রাজনীতি

সাংগঠনিক দুর্বলতায় বিএনপি : আন্দোলন নয় সমঝোতার পথে হাঁটছে দলটি!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রধান দুটি বড় দলের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ যতটা শক্তিশালী, বিএনপি ততটাই দুর্বল। রাজপথের আন্দোলনের দল বলা হয় আওয়ামী লীগকে। এর বিপরীতে বিএনপিকে বলা হয় এলিট শ্রেণির রাজনৈতিক দল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের আন্দোলনে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু বারবার আন্দোলনের কথা বললেও বিএনপি যে রাজপথের আন্দোলনে ব্যর্থ তা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বেশ ভালোভাবেই বোঝা গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানো যাবে না, তা এতদিনে নিশ্চিত করে বুঝে গেছেন বিএনপি নেতৃত্ব। তাই বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতা এমনকি দলের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কোনো নেতা মনে করেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়ন করা যাবে না। তাই গতবারের মতো হার্ডলাইনে না গিয়ে এবার নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায় বিএনপি। আন্দোলন করে দাবি আদায়ের বিষয়টি এ মুহূর্তে জোর দিয়ে ভাবছে না বলে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে। ১৫ জুলাই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৬-৭ সপ্তাহের জন্য লন্ডন গেছেন। সেখান থেকে দেশে ফেরার পর তিনি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের যে রূপরেখা দেবেন তার শেষ কথাই হবে সমঝোতা।
মূলত বিএনপি নেতাদের সামগ্রিক কর্মকা-ের কারণে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নে আন্দোলনের ওপর তেমন ভরসা করতে পারছেন না। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি যে বড় ধরনের আন্দোলন করেছিল, তার কোনো ফলাফল আসেনি মূলত দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং ঢাকা মহানগর নেতাদের ব্যর্থতার কারণেই। ঢাকা মহানগরের বিএনপি নেতারা তখন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড গ্রহণ করেছিলেন। তারা আন্দোলনের ভান করেছিলেন, আবার গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য ভেতরে ভেতরে সরকারি দলের নেতাদের সঙ্গে মিল দিয়ে চলেছিলেন। ফলে ‘অবরোধ চলবে’ ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া বাসা ছেড়ে সেই যে অফিসকক্ষে প্রবেশ করলেন, এক মাস পর বের হলেন আদালতে হাজিরা দেয়ার জন্য। আদালতে হাজিরা শেষে তিনি আর অফিসকক্ষে না ফিরে বাসায় ফিরে যান। খালেদা জিয়ার অবরোধ কর্মসূচি তার দলের নেতাদের ব্যর্থতায় এভাবেই মাঠে মারা যায়। খালেদা জিয়া তখন আশা করেছিলেন, বিএনপির ঢাকা মহানগর নেতাদের ডাকে রাজধানী ঢাকা গর্জে উঠবে, মিছিলের শহরে পরিণত হবে ঢাকা, তিন-চার দিনের অবরোধেই সরকারকে ক্ষমতা থেকে ফেলে দেয়া যাবে। কিন্তু তা হয়নি। বিএনপি নেতাদের কারণেই যে তা হয়নি, এটা পরিষ্কার হয়ে যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানের কাছে।
আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে বিএনপি কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। কাউন্সিলে দলটি একজন পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব পায়। এছাড়া কাউন্সিল করে আর তেমন কোনো সুবিধাই পায়নি দলটি। কাউন্সিলের আগে ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতি যেমন সমঝোতা ও আপসমূলক ছিল, কাউন্সিলের পরও তার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিকে যারা পরিচালনা করতো সেই সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাস ক্ষমতাসীন দলের কাছ থেকে সুবিধা নিতে নিতে আন্দোলনের কথা এক প্রকার ভুলেই যান। এই দুই নেতা এখনো আন্দোলনের কথা ভুলেই আছেন। দুই নেতার একজন সাদেক হোসেন খোকা তার ব্যবসাবাণিজ্যের আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য অসুখের কথা বলে আমেরিকায় স্থায়ী হন। আরেকজন মির্জা আব্বাস আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাংক ব্যবসায় গভীর মনোনিবেশ করেন।
ফলে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত হয়ে যায়, মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার মতো নেতারাই যদি আন্দোলনের পিঠে এরকমভাবে ছুরি চালাতে পারেন, তাহলে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের আর দোষ দিয়ে লাভ কী? মূলত খালেদা জিয়া যেদিন অফিসকক্ষ থেকে বের হয়ে আদালতে যান এবং আদালত থেকে বের হয়ে অফিসে না ফিরে বাসায় ফিরে যান সেদিনই মোটামুটি তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের ফর্মুলায় তিনি আর যাবেন না। বাস্তবিকই এরপর থেকে খালেদা জিয়া আর কোনো আন্দোলনের ডাক দেননি। রাজপথে আন্দোলন করেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাবেনÑ এমন কথাও খালেদা জিয়ার মুখ থেকে কমই শোনা যায়। এর বিপরীতে শোনা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সহায়ক সরকারের রূপরেখার কথা।
