রাজনীতি

রাজনীতিতে জোট-মহাজোটের উত্তাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন উত্তপ্ত দেশের রাজনীতি। ভোটের বাকি এখনও অনেক সময়। তারপরও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচার-প্রচারণা। দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও ছোট ছোট দলগুলোও সক্রিয় হয়ে উঠছে ভোটের রাজনীতিতে। রাজনীতিতে জোট-মহাজোটের হিসাব-নিকাশও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কেউ জোট বাড়াতে, আবার কেউ জোটে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে দরকষাকষি করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর বাকি থাকতেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করেন। তার দেখাদেখি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে শুরু করেন। অনানুষ্ঠানিকভাবে দুই নেত্রীর ভোট চাওয়া দুই দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উজ্জীবিত করে। গেল ঈদুল ফিতরকে উপলক্ষ করে দুই দলের নেতারাই যার যার নির্বাচনি এলাকায় ছুটে যান। তারা ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন, ভোটারদের ঈদ উপহার দেন, কর্মীদের দেন নগদ টাকা। বড় দুই দলের নেতাদের তৎপরতায় গ্রামবাংলায় এবারের ঈদ উৎসব রাজনৈতিক উৎসবে পরিণত হয়। দুই দলের শীর্ষ নেতারাই ঈদ নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে এখন ঢাকায়। রাজধানীতে এসেও তারা বসে নেই। সমানে নির্বাচনি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি জোট-মহাজোট ভিত্তিক রাজনীতিও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। আদর্শগত বিরোধ থাকলেও নির্বাচনি ইস্যুতে জোট-মহাজোট গঠনে ব্যস্ত অনেক দল। এখন পর্যন্ত রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে ৪টি রাজনৈতিক জোট। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে ৫৯টি দলের সমন্বয়ে সবচেয়ে বড় জোট গঠন করেছে জাতীয় পার্টি। যদিও এই জোটের প্রায় সবগুলো দলই নামসর্বস্ব। এরপর জোট হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা। ছোট ছোট দল মিলিয়ে আরও অন্তত ৫টি নির্বাচনি জোট গঠনের প্রস্তুতি চলছে। চলতি বছরের শেষদিকে এসব জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হতে পারে। পরিধি বাড়তে পারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটেরও। ইদানীং দেখা যাচ্ছে ক্ষমতার স্বাদ নেয়ার জন্য ইসলামি দলগুলোও জোটের রাজনীতিতে অধিক সক্রিয় হয়ে উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে জোটভিত্তিক রাজনীতি শুরু হয়েছে। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ’৯০-এর স্বৈরাচার পতন এসব কিছুই জোটভিত্তিক রাজনীতির ফসল। এছাড়া রাজনৈতিক স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতাসহ জোটের অর্জন রয়েছে অনেক। তবে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক জোট হলেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ক্ষমতায় যাওয়া ও টিকে থাকার অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরুর পর থেকেই রাজনৈতিক ঐক্য ও ধারাবাহিকতা রক্ষা উভয়ই কমেছে। তবুও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে নির্বাচনকালীন জোট-মহাজোট গঠনের প্রবণতা এখনও চলমান রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের মতো এবারও জাতীয় নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি, জামায়াত এবং হেফাজতে ইসলামসহ একাধিক রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে জোট-মহাজোটে বেড়ানোর জন্য দরকষাকষির শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে নতুন জোটগুলো যে জোটকে সমর্থন দেবে তারা ক্ষমতায়ও চলে যেতে পারে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও যাতে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা যায় সে জন্য এরশাদ ৫৯ দলের সমন্বয়ে জোট গঠন করেছেন। লক্ষ্য একটাইÑ দরকষাকষি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদ আবারো উভয় দলের সঙ্গেই দরকষাকষিতে নামবেন। এবারও এরশাদকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে নাটকের পর নাটক। শেষ পর্যন্ত এরশাদ সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি দুই দলের যেকোনো এক দলে ঢুকে পড়তে পারেন। এরশাদ কিছুতেই এককভাবে নির্বাচন করবেন নাÑ এমনটিই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। কারণ তিনি ভালো করেই জানেন, জাতীয় পার্টির আর সেই দিন নেই। ইদানীং জাপার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর থেকে দু’একটি আসন বের করে আনাই তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তবে সারাদেশে এরশাদের জাতীয় পার্টির কিছু ভোট রয়েছে। আর এ কারণেই জোট-মহাজোটের কাছে এরশাদের জাপার কিছুটা গুরুত্ব রয়েছে।
