প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে অনন্য ভূমিকা রাখছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

বিশেষ প্রতিবেদক : ঠিক বছর দশেক আগের কথাÑ যখন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নিজেই ছিল রোগাক্রান্ত। বর্ণনাতীত করুণ হাল ছিল স্বাস্থ্যখাতের। সাধারণ মানুষের ন্যায্য চিকিৎসা প্রাপ্তি তখন ছিল বিরল ঘটনার মতো। কারণ দুর্নীতি-অনিয়ম লুটপাট ছিল শিরা-উপশিরায়। বিভিন্ন প্রকল্পে বাজেটের একটি বড় অংশই যেত দুর্নীতিবাজদের পকেটে। যতটুকু কাজ হতো, তা-ও ছিল নামকাওয়াস্তে। কোথাও তেমন কোনো জবাবদিহিতার বালাই ছিল না।
স্বাস্থ্যসেবায় যে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দায়িত্ব সেটিই রুগ্ন হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয় তা অতি সহজেই অনুমেয়। তবে আশার কথা হলো বর্তমানে বদলে গেছে সেই বেহাল দৃশ্যপট। স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো উন্নয়নের এ সংস্থা এখন পরিবর্তনের বড় উদাহরণ। সরকারের চ্যালেঞ্জিং ভিশন বাস্তবায়নে প্রথম সারিতে করে নিয়েছে শক্ত অবস্থান। কিভাবে সম্ভব হলো এ অভাবনীয় অগ্রযাত্রা। বলছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. এ মোহী, পিএসসি। তিনি স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাই আমাদের পাথেয়। সেই সঙ্গে একঝাঁক নিবেদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আমরা বদলাতে পেরেছি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে। এখন কেউ দুর্নীতি খুঁজে পাবে না। প্রতিটি পর্যায়ে রয়েছে জবাবদিহিতা। স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে সবধরনের পদক্ষেপ নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।
এ বছরও মোট বাজেটের ৫ দশমিক ২ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ মোট ২০ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের একটাই উদ্দেশ্যÑ এ খাতের খোলনলচে পাল্টে ফেলা। জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর। এরই প্রমাণ মিলেছে ঘোষিত বাজেটে। সরকারের চলতি মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকা- সর্বমহলেই প্রশংসিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এগিয়ে চলছে দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সেবার মান। বাড়ছে গড় আয়ু। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এরই মধ্যে অনেক নতুন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়েছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন অনেক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো। হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ানো হচ্ছে শয্যাসংখ্যা। ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ বেড়েছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দক্ষ জনবল। সবমিলিয়ে স্বাস্থ্যখাত এখন কর্মযজ্ঞের এক বিশাল ক্ষেত্র। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অবকাঠামো বা স্থাপনা সমূহের নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালনের জন্য গঠন করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)।
সারাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে অর্থাৎ স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভূমিকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. এ মোহী, পিএসসি স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যথাযথ মান বজায় রেখে এবং যথাসময়ে এ খাতের স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে নেপথ্যে থেকে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে অনন্য অবদান রেখে চলেছে। তিনি বলেন, সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে এ দায়িত্ব পালন করা আমাদের জন্য সহজ হচ্ছে; যা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া আদৌ সম্ভব হতো না।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. এ. মোহী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহে ২০১০ সালের ২২ মার্চ প্রাক্তন প্রকৌশল ইউনিট সিএমএমইউ’কে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপার্টমেন্ট হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)-এ উন্নীত করা হয়। যদিও স্বাধীনতার অব্যবহিত পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অবকাঠামোসমূহের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম বিপিডিইউ নামে একটি পৃথক প্রকৌশল ইউনিট গঠন করেন।
দেশের ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ে ১০০ শয্যা পর্যন্ত সকল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অবকাঠামো বা স্থাপনাসমূহের নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে থাকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়া এই অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা হাসপাতাল, জাতীয় পর্যায়ের হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কারের কাজ করে থাকে।
২০১০ সালের ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে প্রাক্তন প্রকৌশল ইউনিট সিএমএমইউ’কে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপার্টমেন্ট হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) এ উন্নীতকরণ এবং এইচইডি (সাবেক সিএমএমইউ)-এর বিদ্যমান ৩৮৬টি জনবলের অতিরিক্ত আরও ১০৫টি পদ সৃজন করা হয়। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার কর্তৃক ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল বিদ্যমান ৪৯১টি পদের অতিরিক্ত আরও ১২৮টি (৩৬টি আউটসোর্সিং পদসহ) পদ অস্থায়ীভাবে রাজস্বখাতে সৃজনে সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হয়। ফলে এইচইডি’র বর্তমানে মোট জনবল সংখ্যা ৬১৯ জন।
সূত্র জানায়, এইচইডি’র কর্মপরিধি অনুযায়ী ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ, ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ, উপজেলা পর্যায়ে নতুন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ, বিদ্যমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজ, নতুন ২০ শয্যা ও ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ, উপজেলা স্টোর নির্মাণ, জেলা পর্যায়ে জেলা সদর হাসপাতালের উন্নীতকরণ কাজ, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (গঈডঈ), ঋডঠঞও, জঞঈ নির্মাণ, নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটউট অব হেলথ টেকনোলজি (ওঐঞ) নির্মাণ, মেডিকেল অ্যাসিস্টেন্ট ট্রেনিং স্কুলসহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য কাজ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)-এর ওপর ন্যস্ত। কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। জবারঃধষরুধঃরড়হ ড়ভ ঈড়সসঁহরঃু ঐবধষঃয ঈধৎব ওহরঃরধঃরাবং রহ ইধহমষধফবংয শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ২৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৫৪টি কাজ হাতে নেয়া হয়েছে, যার নির্মাণ ব্যয় ৩৫১৪৩.