কলাম

রাজস্ব আয়ের ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন করদাতা খুঁজে বের করতে হবে

২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জিত হবে না বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল নতুন ভ্যাট আইন ও আবগারি শুল্কের বিষয়টি হিসাবে রেখে। কিন্তু জনদাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে অর্থবিল পাসের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২ বছরের জন্য নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত করে এবং আবগারি শুল্ক প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কমিয়ে দেয়। ফলে অনেকেই ধারণা করেছিল, বাজেট পাসের সময় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা হবে। কিন্তু তা হয়নি। বিদ্যমান ভ্যাট ব্যবস্থাতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরকে চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা এবং সরকারের অন্যান্য বিভাগকে বাদবাকি ৪২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নতুন ভ্যাট আইন স্থগিত হওয়ায় এনবিআর রাজস্ব আদায়ে অন্তত ৫৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতিতে পড়বে। অর্থাৎ এনবিআর ১ লাখ ৯৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আয় করতে পারবে। একইভাবে সরকারের অন্যান্য বিভাগকে ৪২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের যে টার্গেট দেয়া হয়েছে, সেখানেও ঘাটতি থাকবে। কারণ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আমানতের জন্য যে আবগারি শুল্ক নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সে শুল্কও প্রত্যাহার করা হয়েছে। সে যা-ই হোক, এখন এনবিআর ও অন্যান্য বিভাগকে রাজস্ব আয়ের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে, সে অনুযায়ীই কাজ করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে এনবিআর ও অন্যান্য বিভাগকে তাদের বিদ্যমান কাজের ক্ষেত্রকে আরো বিস্তৃত করতে হবে। অর্থাৎ নতুন করদাতা খুঁজে বের করতে হবে, যারা ভ্যাট ফাঁকি দেয় তাদের চিহ্নিত করে ভ্যাট আদায় করতে হবে এবং বিভিন্ন কাজে সরকারকে যে আবগারি শুল্ক দেয়া হয়, তা সঠিক পরিমাণে দেয়া হচ্ছে কি না সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করতে হবে। এনবিআর ভ্যাটের মাধ্যমেই তার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার বেশি অংশ পূরণ করে। আমরা কেউই সাধারণত মিষ্টির দোকান, হোটেল ও বিভিন্ন শপিংমল থেকে কিছু কিনে তার বিপরীতে বিক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট পরিশোধের রসিদ নিই না। তেমনি আবগারি শুল্ক ফাঁকি দেয়ার একটা উর্বর ক্ষেত্র হলো সিনেমা হল; যাতে সারাদেশে বিপুল অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকি দেয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন দোকান বা সিনেমার টিকিটই শুধু নয়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে করদাতা ও কর আদায়কারীর যোগসাজশে ভ্যাট, শুল্ক ফাঁকির মচ্ছব চলে। এই মচ্ছবের ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে দিতে পারলেই আমরা মনে করি এনবিআর ও সরকারের অন্যান্য বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় করতে পারবে; যাতে করে রাজস্ব ঘাটতি হবে না।