অর্থনীতি

বিনিয়োগ বাড়াতে সিঙ্গাপুর নিউজিল্যান্ডের পলিসি অনুসরণ করবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডুইং বিজনেস বা ব্যবসা সহজীকরণে সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের সফল দেশসমূহ যে পলিসি চর্চা করে বাংলাদেশও সেই পলিসি অনুসরণ করতে চায়। এ পলিসি অনুসরণ করলে দেশে আরও বিদেশি বিনিয়োগ হতে পারে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন ল্যমাত্রা বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ।
৮ আগস্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সিঙ্গাপুর সফর নিয়ে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপ-বিডা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, বাণিজ্য সচিব শুভাশীস বসু, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাশেম খান, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। মূলত সরকারি ও বেসরকারি খাতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুর সফরে যান। সেখানে জাপান এবং সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডুইং বিজনেসে সিঙ্গাপুর ও নিউজিল্যান্ড হলো পৃথিবী সেরা। আমরা সিঙ্গাপুর থেকে ডুইং বিজনেসের সেরা চর্চা সম্পর্কে জেনে বুঝে এসেছি; যা বাংলাদেশে আরও বিদেশি প্রত্য বিনিয়োগ-এফডিআই আনতে সহায়ক হবে। সিঙ্গাপুর সফর নিয়ে তিনি বলেন, মূলত জাপান ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার জন্য গত বছর জাপানের সেরা কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে একটা প্রোগ্রাম করার কথা ছিল। কিন্তু গুলশানের হলি আর্টিজানে দুঃখজনক ঘটনার পর সেটা আর করা সম্ভব হয়নি। এবার সিঙ্গাপুরে বসে সেই প্রোগ্রাম করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সিঙ্গাপুরে ব্যবসা নিয়ে নানাভাবে পর্যালোচনা করেছি। আমরা দেখেছি কোম্পানির ফি নির্ধারণ করা হয় ফাট রেট অনুসারে; যেখানে বাংলাদেশে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন অনুসারে করা হয়। আবার বাংলাদেশে কোনো কোম্পানি এজিএম করতে না পারলে হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হয়। সেখানে আবার এমন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। আমরা ট্যাক্স, ডুইং বিজনেস এবং ব্যবসার অনূকুল পরিবেশ বিষয়গুলো সফলভাবে তুলে ধরেছি।
ব্যবসায়ী আবুল কাশেম খান বলেন, আশিয়ানভুক্ত ৬টি দেশে জাপানের প্রতি বছরে বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন ডলার। ওইসব দেশে শ্রমিকের মজুরি ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে। যা নিয়ে ওইসব দেশের ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। এ েেত্র বাংলাদেশ এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। এ ২০ বিলিয়নের মধ্যে ১০ শতাংশ বা ২ বিলিয়ন বিনিয়োগ যদি আসে তবে অনেক বড় ব্যাপার হবে বাংলাদেশের জন্য। তিনি বলেন, আমরা সেখানে তাদের বুঝাতে সম হয়েছি। বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ ভালো। বিশেষ করে হলি আর্টিজান ঘটনার পর জাপানের ব্যবসায়ীদের যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল তা কাটিয়ে ওঠার প্রথম ধাপ সফলভাবে আমরা অতিক্রম করতে পেরেছি।
আরেক ব্যবসায়ী কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জাপানের ব্যবসায়ীদের কাছে বিনিয়োগের সুবিধা ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেছি। জাপানিদের সঙ্গে ব্যবসায়িক আলোচনা করা কঠিন। তবুও সফলভাবে আলোচনা করেছি। শিগগিরই হয়ত বিনিয়োগ নিয়ে আসবে। একইভাবে সিঙ্গাপুরের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা ১০০ বিনিয়ন ডলার বিনিয়োগের চিন্তা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য সিঙ্গাপুরের প্রোগ্রাম সফল হয়েছে।
বিডা চেয়ারম্যান বলেন, গত বছর সারা পৃথিবীতে ১৪ শতাংশ এফডিআই কমেছে। সেখানে বাংলাদেশের এফডিআই ৪ শতাংশ বেড়েছে। তাই বাংলাদেশের এফডিআই শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, জাপানের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগ গন্তব্যের ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৩। কিন্তু দেশটির স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব বেশি জানে না। হলি আর্টিজানের পর বৈঠক করে আমরা বুঝতে পারলাম, সেটি কেটে যাচ্ছে।
বাণিজ্য সচিব শুভাশীস বসু বলেন, সিঙ্গাপুর ও জাপানের বিনিয়োগকারীরা বেশ কিছু সংস্কারের কথা জানিয়েছে। যেমন কোম্পানি আইন তার মধ্যে রয়েছে। আইনটি বেশ কয়েকবার সংশোধেনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে এখন আবার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা হবে। আইনটি যুগোপযোগী করা হবে।