৬২ লক্ষ টাকা। এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৩৫টির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ১৯টির নির্মাণ কাজ চলছে। যার গড় অগ্রগতি ৬০ ভাগ। এছাড়া ৩০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক জাইকার অর্থায়নে নির্মাণাধীন আছে, যার গড় অগ্রগতি ৭৯% এবং নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮০০.০০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সর্বমোট (২৭৩৫+১৯+৩০০) = ৩ হাজার ৫৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য সর্বমোট নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩৯৯৪৩.৬২ লাখ টাকা।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এইচইডি সারাদেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ করে। সারাদেশে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (টঐঋডঈ) স্থাপন কার্যক্রমের আওতায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (টঐঋডঈ) নির্মিত হয়েছে। ২০০৯ সাল হতে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও ১৯০টি টঐঋডঈ নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে এ পর্যন্ত সর্বমোট (৩৭০৮+১৯০) = ৩৮৯৮টি টঐঋডঈ নির্মিত হয়েছে। ১৯টি কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলমান, যার গড় অগ্রগতি ৭০%। বিগত ৭ বছরে সম্পাদিত/চলমান (১৯০+১৯) = ২০৯টি কাজের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১৯৯৯২.০০ লক্ষ টাকা।
গ্রামীণ জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হয়। কালক্রমে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাস্তব চাহিদার প্রেক্ষাপটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো সম্প্রসারণ এবং মান উন্নীতকরণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষিতে এইচইডির মাধ্যমে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলে (আগস্ট ২০০৯-এপ্রিল ২০১৭) ৩৩৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬টির কার্যক্রম চলছে, যার গড় অগ্রগতি ৬৪%। এসব কাজের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১৫৮২০০.০০ লাখ টাকা।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এইচইডি নড়াইল, গাজীপুর ও নেত্রকোনা জেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ করে। উল্লেখিত ৩টি কাজের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৬১৮.৬৯ লাখ টাকা।
ঐচঘঝউচ-এর আওতায় চযুংরপধষ ঋধপরষরঃরবং উবাবষড়ঢ়সবহঃ অপারেশনাল প্ল্যানে ৯৫টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ অন্তর্ভুক্ত আছে। যার মধ্যে ডিসেম্বর’ ২০১৬ তারিখ পর্যন্ত ৭৭টির কেন্দ্রের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৯টি কেন্দ্রের কাজ শেষ হয়েছে। ২৮টি কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, যার বর্তমান গড় অগ্রগতি ৫৬.১৭%। সর্বমোট (৪৯+২৮) = ৭৭টি কাজের নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩০০৮৭.৪৫ লাখ টাকা।
এসবের বাইরে এইচইডি ৩১ শয্যা হাসপাতাল, বিভিন্ন শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস), এফডব্লিউভিটিআই, আইসিইউ, সিভিলসার্জন অফিস ভবন, বিভাগীয় পরিচালক ও উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনার অফিস ভবন, ২০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (এমসিডব্লিউসি), ইপিআই কোল্ডস্টোর, ডিটিএল, এনসিএল, ডিজিডিএ ভবন নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কারের কাজ করে। এছাড়া ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য ভবন নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। এই ভবনটি নির্মাণের কাজ করছে এইচইডি। ভবনের প্রথম পর্বের কাজ শেষ হয়েছে। ভবনটি নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় ৩৩৯২.১১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় পর্বের কাজ বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালের ২১ জুন কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। কাজের অগ্রগতি ৯৩% এবং নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৭৬.১৪ লাখ টাকা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৮-২০০১ সময়কালে নির্মিত ১০ হাজার ৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক দীর্ঘকাল যাবৎ পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় বর্তমান সরকারের আমলে পুনরায় চালুকরণের জন্য ক্লিনিকগুলোর মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। এরই মধ্যে ২০০৮-২০০৯, ২০০৯-২০১০, ২০১০-২০১১ ও ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে জিওবি রাজস্ব বাজেটের অর্থায়নের ১০ হাজার ৮১৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক মেরামত ও সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হয়েছে। এ সকল মেরামত কাজে ৯৫৮১.৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে এখানে আরও বলা যায়, সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে এগিয়ে। চতুর্থবারের এ কর্মসূচি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে। মোট বরাদ্দের মধ্যে ৯৬ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে। বাকি ১৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা আসবে বিশ্বব্যাংক ইউএনএফপিএসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকল্প সহায়তা হিসেবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তর মেগা কর্মসূচি বাস্তবায়নে অবদান রাখবে। ১৯৯৮ সাল থেকে সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। আর্থিক সামর্থ্যরে সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জনস্বাস্থ্য, পুষ্টিখাতের উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় প্রশংসার দাবিদার। বরাদ্দকৃত অর্থ যাতে সঠিকভাবে ব্যয় হয় যে দিকে লক্ষ্য রাখা হবে এমনটিই প্রত্যাশিত।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি মেগা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। চতুর্থবারের মতো নেয়া এই পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি অর্জন সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এর আগে গৃহীত ৩টি পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সক্ষমতা জুগিয়েছে। নতুন ৫ বছর মেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইপ্সিত লক্ষ্য অর্জিত হবে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকা- পরিচালনা করতে গিয়ে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়Ñ এমন এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী সঠিক দিকনির্দেশনা ও সদিচ্ছার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সার্বিক তত্ত্বাবধান, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকা- পরিচালনা করতে কোনোরূপ অসুবিধা হচ্ছে না। বরং এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও বর্তমান সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের এ ধারা আরো গতিশীল হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. এ. মোহী, পিএসসি।