প্রতিবেদন

দ্য ডিপ্লোমেট পত্রিকায় সজীব ওয়াজেদ জয় : দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভালো

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় জাপানের টোকিওভিত্তিক অনলাইন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ম্যাগাজিন ‘দ্য ডিপ্লোমেট’কে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভালো। ‘দ্য ডিপ্লোমেট’ পত্রিকায় ২৪ জুলাই প্রকাশিত এক নিবন্ধে জয় আরো লেখেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তবে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
জাপানের টোকিওভিত্তিক অনলাইন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোমেট-এ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় তুলে ধরা হয়। সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, দূরবর্তী আবহাওয়া বিষয়ে এবং দুর্গত মানুষ ও প্রকৃতির পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি অনেক ভালো। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জনগণের জান-মাল রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এ দেশের অবস্থান বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানি অভিমুখে। তাই প্রতি বছর এখানে প্রলয়ঙ্করী ঝড় বয়ে যায়।
সজীব ওয়াজেদ জয় লেখেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ ভূমি এবং এর ১৬ কোটি মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠের ৪০ ফুটের সামান্য ওপরে বসবাস করে। ফলে বাংলাদেশ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের বেশ কয়েকটির শিকার হয়েছে। ১৯৭০ সালে এক প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশে আনুমানিক তিন লাখ লোক নিহত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ তার আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে শুরু করে। ফলে বাংলাদেশ পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলোর ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়। জয় লিখেছেন, বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনার অন্যতম স্তম্ভ হলো ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি, যা প্রণীত হয় বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও বাংলাদেশের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে। এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ তার নাগরিকদের ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে অবহিত করে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের কয়েকটি উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় সিডর বয়ে যাওয়া পর এই আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাটি চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা করা হয়। প্রচ- গতিতে বয়ে যাওয়া ওই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দেয়ার প্রয়োজন পড়েছিল। তাই বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উন্নয়ন চাইলে আওয়ামী লীগে ভোট দিন
সজীব ওয়াজেদ জয় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ উন্নয়নের জন্য ক্ষমতায় আসে, আর বিএনপি চায় শুধু ক্ষমতা। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, তার দল ‘চার দফা ক্ষমতায় থাকায়’ মালয়েশিয়া উন্নয়নের এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২৫ জুলাই আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সিআরআই’র ‘লেটস টক’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই মতবিনিময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
তথ্যপ্রযুক্তি থেকে অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং রাজনীতি ও যানজটের মতো সমসাময়িক বিষয়সহ নানা বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছে জানতে চান তারা। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও করা নানা প্রশ্নের জবাব দেন সজীব ওয়াজেদ জয়। দেড় বছর পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। মতবিনিময়ের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি তরুণদের মুখোমুখি হন। গত ২৫ জুলাই সিআরআই’র ‘লেটস টক’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মতবিনিময়কালে জয় বলেন, বাংলাদেশে ১০ কোটির মতো ভোটারের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি তরুণ ভোটার। তাদের উদ্দেশে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘তরুণদের জন্য আমাদের একটাই বার্তাÑ আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। আর তার জন্য আপনাদের আবারো আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে হবে। আওয়ামী লীগই তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করে মন্তব্য করে জয় বলেন, ‘আপনারা তার ফল দেখতে পাচ্ছেন। সব জায়গায় উন্নয়ন হয়েছে, দেশ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার কোনো বিকল্প নেই।’
প্রশ্নোত্তরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অর্জনের ওপর আলোকপাত করেন জয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে বেশি আমরা অর্জন করেছি। আমরা এটা করতে পারব তা কেউ ভাবেনি। আমরা আমাদের লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে গেছি, যা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি।’ এই অর্জনের জন্য সব মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান সজীব ওয়াজেদ জয়। তবে ভবিষ্যতের কোনো সীমা নেই উল্লেখ করে এক প্রশ্নের জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন একটি বড় কাজ হবে। আগামী বছর নাগাদ ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।’
বিএনপির মিথ্যাচারের জবাব
উচ্চৈঃস্বরে দিতে হবে
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপির মিথ্যাচারের জবাব উচ্চৈঃস্বরে দিতে হবে। এ জন্য তারা (বিএনপি) যেসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সেই একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদেরও উচ্চৈঃস্বরে এর জবাব দিতে হবে। ২৫ জুলাই ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলীয় নেতাদের তিনি এ পরামর্শ দেন। জয় বলেন, গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সরকারবিরোধী বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানাতে হবে। প্রয়োজনে লিগ্যাল নোটিশ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, তথাকথিত সুশীলরা সরকারবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন। এসব সুশীলের কথাবার্তারও প্রতিবাদ করতে হবে। এই কাজগুলো আমাদের এমনভাবে করতে হবে, যাতে কোনো মহল বাড়তি অ্যাডভানটেজ নিতে না পারে। জয় বলেন, প্রান্তিক জনগণের কাছে বিএনপিসহ অন্যান্য দল সরকারবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত আছে। প্রান্তিক জনগণকে গিয়ে বোঝাতে হবে আপনাদের চাহিদা আমরা পূরণ করছি। আপনারা অন্যজনের কাছে কেন যাবেনÑ এটা তাদের বোঝাতে হবে। নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও, সহিংস ঘটনা, পেট্রোল বোমা ও দুর্নীতি বিষয়গুলো জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক প্রচারণা আরো বাড়াতে হবে।