কলাম

উন্মুক্ত মতামত

সরকারি চাকরিতে টাকা ছাড়া আবেদনের সুযোগ চাই

দেশে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজার হাজার ছাত্র তাদের পড়ালেখা শেষ করে বের হচ্ছে। তাদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তাই যেন নেই। একটা চাকরির জন্য দরখাস্ত করতে প্রায় ৫০০ বা তার বেশি টাকা লাগে। বেকাররা সেই টাকা পাবে কোথায়? পড়ালেখা শেষ করতে প্রায় ২৫-২৬ বছর লেগে যায়। পরিবার চেয়ে থাকে বেকারের কাছ থেকে সাহায্যের আশায়। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে চাকরির আবেদন করতে টাকা লাগে না। কিন্তু সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। সরকারি চাকরিতে আবেদন করার জন্য টাকা ছাড়া কোনো ধরনের সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিতে টাকা ছাড়া দরখাস্ত করার সুযোগ দিলে গরিব মেধাবী ছেলেমেয়েরা উপকৃত হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মাহফুজুর রহমান খান, চিনিতোলা, জামালপুর

বেতনে গ্রেড বৈষম্য দূর করুন

জাতীয় বেতন স্কেলে ২০টি গ্রেড রয়েছে। ২০টি বেতনস্কেলে বেতন পান সরকারি চাকরিজীবীরা। একটি বেতন গ্রেড থেকে অন্য আর একটি গ্রেডের যে ব্যবধান রয়েছে তার আনুপাতিক হার সমান নয়। আবার নবম গ্রেড তদূর্ধ্ব গ্রেডধারী নীতিনির্ধারকেরা হয়ত চান না তাদের ধারেকাছেও কেউ থাকুক। তাই নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা আর তার নিচের নিকটবর্তী গ্রেডটিতে মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা। পার্থক্য ৬ হাজার টাকা। যেখানে ১২ ও ১৩ গ্রেডের মধ্যে পার্থক্য ৩০০ টাকা মাত্র। নিচের অন্যান্য বেতন গ্রেডগুলোতে ব্যবধান অল্প হলেও কোনো ধারাবাহিকতা না রেখে দশম গ্রেড থেকে ওপরে লাফিয়ে লাফিয়ে ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে। মজার বিষয় হলো এই দশম গ্রেডে লোক নিয়োগ করতে তেমন একটা দেখা যায় না। সরকারি যত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হয়, তাতে দশম গ্রেড নেই, বেশিরভাগই নবম গ্রেড অথবা এগারো গ্রেডের নিচে লোক নিয়োগ দেয়া হয়। মনে হয় ইচ্ছাকৃতভাবে নিচের গ্রেডের কর্মচারীদের বাড়তে না দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লক্ষ্য করলে এই বৈষম্য দেখা যাবে। তাহলে কি দশম গ্রেডের প্রয়োজন কম? অথচ ১১, ১২ ও ১৩ বা তারও নিচের গ্রেডের লোক দ্বারা নথি উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হয়।
সাংগঠনিক কাঠামো গঠনকালে নীতিনির্ধারকেরা শিক্ষাগত যোগ্যতা অনার্স, মাস্টার্স চাইলেও বেতন গ্রেডে ভারসাম্য রক্ষা করার কথা ভাবেন না। নিচের গ্রেডগুলোতে ব্যবধান কম থাকায় অষ্টম শ্রেণি পাস একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বেতন ও স্নাতক পাস কর্মচারীর বেতন প্রায় কাছাকাছি। জাতীয় পে-স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বর্তমান টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকায় একটি গ্রেড অতিক্রম করতে সাধারণত ১১ বছর অপেক্ষা করতে হবে। যারা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পেয়ে এখন কয়েকটি গ্রেড ওপরে উঠে গেছেন তাদের সঙ্গে নব্য চাকরিজীবীদের বেতন গ্রেড ব্যবধান ও বেতন বৈষম্য অনেক। এছাড়া সরকারেরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সমজাতীয় পদে অসম গ্রেড ব্যবধান লক্ষ্য করা যায়। যেমন হিসাবরক্ষক পদটি কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১১ গ্রেডে আবার কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৩ গ্রেডে। আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই গ্রেড বৈষম্য দূর করতে সচেষ্ট হবে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মো. নুর আলম, কমলাপুর, ঢাকা