এদিকে নতুন করে জোট করার কথা ভাবছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মতো রাজনীতিবিদরাও। তবে তারা অতীতের মতো একসঙ্গে পথ চলবেন, না পৃথক জোট গড়বেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সম্প্রতি তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে জানা যায়, বিকল্পধারা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে পারে। এ নিয়ে জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক দেন-দরবার চলছে অনেক দিন থেকেই। যদি বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত না হয় তাহলে গণফোরামের সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে বিকল্পধারা।
জানা যায়, দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক জোটের বাইরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একাধিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে পৃথক আরেকটি জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। এই জোটে সিপিবি, বাসদ, গণফোরাম, বাম মোর্চা, বিকল্পধারা, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল যুক্ত হতে পারে। চলতি বছরের শেষদিকে অথবা নতুন বছরের শুরুর দিকে জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে। এটি হবে নির্বাচনকালীন আদর্শিক জোট।
১৯৯০ সালে জোটভিত্তিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। এটি ছিল এদেশে জোটভিত্তিক রাজনীতির শুভ সূচনা। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটভিত্তিক ভোটের লড়াইয়ে নামার পথে হাঁটছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদসহ আরও বেশ কয়েকটি বাম প্রগতিশীল ঘরানার দল। পিছিয়ে নেই ইসলামি দলগুলোও। যদিও সিপিবি-বাসদ জোট অনেক আগে থেকেই চলমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য নির্বাচনি জোটগুলো সেভাবে পর্দা উন্মোচন না করলেও পর্দার আড়ালে নানান দরকষাকষি অব্যাহত আছে।
মূলত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেই এ ধরনের জোট গড়ার রাজনীতি শুরু হয়েছে। বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোও ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে জোটের রাজনীতিতে শামিল হওয়ার কথা ভাবছে। কেননা অতীতে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় নির্বাচনি জোট করে জামায়াতসহ তিনটি দল ফায়দা নিতে সক্ষম হয়। জামায়াতের মতো স্বাধীনতাবিরোধী দলও মন্ত্রিত্বের স্বাদ গ্রহণ করে। সাংগঠনিকভাবে ক্ষমতার ৫ বছরে দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করে বিগত মেয়াদে কমবেশি লাভবান হয়েছে। বর্তমানে দলটি একসাথে সরকার ও বিরোধী দলে রয়েছে। আবার এরশাদ আছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের আসনে এবং রওশন এরশাদ রয়েছেন সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো নানাভাবে সুবিধা নেয়া ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রিত্বও পেয়েছেন।
এ অবস্থায় রাজনৈতিক নানা সমীকরণের হিসাব মিলিয়ে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল শক্তিশালী জোটের সঙ্গে আগেভাগে একীভূত হওয়ার কথা ভাবছে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই প্রধান দলের মধ্যে যাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি তাদের প্রতি দলগুলো ঝুঁকছে বেশি। এই যখন অবস্থা তখন জাতীয় পার্টিও বসে নেই। তারা নামসর্বস্ব ৫৯ দল নিয়ে জোট গঠন করেছে। নিজেদের শক্তি বৃদ্ধিসহ ভোটের আগে দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে তারাও জোরেশোরে মাঠে নেমেছে।
জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা বলছেন, তাদের দল এবার পৃথক নির্বাচনি জোট করেছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট থেকে। প্রথমত, কোনো কারণে বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের বাইরে থাকলে নির্ঘাত সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। প্রয়োজনে এখনকার মতো সরকারের মন্ত্রিসভায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সংসদেও যৌক্তিক বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। তাই এ হিসাবকে যেসব ছোট দল প্রাধান্য দিতে চায় তারা জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করতে যোগাযোগ শুরু করেছে। এছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার স্বদেশ খবরকে বলেন, আমরা নির্বাচনকালীন জোট গঠন করেছি। প্রস্তুতি আছে একক নির্বাচন করার। সময় বলে দেবে আমরা কোন জোটে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেব। আমাদের জোটে আরও একাধিক রাজনীতিক দলের যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, ১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণ করে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নামবে ক্ষমতাসীন দলটি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আমরা ১৪ দলীয় জোট জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেব। