প্রতিবেদন

বঙ্গবন্ধুপুত্র শহীদ শেখ কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তারা : ক্ষমতার কাছে থেকেও শেখ কামাল ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৫ আগস্ট পালিত হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের ৫ আগস্ট তিনি তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালোরাতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হন তিনি। মৃত্যুর মাসখানেক আগে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মেহেদির রং মুছতে না মুছতেই হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হন তিনি। বহুমাত্রিক অনন্য সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী, তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক শহীদ শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) পাস করেন। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক শিার অন্যতম উৎসমুখ ছায়ানট-এর সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন শেখ কামাল। শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় প্রচ- উৎসাহ ছিল তার। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা। সে সময়ের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠীরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।
শেখ কামাল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশন লাভ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন এবং শাহাদতবরণের সময় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদতবরণের সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীা দিয়েছিলেন।
শেখ কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আবাহনী লিমিটেডের কর্মকর্তারা। ওই দিন আবাহনী লিমিটেডের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের সভাপতিত্বে শেখ কামালের কর্মময় জীবনের ওপর আলোচনাসভা ও স্মৃতিচারণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফজলে নূর তাপস, কাবের পরিচালক হারুনুর রশীদ, কাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদ, আবদুস সাদেক, কাজী ইনাম আহমেদ, আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমান, এলমেথ বি কবির, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও যুব ক্রীড়া বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টু। অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে সম্মিলিত ক্রীড়া পরিবার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া পরিবারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হারুনুর রশীদ, সদস্য সচিব ফজলুর রহমান বাবুল, দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুলসহ অনেকে।
দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ধানমন্ডির আবাহনী কাব প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছে আওয়ামী লীগ। বনানী কবরস্থান সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। একইভাবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এ উপলে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৫ আগস্ট জাতীয় প্রেসকাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শহীদ শেখ কামালের ৬৮তম জন্মবার্ষিকী উপলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মতার কাছে থেকেও শেখ কামালের কোনো হাওয়া ভবন ছিল না। বাংলাদেশে একজন মতায় আসেন, হয়ে যায় বিকল্প পাওয়ার সেন্টার, হাওয়া ভবন গড়ে তোলেন। গর্ব করে বলতে পারি বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের কোনো হাওয়া ভবন ছিল না। মতার কাছে থেকেও শেখ কামাল মতার অপব্যবহার করেননি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ কামালের মধ্যে যেসব গুণাবলি ছিল তা তার সমসাময়িককালে কারো মধ্যে আমি দেখিনি। শেখ কামাল পরবর্তী নির্বাচনের জন্য কাজ করেননি, তিনি কাজ করেছিলেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।
সতীর্থ-স্বজন আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, জাতীয় প্রেসকাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সভায় বক্তারা বলেন, শেখ কামাল ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ছিলেন। তার আচার-আচরণ ও ব্যবহারের মধ্য দিয়ে কোনো সময়ই প্রকাশ করেননি যে তিনি জাতির জনকের সন্তান। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। নিজে খেলতেন। বিশেষ করে ক্রিকেট ও বাস্কেটবল খেলতে ভালোবাসতেন। ফুটবল এবং হকি স্বাভাবিকভাবে খেলতেন। নাটক করতেন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন।