প্রতিবেদন

স্বর্ণদ্বীপ : সরকারের সহায়তায় এবং সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় তৈরি হচ্ছে সম্ভাবনার নতুন আরেক বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্বীপটির নাম ছিল জাহাইজ্জার চর। জলদস্যুদের দখলে ছিল এই চর। নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত এই দ্বীপটি দীর্ঘকাল ধরে জলদস্যুদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল এবং তাদের কার্যক্রমে এই অঞ্চলে বেসামরিক প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। এ অবস্থায় আজ থেকে ৪ বছর আগে ২০১৩ সালে জাহাইজ্জার চরের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে সেনা সদরের প্রস্তাবে এই চরের নামকরণ করা হয় স্বর্ণদ্বীপ। সম্ভাবনার নতুন আরেক বাংলাদেশের নাম এখন স্বর্ণদ্বীপ।
সরকারের সহায়তায় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে চরটিকে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে একটি সেনানিবাস গড়ে তোলার কাজও চলছে। সেনানিবাসের নামকরণ করা হয়েছে ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’।
সরকারের সহযোগিতা ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় স্বর্ণদ্বীপ এখন আসলে পুরোপুরি একটি ক্যান্টনমেন্ট। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি স্বর্ণদ্বীপে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ম্যানুভার অনুশীলন-২০১৬ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়া উদ্বোধন ও প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যান্টনমেন্টেই এই ধরনের মহড়ার আয়োজন করা সম্ভব। ওই মহড়ায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন সংযোজিত ট্যাংক এমবিটি-২০০০, এপিসি বিটিআর-৮০, সেল্ফ প্রোপেলড আর্টিলারি গান, নোরা-বি-৫২, রাডার ভেহিকল এসএলসি-২, ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল এমইটিআইএস-এম-১ সমরাস্ত্রের ব্যবহার হয়। ম্যানুভার অনুশীলন-২০১৬ মহড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আজকের (৭ জানুয়ারি) এই মহড়া সেনাবাহিনীর দক্ষতা ও পেশাদারিত্বেরই প্রতিফলন, যা একটি আধুনিক ও শক্তিশালী সেনাবাহিনীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ১১ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফ আশরাফ মহড়াটি পরিচালনা করেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর মহড়া অবলোকন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা চর স্বর্ণদ্বীপ সফর করেন। হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণদ্বীপ পৌঁছে মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টারের উদ্বোধন করেন এবং সেখানে একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লে. জেনারেল আনোয়ার হোসেন দ্বীপটি ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ ও কর্মকা- নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিফ করেন।
নোয়াখালীর দক্ষিণে ১৯৭৮ সালে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠে এই চর। ৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই চরটি ২০১৩ সালে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং বসতি স্থাপনের উপযোগী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সাগর পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা মাত্র ৩ মিটার। সেনাবাহিনী দ্বীপটির দায়িত্ব গ্রহণের ৪ বছরে দ্বীপটির অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এখানে দু’টি সাইক্লোন শেল্টার এবং একটি কন্টেইনার বেইজড ক্যাম্প তৈরি হয়েছে। স্বর্ণদ্বীপে বিচরণকারী মহিষের দুধ কাজে লাগাতে তৈরি করা হয়েছে পনির উৎপাদন কারখানা। স্বর্ণদ্বীপ-এর প্রশিক্ষণ এলাকার সুপরিকল্পিত ব্যবহার দেখে এবং এলাকাটির সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি স্বর্ণদ্বীপ সফরে গিয়ে বলেছিলেন, আমি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়ার সকল অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সৈনিকদের; যারা তাদের পরিবার পরিজন ছেড়ে এই নির্জন দ্বীপের বৈরী ও প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থান করছেন, রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে এই দ্বীপটিকে সত্যিই একটি স্বর্ণদ্বীপ-এ পরিণত করেছেন। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি সুদক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত বাহিনী রূপে সমগ্র বিশ্বে সুপ্রতিষ্ঠিত। শেখ হাসিনা আরো বলেছিলেন, এই দ্বীপে আরো তিনটি সাইক্লোন শেল্টার অতি দ্রুত তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী এই দ্বীপে বসবাসকারীদেরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এত অল্প সময়ে এত বিপুল কার্যক্রম সত্যিই ভূয়সী প্রশংসার দাবিদার। এ জন্য আমি সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের জানাই অভিনন্দন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত এই দ্বীপটি দীর্ঘকাল ধরে দুষ্কৃতকারীদের অভয়ারণ্য হিসেবেই পরিচিত ছিল। তাদের কার্যক্রম এই অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনধারাকে ব্যাহত করেছিল। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর সুষ্ঠু প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের জন্য একটি সংরক্ষিত প্রশিক্ষণ এলাকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের সরকার ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই বিস্তৃত চরাঞ্চলে প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং বসবাসযোগ্য ও সামাজিক বনায়নের দায়িত্ব প্রদান করে। আমি জেনে আনন্দিত, মাত্র তিন-চার বছরে এই চরের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। অত্যধিক লবণাক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই চরের জমিতে বিভিন্ন প্রকারের ধান ও রবি শস্য চাষ হচ্ছে। এখানে বিশেষ পদ্ধতিতে নারিকেল বাগান করা হয়েছে। চরের ক্ষয়প্রবণ ভূমিকে ধরে রাখার জন্য কেওড়া বাগান করা হচ্ছে। এছাড়াও খাদ্য সংস্থান সাপেক্ষে মহিষ, গরু, ভেড়া, হাঁস ইত্যাদি পালন করা হচ্ছে। গবাদি পশুদের নিরাপত্তায় ক্যাটল শেল্টার হিসেবে মুজিব কিল্লা নির্মাণাধীন। এর ফলে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় গড়ে তোলা এই নতুন লোকালয়ের জানমাল নিরাপদ হবে।
জনসেবামূলক কর্মকা-ে সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, শীতকালীন প্রশিক্ষণ চলাকালে শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান তথা আপনাদের কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রমের কথা জানতে পেরে আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। দেশ ও জনগণের সেবায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রয়েছে সর্বজন স্বীকৃত গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুর্গত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সবসময়। বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা মোকাবিলাতেও জনগণ আপনাদের একান্ত সাহায্য ও অকৃত্রিম সহযোগিতা পেয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে ফ্লাইওভার নির্মাণ, পরিবেশ উন্নয়নে হাতিরঝিল প্রকল্প এবং অগ্নিকা- ও অন্যান্য দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেশবাসীর ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। দীর্ঘ কক্সবাজার-টেকনাফ প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকি, ঢাকা-মাওয়া ও জাজিরা-ভাঙ্গা সংযোগ সড়ক বর্ধিতকরণ, সীমিত আকারে নদী শাসন, পদ্মা সেতুতে প্রথম দিন হতেই ট্রেন চালু করার লক্ষ্যে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প’র সুপারভিশন পরামর্শক হিসেবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের ৬ মাস পর গত ১৮ জুলাই স্বর্ণদ্বীপ পরিদর্শনে যান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সেখানে তিনি বলেন, নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপ হবে নতুন আরেকটি বাংলাদেশ। এই দ্বীপের উন্নয়নে বন মন্ত্রণালয় থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে। দ্বীপটি বসবাস উপযোগী করে তুলতে এখানে বেশি করে তাল, ঝাউ ও কেওড়া গাছ লাগানো হবে। স্বর্ণদ্বীপে সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত উন্নয়ন কর্মকা- পরিদর্শন এবং স্বর্ণদ্বীপ সমন্বিত সবুজ প্রকল্পের উদ্বোধনকালে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এই দ্বীপে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে। এখানকার মহিষের খামারিরা দুধ উৎপাদন করে আরো বেশি লাভবান হতে পারেন। বর্তমান সরকারও দুগ্ধ খামারিদের নানা সহায়তা করছে।
সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে স্বর্ণদ্বীপ পৌঁছান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। এ সময় সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল রাশেদ আমিন, এমএনকিউ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মামুনুর রশীদ, প্রধান বন সংরক্ষক মো. সফিউল আলম চৌধুরী ও বন সংরক্ষক অসিত রঞ্জন পাল মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। স্বর্ণদ্বীপ পৌঁছানোর পর মন্ত্রীকে দ্বীপের ময়নামতি ক্যাম্প মিলনায়তনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বীপে সেনাবাহিনী পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- সম্পর্কে পরিবেশ ও বনমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফ করেন মেজর জাহিদ উদ্দিন। ব্রিফিংকালে মেজর জাহিদ উদ্দিন বলেন, স্বর্ণদ্বীপের নাম ছিল জাহাইজ্জার চর। নদী থেকে এর উচ্চতা ৩ মিটার। সাগর-নদীবেষ্টিত এই চরটি ছিল একসময় জলদস্যুদের অভয়ারণ্য। ২০১৩ সালে ৩৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই চরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। সরকারের সহায়তা ও সেনাবাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চরটিকে ইতোমধ্যে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পরবর্তীতে সেনা সদরের প্রস্তাবে এই চরের নামকরণ করা হয় স্বর্ণদ্বীপ।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ইতোমধ্যে স্বর্ণদ্বীপে প্রায় ৬০ হাজার ঝাউগাছ, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামের দেড় হাজার সিয়াম নারিকেলের চারা ও ১ হাজার ৭০০ ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে। এখানে হাঁস, মুরগি, ভেড়া, মহিষের খামার গড়ে তোলা হয়েছে। মহিষের দুধ থেকে পনির উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। দ্বীপটি রক্ষায় ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ দ্বীপে ২টি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টার স্থাপন করা হয়েছে। এমন আরো ৩টি শেল্টার স্থাপন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বর্গাচাষ, মহিষ-ভেড়া পালন, মাছ চাষসহ বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত ৪ হাজার ৩৭৯টি পরিবারের ১৬ হাজার ৩৭০ জন দরিদ্র মানুষ এ দ্বীপের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ সুবিধা পাচ্ছেন।
ব্রিফিং শেষে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ময়নামতি ক্যাম্পের সামনে এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে মন্ত্রী মহিষের দুধ থেকে পনির উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রী খামারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে মন্ত্রী খামারিদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তাদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। পরে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া তিনি প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা সেনানিবাস ঘুরে দেখেন। এ সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, স্বর্ণদ্বীপের এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুবই প্রিয়। এখানে অনেক কিছু করার আছে। মন্ত্রণালয় থেকে যা কিছু করা সম্ভব আমরা করব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলাপ করা হবে। তিনি সবসময় এ দ্বীপের খোঁজখবর রাখছেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সরকারের সহায়তায় এবং সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় এ স্বর্ণদ্বীপ একসময় আরেকটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে।