প্রতিবেদন

রপ্তানি বাড়াতে থাইল্যান্ডের কাছে ৩৬ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড সরকার। তবে এফটিএ না হওয়া পর্যন্ত থাইল্যান্ডের বাজারে পাটপণ্য, পোশাক, জুতাসহ ৩৬ পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে থাইল্যান্ড।
রাজধানী ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার চতুর্থ জয়েন্ট ট্রেড মিটিং (জেটিসি) শেষে ১০ আগস্ট যৌথ বিফ্রিংয়ে এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও থাইল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদি তানট্টাপর্ন।
এর আগে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার ৪র্থ জয়েন্ট ট্রেড কমিটির (জেটিসি) সভা ৯ আগস্ট শুরু হয়। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সচিব পর্যায়ের এ সভায় বাংলাদেশের পে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু ও থাইল্যান্ডের পে নেতৃত্ব দেন দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেড নেগোসিয়েশনের মহাপরিচালক বানিয়ারিত কালায়ানমিথ। ইতঃপূর্বে জেটিসির তৃতীয় সভা ২০১৩ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, প্রায় ৪ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া সভায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করার উপায় পর্যালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। এরই অংশ হিসেবে থাইল্যান্ডের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি দল এ সভায় যোগ দিতে ঢাকায় আসে। বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাকি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তা প্রসারের সম্ভাব্য ত্রে ও কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, ফুড প্রসেসিং এবং ুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে এ সভা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে দ্বিপাকি আলোচনায় বাংলাদেশের বেসরকারি উদ্যোক্তারা লাভবান হয় বলে জানা গেছে।
১০ আগস্ট যৌথ ব্রিফিংয়ের আগে সরকারি পর্যায়ে থাইল্যান্ড থেকে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) করে বাংলাদেশ। এ চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থাইল্যান্ড থেকে চাল আমদানি করতে পারবে। নিজ নিজ দেশের পে চুক্তিতে স্বার করেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও থাইল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদি তানট্টাপর্ন ।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি করার জন্য আলোচনা করেছি। যত দিন এফটিএ না হয় তত দিন আমরা ৩৬টি পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছি। তারা বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দ্বিপীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে ৬৬ কোটি ৯১ ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। তার বিপরীতে রপ্তানি করে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি ডলারের পণ্য। গত অর্থবছর বাংলাদেশ ৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। আপিরাদি তানট্টাপর্ন বলেন, আমাদের ল্য ২০২১ সালের মধ্যে দ্বিপীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়া। কেবল বাণিজ্য নয়, বাংলাদেশে আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে চান। বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও হস্তশিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কৃষিতে থাইল্যান্ড বেশ এগিয়ে আছে। সে জন্য আমরা তাদের কাছে কৃষি ও মৎস্য খাতের জন্য প্রযুক্তি সহায়তা চেয়েছি। এছাড়া আমাদের ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটিতে থাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। তিনি জানান, থাইল্যান্ডের ১০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের ১৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আছে।
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার পঞ্চম জয়েন্ট ট্রেড মিটিং (জেটিসি) আগামী বছর থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।
বণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে থাইল্যান্ড থেকে ১০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এর বিপরীতে রপ্তানি হচ্ছে প্রায় ৪ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের পণ্য। দেশটিতে প্রতি বছর মাত্র ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। যদিও দেশটির প্রতি বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪২ কোটি ডলারের পোশাকের চাহিদা রয়েছে। এ অবস্থায় বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে এবার জেটিসি বৈঠকে পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ড আগে ২২৯ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিত। ২০০৭ সাল থেকে এ সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০০৬ সাল থেকে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) আওতায় মুক্ত বাণিজ্য হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এফটিএ এখনো হয়নি। ফলে ঝুলে আছে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা। তবে একই সময়ে দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট ন্যাশনসের (আসিয়ান) এফটিএ কার্যকর হওয়ায় চীন ও ভারত দেশটিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও থাইল্যান্ডে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে না।