প্রতিবেদন

যে কারণে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা-২০১৪ সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা-২০১৪ সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিধিমালার কোন অংশের কী সংশোধন করতে হবে, সেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপকে। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগও বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। গ্রামীণ ব্যাংকে সহজে পরিচালক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাসভবনে এক জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ার এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন কুমার নাগ উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় আড়াই বছর পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই চলছে ব্যাংকটি। ২০১৫ সালের ৭ ফেব্র“য়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সদস্যদের নির্বাচিত ৯ প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হয়। এর পরে আর ওই ৯ জনকে নির্বাচিত করা হয়নি। সেই থেকে সরকারের নিয়োগ করা তিন পরিচালক ও ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ না থাকায় ব্যাংকটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং কর্মকা-ে শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে গত ১৬ জুলাই গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক অর্থমন্ত্রীকে এক চিঠি দেন। চিঠিতে মোজাম্মেল হক ব্যাংকটির পর্ষদ গঠনের জন্য গ্রামীণ ব্যাংক বিধিমালা ২০১৪-এর কিছু বিধি সংশোধন করে সহজে ব্যাংকের পরিচালক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ জানান। তিনি বিধিমালা তৈরির আগে যেভাবে ব্যাংকটির পরিচালক নির্বাচন হতো সে অনুযায়ী নির্বাচন করার প্রস্তাব করেছেন।
মোজাম্মেল হকের চিঠির পরিপ্রেেিত অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানের প্রস্তাব কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যানের প্রস্তাব বাস্তবায়নে আইনের কোনো পরিবর্তন দরকার হবে কি নাÑ সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে যে মামলা চলমান রয়েছে, তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মামলার পাশাপাশি কিভাবে বিধি সংশোধন করা হবে তা নিয়েও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে মোট ১২ জন পরিচালক থাকার বিধান রয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন পরিচালক ব্যাংকটির সদস্য শেয়ারহোল্ডারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কথা। বাকি ৩ জন পরিচালক সরকার মনোনীত। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন হয়। নির্বাচিত পরিচালকরা ওই বছরের ৮ ফেব্র“য়ারি পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং ২০১৫ সালের ৭ ফেব্র“য়ারি নির্বাচিত পরিচালকদের মেয়াদ শেষ হয়। এসব পরিচালকের মেয়াদপূর্তির আগেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করার কথা। কিন্তু ২০১৪ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা করা হয়। ওই বিধিমালা অনুযায়ী পর্ষদের পরিচালক নির্বাচন হবে ৩ সদস্যের একটি কমিশনের অধীনে। ওই কমিশন এখনও গঠন করতে পারেনি সরকার। প্রথমে বলা হয়েছিল, আইন পাসের ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু কমিশন গঠন না হওয়ায় এই ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, কমিশন গঠনের ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে। কমিশন কবে গঠন হবে তা বলা হয়নি। এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় ২০১২ সালে নির্বাচিত পরিচালকরা পরিচালনা পর্ষদে তাদের সদস্যপদ বহাল আছে দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেছেন। এ পরিপ্রেেিত আদালত রুল জারি করে এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত জনৈক সদস্য এ বিষয়ে স্বদেশ খবরকে বলেন, বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান থাকায় এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়াটা বেশ জটিল। তারপরও ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার জন্য যত দ্রুত সম্ভব এক্ষেত্রে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার চেষ্টা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।