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জোটকে সুসংহত করার পাশাপাশি জোট সম্প্রসারণের বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.) এ প্রসঙ্গে স্বদেশ খবরকে বলেন, আপাতত আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছি। এ বিষয়টির সমাধান হলে পুরোদমে নির্বাচনি মাঠে নামব। আপাতত ২০ দলীয় জোট হিসেবেই আমাদের আগামী নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সময় এবং পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই বড় দল ঘুরেফিরে ক্ষমতায় আসেÑ এ বিষয়টি বুঝতে পেরে ছোট দলগুলোও বেশ আগ্রহ নিয়ে তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে। কারণ এসব ছোট দলের শীর্ষ নেতারা জানেন তারা কখনও নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবে না। তাই বড় দলগুলোরও ওপর তারা সওয়ার হয়। এ ক্ষেত্রে আদর্শের বিষয়টি মুখে মুখে বলা হলেও ছোট দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মূল লক্ষ্য থাকে মন্ত্রী হওয়া, ব্যক্তি স্বার্থর রক্ষা করা, ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া, সরকারে থাকার সুযোগে ব্যবসাবাণিজ্যসহ নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বাইরে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে আরও একটি নতুন জোট গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ) নামে বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে থাকা একটি জোট ইতোমধ্যে রাজনীতির মাঠে আত্মপ্রকাশ করেছে। তারা আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়া যথারীতি শেখ শওকত হোসেন নীলুর গড়া ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক জোটকেও দেখা যেতে পারে। যদিও নিলুর মৃত্যুর পর তা এখন বেশ অনিশ্চিত। জাকের পার্টি, ইসলামি ঐক্যজোট, ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ একাধিক ইসলামি দলও নির্বাচনের আগে জোটগতভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাছাড়া হেফাজতে ইসলামও এবারের ভোটের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব দল ও জোটের সত্যিকার চেহারা কী হবে তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে। বিশেষ করে বিএনপির সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণার পরপরই দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে পথ চলছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনও তারা জোটবদ্ধভাবে করবে বলে জানা গেছে। এ ক্ষেত্রে সমমনা আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে এই জোটের আকার বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। এ প্রসঙ্গে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম জানান, ‘সিপিবি এবং বাসদ তো একসঙ্গে পথ চলছেই। এর বাইরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বাদে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল বামপন্থি শক্তির সমন্বয়ে বৃহত্তর জোট গঠনের প্রস্তুতিও আমাদের রয়েছে। এছাড়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ আরও ৭টি বাম ঘরানার রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা নামে একটি জোট দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয়। এ বিষয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, দেশে যদি নির্বাচনের একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে অবশ্যই আমরা মোর্চাগতভাবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেব। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বাইরে থাকা দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক ধারার সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমরা নির্বাচনি সমঝোতার বিষয়টিও মাথায় রেখে পথ চলছি।
কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নাগরিক ঐক্যকে রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণা করেছেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। গত ২ জুন সাবেক এই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা রাজনৈতিক দল নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী জোট গঠনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা। তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জনসমর্থন আদায়ে কাজ করবে এই জোট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নাগরিক ঐক্য রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরপরই শক্তিশালী জোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি জোটের বাইরে নাগরিক ঐক্যের নেতৃত্বাধীন জোট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চমক দেখাতে পারে। সে ক্ষেত্রে ছোট ছোট অনেক রাজনৈতিক দলেরই লক্ষ্য থাকবে নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে মিলে জোট গঠন করা।