রাজনীতিতে এখন বড় রকমের প্রশ্ন হলো বিএনপি আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়ন করবে, না সরকারি দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সহায়ক সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়ন করবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে যে বিএনপি সহায়ক সরকারের দাবি আদায় করতে পারবে না তা দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব মোটামুটি নিশ্চিত। ফলে খালেদা জিয়া এবং তার লন্ডনপ্রবাসী পুত্র তারেক রহমান আন্দোলন বাদ দিয়ে এখন সমঝোতার কথাই ভাবছেন। সমঝোতার কাঠামো কী হবে, সমঝোতার শর্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মেনে নিবে কি না, আওয়ামী লীগ যদি সমঝোতায় না আসে তাহলে কী হবেÑ এখন এসব নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষণকে এক সুতায় গাঁথতেই বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডন গেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফিরলেই বোঝা যাবে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ে বিএনপি সমঝোতার পথ বেছে নেবে না আন্দোলনের পথ।
তবে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা স্বদেশ খবরকে জানান, আমরা একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকব না। কয়েকটি প্রস্তাব দেব। তবে সহায়ক সরকারের দুই ধরনের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। কাঠামোগুলোর মূলভিত্তি হচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা। খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারকে সমঝোতার প্রস্তাব দেবেন। বিএনপি অশান্তি চায় না। আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধান চায়। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নামলে অশান্তি-সহিংসতা হবে; যা দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। সমঝোতার প্রশ্নে দেশ-বিদেশের সকলেই বিএনপির পাশে থাকবেÑ এমনটি মনে করছেন বিএনপির অনেক নীতিনির্ধারক।
এতে স্পষ্টই বোঝা যায়, বিএনপি আন্দোলনে যাচ্ছে না। তারা দাবি আদায়ে সমঝোতার দিকেই যাচ্ছে এবং আশ্বস্ত হচ্ছে এই ভেবে যে সমঝোতার প্রশ্নে দেশ-বিদেশের সকলেই বিএনপির পাশে থাকবে। তাই এ মুহূর্তে বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন, বিদেশিরাই এখন বিএনপির একমাত্র ভরসা। বিএনপি চাচ্ছে, বিদেশিদের সহায়তা বা আনুকূল্য নিয়ে সহায়ক সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে। সর্বোপরি বিএনপি চাচ্ছে বিদেশিদের সহায়তা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটি সম্মানজনক উপায়ে নির্বাচনি সমঝোতায় পৌঁছতে।
জানা গেছে, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের বড় ধরনের আন্দোলনে ব্যর্থতার ফলে আগামী আন্দোলনে সফলতা আসবে সেই ভরসা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের মাঝেই নেই। তাছাড়া ঢাকা মহানগরসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কার্যকলাপে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানোটাও কঠিন হবে। এর ওপর নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে নামলে দলের শক্তিক্ষয় হবে। নেতাকর্মীরা মামলা-গ্রেপ্তারে ঘর ছাড়া হবে। ভোটের প্রচারণায় হতোদ্যম হবে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, অতীতের মতো আন্দোলন ব্যর্থ হলে বিএনপিকে এবারও চরম মূল্য দিতে হবে।
এদিকে বিএনপির কিছু বুদ্ধিজীবী এবং নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে কঠোর আন্দোলনে নামার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তাতে রাজি হননি। এতে পরিষ্কার বোঝা যায় যে তিনি সরকারের সাথে নির্বাচনি সমঝোতায় আসতে চান।
