবেত অন্যান্য দেশের নেতৃবৃন্দ ট্রাম্পকে তাদের জোট থেকে বের করে দেবেন, না কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতামূলক পথ বেছে নেবেন তা নিয়ে একটি যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। এ প্রসঙ্গে ইউরোপের দুজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, তারা ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের কথা বিশেষভাবে বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলকে উভয় পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য দূর করার কঠিন দায়িত্ব দেয়া হয়। মার্কেল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতামূলক পথ বেছে নেয়া ছাড়াই জি-২০ জোটে রাখতে সক্ষম হন।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসার পর বিশ্বের অপরাপর দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির সুস্পষ্ট বিভক্তি রেখা আঁকা হয়ে যায়। তারপর ট্রাম্প যখন সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতি গ্রহণ করলেন, বিশেষ করে ইস্পাত আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বললেন তখন এই দ্রব্যের রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ইস্পাত শিল্প সমৃদ্ধ এক ডজনেরও বেশি দেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঁ ক্লদ জাঙ্কার বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের জন্য আমরা প্রতিরোধমূলক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
জাঙ্কার তার সতর্কবার্তায় সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ট্রাম্প যদি ইস্পাত আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের ঘোষণা দেয়, তবে ইউরোপ এর তাৎক্ষণিক জবাব দেবে, মাসের পর মাস অপেক্ষা করবে না। বিশ্ব রাজনীতিতে দায়িত্বশীল এসব নেতার মন্তব্যে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হলো যে, ভেতরে ভেতরে ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের তিক্ততা ও বিভাজনের গভীরতা কতটুকু এবং আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, ইউরোপে ট্রাম্প এতটাই অজনপ্রিয় যে, তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য সহকারে কথা বলতে কেউ ভয় পায় না, বরং গর্ববোধ করে। ওয়াশিংটনের এক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০ জাতি শীর্ষ সম্মেলনের আগেই হোয়াইট হাউজ মার্কিন বাণিজ্যনীতি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন অভিজ্ঞ উপদেষ্টার পরামর্শে এটি পিছিয়ে দেয়া হয়। যদি শীর্ষ সম্মেলনের আগেই প্রস্তাবিত মার্কিন বাণিজ্যনীতি প্রকাশ করা হতো তবে হয়ত এই সম্মেলনে তুমুল হৈ-হট্টগোল এবং ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে একঘরে অবস্থায় ঘরে ফিরতে হতো। কেননা, বাণিজ্যনীতি নিয়ে ট্রাম্পের পদক্ষেপ ও মনোভাব বিশ্বের প্রতিটি দেশকেই তার প্রতি বিমুখ করে তুলেছিল। এই ২০ জাতি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশই অবাধ ও ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যনীতির অনুসারী, যা ট্রাম্পনীতির বিরোধী। ট্রাম্প অনেক সময় বাণিজ্যকে তার পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পক্ষপাতী।
ট্রাম্প প্রশাসন চীনকে তার ইস্পাত শিল্পে ভর্তুকি দিয়ে প্রচুর পরিমাণে ইস্পাত উৎপাদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ব্যবসায়ীদের বেকায়দায় ফেলার জন্য দেশটিকে অভিযুক্ত করে আসছে। কিন্তু অবাধ বিশ্ব বাণিজ্যনীতি অনুসারে চীন কোনো বেআইনি কাজ করছে না। চীনকে চাপে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশ ইস্পাত রপ্তানি করে যেমন কানাডা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানি এদের নিয়ে একটি বাণিজ্য বলয় গড়ে তোলার পক্ষপাতী। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ও অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই বাণিজ্যিক বাধা বা শুল্ক আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে। এ বিষয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল দেশকে মুক্ত ও অবাধ বাণিজ্যের নিয়মনীতি যথাযথ মেনে চলতে হবে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে একে সম্মান করতে হবে। তা না হলে পুরো আন্তর্জাতিক অর্থনীতি গুটিয়ে যাবে অথবা পঙ্গুত্ববরণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি নিয়ে বিশ্বনেতাদের মনোভাব বুঝতে পেরে হোয়াইট হাউজের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ প্রস্তাবিত বাণিজ্যনীতি পরিবর্তন করে নতুনভাবে সাজানোর চিন্তাভাবনা করছে। কেননা তারা বুঝতে পেরেছে যে, সবাইকে পাশে না পেলে যুক্তরাষ্ট্রের একক কর্তৃত্বে তাদের পক্ষে কিছু করে ওঠা সম্ভব হবে না। এতে বোঝা যাচ্ছে যে, সারা বিশ্বে একক মার্কিন মোড়লিপনার দিন হয়ত শেষ হচ্ছে এবং তার সূত্রপাত হলো জি-২০ সম্মেলন ঘিরেই।
তবে সে যা-ই হোক, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত বদলাতে ব্যর্থ হয়েছেন বিশ্বনেতারা। এ চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার বিষয়ে ১৯ জন সরকার প্রধান একমত হলেও ট্রাম্প নিজের ভিন্ন অবস্থান বজায় রেখেই জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন অবস্থান সম্মেলনের প্রথম দিকে কিছুটা অচলাবস্থা তৈরি করলেও, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই বিশ্বনেতারা ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেন। তুরস্ক বলেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় আছে। ট্রাম্প অনেকটা তড়িঘড়ি সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেছেন।
প্রথা অনুযায়ী শেষ দিনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি অংশ নেননি। ট্রাম্পের এ আচরণের জন্য অনেকে এবারের সম্মেলনকে জি-নাইনটিন প্লাস ওয়ান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কোনো কোনো বিশ্বনেতার মতে, ট্রাম্প যেকোনো সময়ই নিজের অবস্থান পাল্টাতে পারেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারাভিযানের সময় থেকেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বিপক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরছিলেন ট্রাম্প। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে তিনি ধাপ্পাবাজি বলেও আখ্যা দেন। শেষ পর্যন্ত জুনে এ চুক্তি থেকে তিনি তার দেশকে প্রত্যাহার করে নেন। প্যারিসে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলনে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনতে প্রায় ২০০টি দেশ একমত হয়েছিল। ট্রাম্পের এ অবস্থান তার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বৈশ্বিক জোট গঠনের ভবিষ্যৎ শঙ্কায় ফেলতে পারে।
সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা আমলে নিয়েছি। তারপরও নেতারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে প্যারিস চুক্তি অপরিবর্তনীয়।
অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর ২০টি দেশের জোট জি-২০ এর এবারের সম্মেলনে যে মাত্রায় অনৈক্য ও মতভেদ দেখা গেছে সেটি আগে কখনও দেখা যায়নি। এমন একটি বিষয়ে মতপার্থক্য ঘটেছে যেখানে সহজেই তারা মতৈক্যে পৌঁছাতে পারতেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কিছুটা হতাশার সঙ্গে বলেছেন, বিশ্ব আগে কখনও এখনকার মতো দ্বিধা-বিভক্ত ছিল না। কেন্দ্রবিমুখী শক্তিও আগে কখনও এতটা জোরালো ছিল না। আমাদের অভিন্ন স্বার্থগুলোও আগে কখনো এতটা হুমকির মুখে পড়েনি।
জি-২০ সম্মেলনে জলবায়ু চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বেশি তীব্রতর মতভেদ হয়। এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাকি বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। এবারের সম্মেলন নিয়ে যে মতপার্থক্য হতে পারে সে বিষয়ে আগেই অনুমান করা হয়েছিল। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলছেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ কেবলমাত্র সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
এদিকে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামবুর্গে জলবায়ু ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানকে ভর্ৎসনার মধ্য দিয়ে জি-২০ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। তবে সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুটা ছাড় দিতে সম্মত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মার্কেল বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পরিতাপের। তবে বাকি দেশগুলো এ চুক্তির ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে। গত মাসে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। যে কারণে এবারের জি-২০ সম্মেলনে চেষ্টা ছিল জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।
সম্মেলনের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জলবায়ু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন হলেও বাকি সদস্যরা এই চুক্তির বাস্তবায়ন জরুরি বলে একমত হয়েছেন। তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার আরো পরিচ্ছন্ন ও কার্যকরভাবে করতে অন্যান্য দেশগুলোকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও বাণিজ্যসহ বেশকিছু ইস্যুতে জি-টুয়েন্টি সম্মেলনের নেতাদের মধ্যেও মত-দ্বৈধতা প্রকাশ পায়। বিশেষ করে জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর এ নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। যে কারণে এবারের সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল প্যারিস জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন। সম্মেলনের শুরুতে দেয়া বক্তব্যে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমরা বড় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছি এবং তা মোকাবিলার সময় চলে এসেছে। আমরা যদি সমঝোতা করতে ও একসঙ্গে চলতে প্রস্তুত থাকি তবেই সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।
সম্মেলন শুরুর আগে ‘ব্রিকস’ দেশগুলো রাশিয়া, চীন, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা এক যৌথ বিবৃতিতে জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য জি-২০ নেতাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জলবায়ু চুক্তির বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বিশ্বনেতারা আগামীতেও এবং সবসময় আহ্বান জানাবেন।
এদিকে জি-২০ সম্মেলনের একটি সেশনে অল্প সময়ের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসনে বসে পড়েন তার মেয়ে ও হোয়াইট হাউজের অন্যতম শীর্ষ সহযোগী ইভানকা ট্রাম্প। ওই সেশনে অন্যান্য বিশ্বনেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় ব্যাপক নেতিবাচক সমালোচনা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প উঠে গেলে ইভানকা পেছন থেকে এসে সেই আসনে বসেন। ওই অনুষ্ঠানে অন্য নেতারা উঠে যাওয়ার পর সে আসনগুলোও অন্যরা পূরণ করে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যা-ই বলুক, এর দ্বারা এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনে পরিবারতন্ত্র ভালোভাবেই চালু হয়েছে এবং পরিবারতন্ত্রের ঢেউ জি-২০ সম্মেলনকেও স্পর্শ করেছে।
অন্যদিকে, জার্মানির হামবুর্গ শহরে এই সম্মেলনের বিরুদ্ধে ১০ জুলাইও সহিংস বিক্ষোভ করেছে পুঁজিবাদ বিরোধীরা। সারাদিনই পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ট্রাম্প ও পুতিনের উপস্থিতির বিরোধিতা, জলবায়ু চুক্তির বাস্তবায়ন ও সম্পদের অসমতা দূর করার দাবিতে জড়ো বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এবং বিভিন্ন দোকানপাটে লুটপাট চালায়। তিনদিনের বিক্ষোভে দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত ও কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। সম্মেলন শুরুর একদিন আগে ৮ জুলাই হামবুর্গসহ বিভিন্ন শহরে পুঁজিবাদ বিরোধীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সহিংস বিক্ষোভে ওইদিন ২৯ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি পেটা, জল কামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তবে বিক্ষোভকারীরা তাদের প্রস্তুতি হিসেবে ছাতাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে বসে পড়ে। এমনকি এ বিক্ষোভের কারণে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প হোটেল থেকে বের হতে পারেননি। যে কারণে বিশ্ব নেতাদের স্ত্রীদের নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। আর জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল মুক্ত গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান দেখাতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর তীব্রভাবে চড়াও হননি।