কলেজ এমপিওভুক্তকরণের আবেদন

সারা বাংলাদেশে সাড়ে ৩ হাজারের মতো নন-এমপিওভুক্ত কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা চরম অসুবিধার মধ্যে দিন যাপন করছেন। তাদের একসঙ্গে এমপিওভুক্ত করা হোক। নন-এমপিওভুক্ত থেকে তারা কেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন? তারাও তো এই রাষ্ট্রের নাগরিক। এমপিওভুক্তি তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, যাতে সমাজ এবং রাষ্ট্রও উপকৃত হবে। পরিশেষে, নন-এমপিওভুক্ত কলেজগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
মো. আবুবকর সিদ্দিক, সংযুক্ত আরব আমিরাত

রাবির ইতিহাস বিভাগের কক্ষ সংক্রান্ত সংকট নিরসন করুন

১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাস বিভাগ তার প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগ। বর্তমানে ৯টি অনুষদের অধীনে ৫৬টি বিভাগে পরিচালিত হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। সব বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ থাকলেও ইতিহাস বিভাগের জন্য নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিবর্তিত নিয়মে ক্লাসের রুটিন মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। কক্ষ সংকটের কারণে আগে সকাল-বিকেল ক্লাস নিতে হতো। বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহে দুই দিন বন্ধ হওয়ায় ক্লাসের সংখ্যা বেড়েছে। এখন সকাল-বিকেল ক্লাস নিয়েও হিসাব মেলাতে পারছে না ইতিহাস বিভাগ। কক্ষ সংকটের ফলে ছাত্রছাত্রীদের এক ক্লাস শহীদুল্লাহ কলা ভবনে করে অন্য ক্লাসের জন্য দৌড়াতে হচ্ছে সিরাজী ভবনে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। পরিশেষে, কক্ষ সংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে নেয়ার জন্য বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
মোরছালিন ইসলাম মাছুম, শিক্ষার্থী, রাবি

জনগণের সম্পদ রক্ষা করা হোক

থানায় থানায় এবং থানার অধীনে খোলা মাঠে অসংখ্য রিকশা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। রিকশার সঙ্গে সিএনজি, টেক্সি, বাস, ট্রাক এবং হোন্ডাও আছে। এগুলোর পার্টস উধাও হয়ে যাচ্ছে। গাড়ির গদি ও বডি নষ্ট হচ্ছে। সরকারের কর্তব্য জনগণের জানমাল রক্ষা করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আটককৃত এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে যে মামলাই থাকুক, তার নিষ্পত্তি করতে যতদিন লাগে লাগুক, কিন্তু মূল্যবান এসব সম্পদ নষ্ট না করে মালিকদের কাছে মামলা নিষ্পত্তির আগেই ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা যায়। যেমন বিচার নিষ্পত্তির আগেই জামিন দেয়া হয়। বিষয়টির প্রতি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. আবুল কাসেম, বাসাবো, ঢাকা

নদী খননের বিকল্প নেই

নদী দখল আর নদী খননের অভাবে দেশে এখন সর্বদাই বন্যা লেগে থাকে। এতে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ যেমন অসহায় জীবনযাপন করছে তেমনি দেশের উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। বন্যার কারণে আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে। কৃষকের মূল হাতিয়ার কৃষিজমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। ফসলি জমি নষ্ট হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে সারাদেশে। বন্যার কারণে সরকারকে অতিরিক্ত টেনশন পোহাতে হচ্ছে। বন্যার প্রভাব কমাতে তাই বিজ্ঞানভিত্তিক নদী গবেষণা সেল তৈরি করা জরুরি। সেই সঙ্গে ব্যবস্থা করতে হবে নদী খননের। নদী দখলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। তাহলে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবে এদেশের মানুষ। তাই আসুন মানুষকে বন্যা থেকে বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
মো. আজিনুর রহমান লিমন
ডিমলা, নীলফামারী