এ মুহূর্তে বিএনপির লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান; যাতে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নানা আঙ্গিকে কাজ করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে জনমত তৈরি করতে কাজ করছেন দলের অনেক নীতিনির্ধারক। তারা মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দাতা সংস্থা এবং জাতিসংঘসহ বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থা চায় বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হোক। তাই এবার সুষ্ঠু নির্বাচন ইস্যুতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানে ক্ষমতাসীনরা বাধ্য হবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে দলটি। এরপরও যদি সরকার নমনীয় না হয় এবং যখন দেশে-বিদেশে বিএনপির পক্ষে জনমত তৈরি হবে কেবল সে ক্ষেত্রেই আন্দোলনের কথা ভাববে দলটি। এ জন্য আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পাশাপাশি আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সাংগঠনিক প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে বিএনপি।
নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণার পর এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় দলটি। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কর্মসূচি বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সহায়ক সরকারের পক্ষে জনমত বাড়াতে বিভাগীয় ও বৃহত্তর জেলাগুলোতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে সভা-সমাবেশ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বদেশ খবরকে বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সমঝোতার মাধ্যমেই তার বরফ গলবে বলে আমরা আশা করছি। সবকিছুরই শেষের দিকে ভালো কিছু আসে। আমরা আশাবাদী যে বরফ গলবে। শেষ পর্যন্ত সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা সমঝোতার রাস্তা বের হবে। তবে এই সংকট থেকে উত্তরণ না ঘটলে এর সকল দায় ক্ষমতাসীনদের ওপর বর্তাবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারকে বারবার সংলাপের কথা বলা হয়েছে। এখন আলাপ-আলোচনার পথ ঠিক করতে হবে সরকারকে। মির্জা ফকরুল বলেন, এদেশের ইতিহাসে রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে নেতারা গোলটেবিল বৈঠক করেছেন। বহুদিন পর্যন্ত তখন আলোচনা চলেছে। এখন কেন হবে না? নির্বাচনকালীন সময়ে যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে তাহলে কারো পক্ষেই সেখানে সুষ্ঠু নিবার্চন করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় সহায়ক সরকার জরুরি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কয়েক মাস আগেও এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন, নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’-এর প্রস্তাব নিয়ে তার দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। সে সময় তিনি বলেছিলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকেই এই (সহায়ক সরকার) প্রস্তাব দেব। প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনায় আসতে হবে, অন্যথায় সব দায়ভার তাকেই (প্রধানমন্ত্রী) বহন করতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও স্বদেশ খবরকে বলেন, সরকারকে সমঝোতায় আসতেই হবে। দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণ সমঝোতা চায়। সরকার নিশ্চয়ই জনগণের মতামতকে মূল্যায়ন করবেন, মর্যাদা দিবেন। সকলেই চায়, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। আর সে নির্বাচনের জন্য চাই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। এটা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, আমাদের নির্বাচনে আনা সরকারের দায়িত্ব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ বিএনপির বেশির ভাগ নেতাই মনে করেন আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলনমুখী দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি আদায় কোনোমতেই সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় আসাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বিএনপির আরেকটি অংশ মনে করছে, সমঝোতার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে টলানো কখনোই সম্ভব নয়। আন্দোলনের মাধ্যমেই রাজপথের আন্দোলনের দল আওয়ামী লীগকে বাগে আনা যাবে। বিএনপি রাজপথের আন্দোলনে নামলে আন্দোলন সামাল দেয়ার জন্যই হোক অথবা দেশি-বিদেশি অন্য যেকোনো কারণেই হোক, তখনই কেবল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য সহায়ক সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সমঝোতার দিকে এগিয়ে আসবে। তবে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, বিএনপি কর্তৃক সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণার পর ওই রূপরেখা সাধারণ মানুষ ও বিদেশিদের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পায় তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।